প্রাচীন বিষ্ণুপুর ঘরানার শাস্ত্রীয় উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রসারে শুরু হয়েছে তৃতীয় বর্ষ ‘বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল’

0
391

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- রাজ্য পর্যটন দফতরের উদ্যোগে শহরের জোড় শ্রেণীর মন্দির প্রাঙ্গন ‘পোড়া মাটির হাটে’ শুক্রবার শুরু হওয়া তিন দিনের এই মিউজিক ফ্যাস্টিভ্যালে বিষ্ণুপুর ঘরাণার প্রথিতযশা শিল্পীরা ধ্রুপদ পরিবেশন করবেন।

বিশিষ্ট শিল্পী জগন্নাথ দাস গুপ্তের কন্ঠ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়৷ উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা, রাজ্যের পর্যটন প্রধান সচিব নন্দিনী চক্রবর্ত্তী, মহকুমাশাসক মানস মণ্ডল প্রমুখ।

পূর্ব ভারতের একেবারে নিজস্ব শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের সুর ধ্রুপদ। যদিও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সঙ্গীতপ্রিয় বাঙালির মনে সেই সুর অনেকটাই ধূসর। আর ঠিক সেই মুহূর্তে রাজ্য পর্যটন দফতরের এই উদ্যোগ অনেকটাই ধ্রুপদ সঙ্গীত চর্চার বিকাশে আশার আলো দেখাচ্ছে বলেই মনে করা হচ্ছে। ইতিহাস ঘাঁটলে দেখা যায়, বিষ্ণুপুরের মল্লরাজাদের হাত ধরে তাঁদের দরবারে বিষ্ণুপুর সঙ্গীত ঘরাণার সূত্রপাত। সঙ্গীত রসিক রাজা রঘুনাথ সিংহ দিল্লীর বাহাদুর খাঁ সাহেবকে নিয়ে আসেন। তিনিই উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রচার ও প্রসার ঘটিয়েছিলেন। পরে গদাধর, রামশঙ্কর ভট্টাচার্য, যদুভট্ট প্রমুখরা এই সঙ্গীত ঘরাণাকে নতুন রূপ দেন। শোনা যায় স্বয়ং রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের অন্যতম প্রিয় শাস্ত্রীয় সঙ্গীত শিল্পী ছিলেন এই বিষ্ণুপুর ঘরাণার বিশিষ্ট শিল্পী যদুভট্ট।

বিষ্ণুপুর মিউজিক ফেস্টিভ্যাল উপলক্ষ্যে অপরূপ আলোক সজ্জায় সেজে উঠেছে জোড় শ্রেণীর মন্দির প্রাঙ্গন। এক দিকে পোড়া মাটির হাট, অন্যদিকে সেখানেই শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের ধ্রুপদের মূর্ছণা। সব মিলে মিশে যেন একাকার। ইতিমধ্যে এই সঙ্গীতের টানে শহরে এসে পৌঁছে গেছেন দেশ বিদেশের অসংখ্য পর্যটক। এই মুহূর্তে বিষ্ণুপুর বাসীও স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন মল্ল রাজাদের তৈরী অসংখ্য প্রাচীন মন্দিরের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বিষ্ণুপুর ঘরাণার সঙ্গীতের টানেও এবার থেকে আরো বেশী পর্যটক বিষ্ণুপুর মুখী হবেন।

বিভিন্ন দিনে জোড় শ্রেণীর মন্দির প্রাঙ্গনে মুক্ত মঞ্চে সঙ্গীত পরিবেশন করবেন সুরজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়, অসিত রায়, সুভাষ কর্মকার, বামাপদ চক্রবর্ত্তী, আব্দুল আজিজ খানদের মতো বিশিষ্ট শিল্পীরা। আগামী রবিবার সন্ধ্যা তেজেন্দ্র নারায়ণ মজুমদারের সরোদের মধ্য দিয়ে এবারে মিউজিক ফেস্টিভ্যাল শেষ হবে।

বর্তমান প্রজন্মকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী করে তুলতে এই ধরণের অনুষ্ঠানের ভীষন প্রয়োজন বলে করেন শিল্পী প্রবীর কর্মকার। তার কথায়, যারা মনে করেন ধ্রুপদ, খেয়ালের মতো উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের রেওয়াজ কমে যাচ্ছে তা কিন্তু নয়। এই ধরণের অনুষ্ঠানের ফলে বর্তমান সময়ের সঙ্গীত শিক্ষার্থীরা শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের প্রতি আগ্রহী যেমন হবে তেমনি মন্দির নগরী বলে খ্যাত বিষ্ণুপুরের সঙ্গীত ঘরাণার বিশ্ব জুড়ে যে নাম আছে সেকথাও উঠে আসছে বলে তিনি জানান। পর্যটক বকুল রুইদাস বলেন, বিষ্ণুপুর মন্দির নগরী হিসেবে খ্যাত হলেও সঙ্গীতের টানেও এখানে অনেক পর্যটক এখানে আসেন। এখানে এবার বেড়াতে এসে বাড়তি পাওনা হিসেবে মিউজিক ফেস্টিভ্যালে অংশ নিতে পেরে ভালো লাগছে বলে তিনি জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here