“তন্তুজ”-র হাত ধরে মহাজন ও ফড়েদের থেকে মুক্তি বালুচরি শাড়ি শিল্পীদের

0
1683

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ঐতিহ্যের বালুচরি শিল্প। বহু প্রাচীন এই শাড়ি শিল্পের কদর জানেন না এমন গৃহিনীদের খুঁজে পাওয়া বড় দুষ্কর। আধুনিক যুগের নিত্যনতুন পোশাকের সঙ্গে আজও সমান তালে পাল্লা দিয়ে চলেছে ঐতিহ্যের বালুচরি শিল্প। কিন্তু সম্প্রতি মহাজন এবং ফড়েদের দাপটে একপ্রকার বিলুপ্তির পথে যেতে বসেছিলেন বিষ্ণুপুরের বহু বালুচরি শিল্পী। পরিস্থিতি এমনই হয়ে উঠেছিল যে, বংশ পরম্পরায় চলে আসা এই শিল্প ত্যাগ করারও সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলেন কেউ কেউ। কারণ দিনের পর দিন ফড়ে ও মহাজনদের দাপট বৃদ্ধি, দাম পড়ে যাওয়া, মুনাফা কমতে থাকার ফলে পরিবারের আধুনিক প্রজন্মের যুবক-যুবতীরা আর পারিবারিক এই প্রাচীন শিল্পের দিক থেকেও মুখ ফিরিয়ে নিয়েছিল। এহেন কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেই বালুচরি শিল্পীদের আশার আলো দেখাল “তন্তুজ”। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে দু-দিনের বালুচরী হাটে তাঁতীদের মজাজনী ফাঁদ ও ফড়েদের হাত থেকে থেকে রক্ষা করতে তাদের কাছ থেকে এক ধাপে প্রায় ৭০০ শাড়ী কিনে নিল রাজ্য সরকারের অধীনস্থ সংস্থা “তন্তুজ”। শুধু তাই নয়, এই হাট থেকেই সরাসরি তাঁতীদের কাছ থেকে অনেক কম দামে ঐতিহ্যবাহী বালুচরি শাড়ি কিনলেন ক্রেতারাও। বালুচরী ছাড়াও বিষ্ণুপুরী সিল্ক, সোনামুখী সিল্ক সহ নানা শাড়ীর পসরা নিয়ে এই দুদিন হাটে হাজির হন কারিগররা। বিষ্ণুপুরের মহকুমা শাসক মানস মন্ডল জানান, পুজোর আগে এই সময় জেলায় পর্যটকের সংখ্যা যেমন কম থাকে, তেমনি বাজারেও শাড়ীর চাহিদা কম থাকে। তাঁতীদের এই মন্দার বাজারের সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মহাজন ও ফড়েরা কম দামে তাঁতীদের কাছ থেকে শাড়ী কিনে পুজোর বাজারে তা চড়া দামে বিক্রি করে দেন। অথচ শিল্পীরা থেকে যান ব্রাত্য। তাই এই মহাজনদের ফাঁদ থেকে তাঁতীদের বাঁচাতেই হাটের মাধ্যমে ক্রেতাদের সঙ্গে তাঁতীদের সরাসরি যোগাযোগ স্থাপনই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
অন্যদিকে, “তন্তুজ” সংস্থার আধিকারিক রবীন্দ্রনাথ রায় জানান, এবার থেকে বিষ্ণুপুরের এই হাট থেকে শাড়ী কিনবে তাদের সংস্থা। সেই শাড়ী তন্তুজের বিভিন্ন বিপণন কেন্দ্র বিক্রি করা হবে।