সিটি সেন্টারে বসে আজও ভীম পুলিশের ইশারায় চলছে কোকওভেন থানা এলাকা হুচুকডাঙ্গায় চোরাই লোহা ও বালি পাচারের রমরমা কারবার

0
3259

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- কোকওভেন থানার ওসি বদল হওয়ার পরও থামেনি রাতুরিয়া সংলগ্ন হুচুক ডাঙায় চোরাই কারবার| কোকওভেন থানার পূর্বতন ওসি সন্দীপ দাস থাকাকালীন থানার এক এএসআই ভীম পুলিশ(ডাক মাস্টার) এর পূর্ণ মদতে কোকওভেন থানা এলাকা জুড়ে ব্যাপক চোরাই লোহা, বালি পাচারের রমরমা কারবার শুরু হয়| সেইসব খবর প্রকাশিত হওয়ার পর গত জানুয়ারি মাসে তার বদলির নির্দেশ আসে| কিন্তু কোনও এক জাদু বলে সেই বদলির নির্দেশ থামিয়ে, পুনরায় বহালতবিয়তে ডাক মাস্টারের কাজ চালিয়ে যায়| অর্থাৎ ভীমের ‘গদা’ আরও বেশি চলতে থাকে|

আরও অভিযোগ, পাশাপাশি চলতে থাকে গাঁজা, সূরা ও সাকির রমরমা অবৈধ কারবার| অভিযোগ, থানার মেজোবাবু, ভীম এবং সেখ গুড্ডু (চুরির কেসে আসামি) এই তিনজনের একটা চক্র পুরো কোকওভেন থানার পরিবেশ কলুষিত করে তোলে| সূরা, সাকির জোগান দিতো সেখ গুড্ডু| তাই মেজোবাবু আর ভীমের প্রিয় পাত্র ছিল ওই সেখ গুড্ডু| দেরিতে হলেও সেইসব খবর জানতে পেরে ওসি সন্দীপ দাস ওই সেখ গুড্ডুকে থানায় ঢোকা বন্ধ করে দেন|

অন্যদিকে, দুর্গাপুর বাসস্ট্যান্ডে জনৈক বিজয় এবং সিনেমা রোডে জনৈক লোহা সিং ভীম পুলিশের মদতে রমরমা অবৈধ গাঁজার ব্যবসা চালাতে থাকে|

অপরদিকে, এই লকডাউনের সময় যখন সমস্ত মানুষ গৃহবন্ধী, সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে প্রতিদিন গভীর রাতে রমরমা চলতে থাকে বিভিন্ন অবৈধ্য কাজ কারবার|
সেইসব খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ভীম পুলিশ সহ কোকওভেন থানার চারজন পুলিশ কর্মীর বদলির নির্দেশ আসে| গত ২১ জুনের মধ্যে ভীম পুলিশ সহ চারজন পুলিশ কর্মী অন্যত্র চলে যায়| বিতর্কিত পুলিশ ভীম দুর্গাপুর সিটি সেন্টারে পুলিশ ফাঁড়িতে কাজে যোগ দেন| থানার একটি সূত্রের খবর, তার অন্যত্র বদলি হচ্ছিলো| কিন্তু তিনি অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে সিটি সেন্টারে পুলিশ ফাঁড়িতে বদলি কার্যকর করতে সমর্থ হন| কারণ, কোকওভেন থানার খুব কাছেই সিটি সেন্টার পুলিশ ফাঁড়ি| সেক্ষেত্রে তার একটাই উদ্দেশ্য, কোকওভেন থানায় রেখে যাওয়া তার চোরাই সাম্রাজ্য -এর উপর নজরদারি এবং গোপনে ‘মাল কামানোর’ রাস্তা জারি রাখা| সেই উদ্দেশ্য সফল করার জন্য তিনি তার পরবর্তী ডাক মাস্টারের দায়িত্ব দিয়ে যান মনোজ নামে এক পুলিশ কর্মীকে| সেই অনুযায়ী সমস্ত চোরাই কারবারিদের সঙ্গে মনোজবাবুর পরিচয়ও করে দিয়ে যান| অর্থাৎ তিনি সবাইকে বলে যান ব’কলমে তিনিই অন্তর্রালে ডাক চালাবেন|

কিন্তু ভীম চলে যাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ভীমের অভিসন্ধি ধরে ফেলেন ওসি সন্দীপ দাস| তিনি সেই মুহূর্তে মলয়কে সরিয়ে অন্য একজনকে দায়িত্ব দিয়ে দেন| কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত হটাৎই গত ২৪ জুন সন্দীপবাবুকেও বদলি হয়ে চলে যেতে হয়|

এদিকে কোকওভেন থানা সূত্রে খবর, থানার কনস্টবলরা সহ সমস্ত পুলিশ কর্মীদের যে উপরি অর্থ দেওয়া হয়, সেই সমস্ত টাকা ভীম পুলিশ না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করে পালিয়েছে বলে অভিযোগ| শুধু তাই নয়, থানার কালীবাড়িতে নিত্যপুজোর জন্য যে পূজারী আছে, তার মাসিক পেমেন্টও ভীম পুলিশ দিয়ে যায়নি বলে অভিযোগ|

অন্যদিকে ভীম পুলিশ সিটি সেন্টারে পুলিশ ফাঁড়িতে কাজে যোগ দেওয়ার পরও আরও বেশি বেশি করে রাতুরিয়ার হুচুকডাঙ্গাতে চোরাই লোহা এবং অবৈধ বালি পাচার চলতে শুরু করে|

রাতুড়িয়া এলাকায় ‘হুচুকডাঙ্গাঁ’তে দামোদরের পাড়ের এই এলাকাতে রয়েছে চোরাই লোহার ‘কাঁটা’| স্থানীয় রাতুরিয়া-অঙ্গদপুর শিল্প তালুকে বন্ধ হয়ে পড়ে থাকা কলকারখানা থেকে অবাধে লোহা লুঠের রমরমা ঢালাও কারবার চলছে। আর সেইসব চোরাই লোহা ‘হুচুকডাঙ্গা’র ওই চোরাই লোহার কাঁটাতে মজুত হচ্ছে| এছাড়া লকডাউন সময়ে হুচুকডাঙ্গা সংলগ্ন দামোদর নদ থেকে প্রতিদিন রাতে ২০ থেকে ২৫ ট্রাক, ট্রলি, ডাম্পার করে বালি পাচার চক্র চলছে|

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানকার পরিচিত কিছু কুখ্যাত লোহা চোরেদের ‘পান্ডা’‘ভীম পুলিশ’ নামের এক পুলিশ কর্মী। অর্থাৎ ভীমের হাতেই নাকি আসল গদা। অর্থাৎ তার বুদ্ধিতেই চলছে এই অবৈধ কারবার| এবং এই চোরাই কারবারে ভীমের অংশীদারি আছে বলে অভিযোগ|

এ সবের পিছনে যে সব লোহা মাফিয়ার নাম পাওয়া গেছে, তারা হল– রাজা গুন, উমেশ যাদব, গোবর্ধন রেড্ডি, সেখ সেন্টু| ভীম পুলিশের কথানুযায়ী এই গোবর্ধন রেড্ডি নাকি তার বাল্য বয়সের বন্ধু| তাই এই চোরাই কারবারে ভীম পুলিশের অংশীদারিত্ব মিলেছে বাল্যবন্ধুর দৌলতে| এবং অবশ্যই তা ‘গিভ এন্ড টেক’ পলিসিতে| আর এর মাঝে রয়েছে এক তৃনমূল কংগ্রেস নেতা। ওই নেতার নির্দেশ ছাড়া এই এলাকায় যে বেআইনী লোহার রমরমা, বালি পাচার অসম্ভব, এমনটাই জানাচ্ছেন এলাকার বাসিন্দারা|

এই সম্পর্কে কোকওভেন থানার নতুন ওসি মনোজিৎ ধারা বলেন, তিনি নতুন এসেছেন, তাই তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here