বিউটি পার্লারের মালকিনের অনৈতিক কাজ কর্মের বাধা দেওয়ায় হেনস্তা বৈধ দোকান মালিককে দুর্গাপুরে

0
825

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দেশ কোভিড আক্রান্ত হওয়ার অনেক আগে থেকেই শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুর জুড়ে একাধিকবার কিছু বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে বহু আপত্তিকর সংবাদ বারবার শিরোনামে উঠে এসেছে । দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে নির্দিষ্ট কিছু বিউটি পার্লারে চলে দেহ ব্যবসা ও নারীঘটিত কাণ্ডকারখানা । এমন অভিযোগ পেয়ে দুর্গাপুর পুলিশের পক্ষ থেকে বহুবার অভিযান চালিয়ে একাধিক বিউটি পার্লার থেকে বহু মহিলাকে আটক করার ঘটনা ঘটেছে ইতিপূর্বে । শিল্পাঞ্চল শহরজুড়ে একাধিক বিউটি পার্লারের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুর্গাপুর প্রশাসন, দেওয়া হয়েছে একাধিক নির্দেশিকা । কিন্তু তাও দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে কিছু বিউটি পার্লারের বিরুদ্ধে বহু আপত্তিকর সংবাদ এখনো আসছে । শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরে বহু বিউটি পার্লার থাকলেও একাধিক বিউটি পার্লারে বৈধ কাগজপত্র নেই বলে জানা গেছে। আর বৈধ কাগজপত্র না থাকার কারণে বিভিন্ন বিউটি পার্লারের মালকিন’রা বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করে তাদের এই অবৈধ ব্যবসাকে নৈতিক প্রমাণ করার চেষ্টা করে চলেছেন ।

অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য দোকানঘর ছেড়ে দিতে চাপ দেওয়ায় চন্ডিদাস বাজারে এক বৈধ দোকান মালিককে হেনস্থার শিকার হতে হচ্ছে বিউটি পার্লারের মালকিনের কাছ থেকে অভিযোগ । দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপে চন্ডীদাস বাজারে স্থানীয় বেনাচিতি বাজারের এক ছাপাখানার মালিক সুজয় দত্তের স্ত্রী শম্পা দত্ত একটি বিউটি পার্লার চালান। ওই দোকান ঘরটি বৈধ মালিকের সাথে বিউটি পার্লারের মালকিন শম্পা দত্তের একটি গন্ডগোল হয় ১৪ জুলাই রাত্রি আটটা নাগাদ । সূত্র মারফত জানা গেছে, চন্ডিদাস বাজারে ওই দোকান ঘরটি দুর্গাপুরের এক ব্যবসায়ী দীপক ভট্টাচার্য নামে রয়েছে ।

গত ২০১৪ সাল থেকে শম্পা দেবী ওই বিউটি পার্লার করার জন্য ওই ঘরটি ভাড়া নেন দীপক ভট্টাচার্যের কাছ থেকে মাসিক ৫০০০ টাকার চুক্তিতে । অর্থ্যাৎ দীপকবাবুর সাথে উক্ত ওই দোকানঘর টির ভাড়া ১১ মাসের একটি চুক্তি হয় শম্পা দেবীর সাথে । সেইমতো ২০১৪ সাল থেকে ২০২০ র ফেব্রুয়ারি মাস পর্যন্ত প্রতিবছরই ১১ মাস পর পর নতুন নতুন চুক্তিপত্র হয় এবং সঠিকভাবে ভাড়া বৃদ্ধি ও হয়। এ পর্যন্ত দোকানের বৈধ মালিক দীপক ভট্টাচার্যী সমস্ত রকম ভাড়া ঠিক ঠাক পেয়ে এসেছেন বলে জানিয়েছেন।

কিন্তু গন্ডগোল লাগে ২০২০র ফেব্রুয়ারি মাসের পর থেকে। নিজের ব্যবসায়িক কাজের জন্য এবং অনৈতিক কার্যকলাপের জন্য দীপক ভট্টাচার্যী তার ওই উক্ত দোকানটি শম্পা দেবীকে ছেড়ে দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেন। কারণ তার চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছিল ইতিমধ্যেই। কিন্তু শম্পা দেবী বিভিন্ন টালবাহানায় তা বিলম্বিত করতে থাকেন বলে অভিযোগ দীপক ভট্টাচার্যের । দীপক ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন বেনাচিটির ছাপাখানার ব্যবসায়ী সুজয় দত্ত তার পরিচিত এবং তার ছাপাখানা থেকেই তার ব্যবসা সংক্রান্ত সমস্ত কাগজপত্র ছাপানো হত এতদিন । কিন্তু যেদিন থেকে দীপক বাবু, সুজয় বাবুকে তার স্ত্রীর নামে ভাড়া নেওয়া দোকান ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলেন তখন থেকেই সুজয় বাবু বিভিন্ন রকম ভাবে হেনস্তা করছেন দীপক ভট্টাচার্যীকে বলে অভিযোগ করেন। সুজয় বাবু বেনাচিতি বাজারের বেশ কয়েকজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসাদারকে দিয়ে বারবার তার ফোনে হুমকি দিতে থাকেন, এমন অভিযোগ দীপকবাবুর ।

গত ১৪ ই জুলাই রাত্রি আটটা নাগাদ দীপক বাবু স্থানীয় পরিচিত কয়েকজনকে নিয়ে তার নিজের দোকানে গিয়ে শম্পা দেবীকে অনুরোধ করেন তার দোকান ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য শেষবারের মত এবং এও বলেছেন যদি তিনি স্বইচ্ছায় দোকানটি ছেড়ে না দেন তবে দীপক বাবু আইনি রাস্তায় হাটবেন। এই কথা শোনা মাত্রই সুজয় বাবু ও তাঁর স্ত্রী শম্পা দেবী অকথ্য ভাষায় গালাগালি করতে থাকেন দীপক ভট্টাচার্যকে এবং তার সাথে হুমকিও দেন ‘দেখে নেব’ বলে অভিযোগ দীপক বাবুর। উল্টে এরপরেই নাকি শম্পা দেবী দীপক ভট্টাচার্যের নামে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন দুর্গাপুরের বি-জোন পুলিশ ফাঁড়িতে ।

এই সম্পর্কে দীপক ভট্টাচার্যী বলেন, এ বিষয়ে তিনি বহুবার সুজয় বাবু ও তাঁর স্ত্রী শম্পা দেবীকে দোকান ঘরটি ছেড়ে দেওয়ার জন্য বললেও তারা কোনো কর্ণপাত করেননি, উল্টে তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন লোক মারফত তাকে ও তার অনুগামীদের কে হুমকি দিয়ে আসছেন। দীপক ভট্টাচায্য সরাসরি অভিযোগ করেন বলেন, তিনি ওই চন্ডীদাসের দোকান ঘরটি বৈধ মালিক । দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানায় জল, ইলেকট্রিক ও গ্রাউন্ড রেন্ট হিসেবে সমস্ত টাকা পয়সা তিনি জমা দেন সঠিক সময়ে । কিন্তু জবরদখল করে তার দোকানটি গত এক বছর ধরে শম্পা দেবী দখল করে রাখায় তার পক্ষে ডিএসপি কর্তৃপক্ষকে টাকা দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিষয়ে তিনি স্থানীয় কাউন্সিলর এর শরণাপন্ন হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। দীপক বাবু আরো অভিযোগ করেন তাঁর নামে বিভিন্নভাবে কুৎসা রটনা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে সুজয় দত্ত ও তার স্ত্রী শম্পা দত্তের মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই তিনি এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছেন।

স্থানীয় মানুষদের বক্তব্য, এ এক আজব ঘটনা, নিজের বৈধ দোকান ফেরৎ পেতে এক ব্যক্তিকে হেনস্থা হতে হচ্ছে দৈনন্দিন, আর এর সুযোগ নিচ্ছে একদল স্বার্থন্বেষী মানুষ । জবরদখল করা এই প্রবণতা কবে যে থামবে ইস্পাত নগরীতে তা এখন দুশ্চিন্তার বিষয় ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here