ভীম পুলিশের নিৰ্দেশে লকডাউনের সুযোগে রাতুরিয়ার হুচুকডাঙাতে গজিয়ে উঠেছে চোরাই লোহার কাঁটা ও বালি পাচারের রমরমা কারবার

0
2237

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- পুলিশের মদতে চোরাই লোহা, বালি পাচারের রমরমা কারবার কোকওভেন থানা এলাকায়। লকডাউনের সময় যখন সমস্ত মানুষ গৃহবন্ধী, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে বহালতবিয়তে চলছে এইসমস্ত অবৈধ্য কারবার।

কোকওভেন থানা অন্তর্গত রাতুড়িয়া এলাকায় ‘হুচুকডাঙ্গাঁ’তে চলছে বিভিন্ন অবৈধ্য চোরাই কারবার।
দামোদরের পাড়ের এই এলাকাতে রয়েছে চোরাই লোহার ‘কাঁটা’। স্থানীয় রাতুরিয়া-অঙ্গদপুর শিল্প তালুকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা কলকারখানা থেকে অবাধে লোহা লুঠের রমরমা ঢালাও কারবার চলছে। আর সেইসব চোরাই লোহা ‘হুচুকডাঙ্গা’র ওই চোরাই লোহার কাঁটাতে মজুত হচ্ছে। এছাড়া গত দুই মাস ধরে হুচুকডাঙ্গা সংলগ্ন দামোদর নদ থেকে প্রতিদিন রাতে ১৫ থেকে ২০ ট্রাক, ট্রলি করে বালি পাচার চক্র চলছে।
দামোদরের পাড়ে ‘গোপন জায়গা’ ওই হুচুকদাঙ্গাতে এই ‘রমরমা’ চোরাই কারবারের মূল কারণ হল, শহর দুর্গাপুরের কোলে বসে দুস্কৃতি রা এইসব কারবার চালালেও, অপরাধীদের ওই সব কু কর্মের জন্য তারা যে জায়গাটি ব্যবহার করে, তার আইন শৃংখলার দ্বায়িত্ব দামোদরের ওপারের মেজিয়া থানার। ফলে, এপারের লুঠমারে কার্যতঃ দায় ঝেড়ে ফেলার সুযোগ পায় এপারের পুলিশ। এই অবৈধ্য কারবারের পেছনে পুলিশের পুরোপুরি যোগসাজস থাকলেও কোকওভেন থানার পুলিশ, অন্যান্য উচ্চ পদস্থ কর্তাদের কাছে দায় এড়ানোর নাটক করার একটা অজুহাত পেয়ে যায়।

তবে, দায় কি এক্কেবারেই নেই? অভিযোগ, দায় নাকি আছে, তবে সেটা নিছক ‘মাল’ কামানোর। এলাকার বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া খবরে যে টুকু জানা গেছে – এখানকার পরিচিত কিছু কুখ্যাত লোহা চোরেদের পান্ডা-ই নাকি এপারের কোকওভেন থানার ‘ভীম তিওয়ারী’ নামের এক পুলিশ কর্মী। ভীমের হাতেই নাকি আসল গদা। অর্থাৎ তিনিই ‘ডাকমাস্টার’, তাই তার হাতেই রয়েছে গোটা কারবারের রাশ!

এই সমগ্র অবৈধ্য কারবারের বিষয়টি কোকওভেন থানার ওসি সন্দীপ দাস জানেন না এমনটা হতেই পারে না। এমনটাই দাবি করছেন থানার অন্যান্য কর্মীরা। তাদের বক্তব্য, ওসি’র নিৰ্দেশ ছাড়া থানা এলাকার একটি পাতাও নড়তে পারে না। তাহলে তার অজান্তে এমন কারবার চলছে এমনটা ভাবার কোনও কারণ নেই।
থানার ওসি সন্দীপ দাস বললেন, “রাতুড়িয়া – অঙ্গদপুরের বন্ধ হয়ে থাকা কলকারখানা থেকে লাগাতার লোহা লুঠের ব্যাপারে আমরা যথেষ্ট সজাগ আছি। এর আগে কয়েকজনের নামে লোহা লুঠের কেস দেওয়া হয়েছে। তবে বালি পাচারের বিষয়টি তিনি নাকি জানেন না। তাই তিনি খোঁজ নিয়ে দেখার আশ্বাস দেন।
এদিকে, দুর্গাপুর স্টেশন বাজার সংলগ্ন বন্ধ হয়ে যাওয়া বার্ন কোম্পানি কারখানা ভেতর থেকে রাতের অন্ধকারে চোরেরা লোহা, বিভিন্ন যন্ত্রাংশ চুরি করে বাইরে পাচার করে। কয়েকদিন আগে এমনই চোরাই লোহা বোঝাই একটি মোটর ভ্যান আটক করে কোকওভেন পুলিশ। পরে অবশ্য ওই মোটর ভ্যানটি ছেড়ে দিয়ে শুধু লোহাগুলি আটকে রাখেন ওসি। তার পরের দিনও একই ভাবে মোটর ভ্যানে করে চোরাই লোহা পাচার হয়ে চলে যায় ওই হুচুকডাঙ্গার কাঁটাতে। কিন্তু পুলিশ ওই ভ্যানটি আটক করতে পারেননি। ওসি সেকথা স্বীকার করেন।

তবে, থানারই এক পুলিশ কর্মী ‘ভীম’ কে নিয়ে কোকওভেন থানা-ই যে অস্বস্তিতে, সন্দীপ বাবুর কথাতেই তা স্পষ্ট।

দুর্গাপুর তথা রাতুরিয়া-অঙ্গদপুর শিল্প তালুকে বন্ধ কলকারখানার পাঁচিল টপকে টন টন লোহার মেশিন কাটাই হয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে অবাধে। এ সবের পিছনে যে সব লোহা মাফিয়ার নাম পাওয়া গেছে- সেই – রাজা গুন, উমেশ যাদব, গোবর্ধন রেড্ডি, সেখ রাজা, সেখ সেন্টু’র সাথে এক শ্রেনীর পুলিশের খুল্লাম খুল্লা মেলামেশা চোখে পড়ার মতো। আর এই মেলামেশার মাঝে মধ্যস্থকারী এক তৃনমূল কংগ্রেস নেতা। দল যাকে একবার বহিস্কার ও করেছিল। ওই নেতার নির্দেশ ছাড়া এই এলাকায় যে বেআইনী লোহার রমরমা, বালি পাচার অসম্ভব, এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা। এদিকে, চোরাই কারবারি সেখ সেন্টু ওই হুচুকডাঙ্গা কাঁটা থেকে ২৭০ টাকা কিলো দরে তামা কিনে ৪০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি করে পানাগড়ে। এভাবে সেখ সেন্টুর দৈনিক রোজগার ৫০ হাজার থেকে ৬০ হাজার টাকা।
অন্যদিকে, বাঁকুড়ার মেজিয়া থানার পুলিশ গোটা বিষয়টি নিয়ে ইতিমধ্যে খোঁজ খবর শুরু করেছে বলে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here