আসানসোল ও দুর্গাপুরে অক্সিজেন সিলিন্ডার নামে প্রতারণা, তদন্ত শুরু সাইবার ক্রাইম ও পুলিশের

0
595

সংবাদদাতা, আসানসোল ও দুর্গাপুরঃ- অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের নামে আর্থিক প্রতারণা। করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে বিপর্যস্ত গোটা দেশের মানুষ । প্রতিদিন যে হারে মৃত্যু ও সংক্রমণ বাড়ছে তাতে ক্রমশ ভয়াবহ হচ্ছে দেশের পরিস্থিতি। এই পরিস্থিতিকে জাতীয় বিপর্যয় বলেও মন্তব্য করেছে সুপ্রিম কোর্ট। দেশজুড়ে অক্সিজেনের আকাল পড়েছে। অক্সিজেনের অভাবে বহু রোগীর মৃত্যুর খবরও সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে একশ্রেণীর অসাধু লোক অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের নামে প্রতারণা করে চলেছেন। শিল্পাঞ্চলে অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহের নামে প্রায় ৬০ হাজার টাকা প্রতারণার ঘটনাটি প্রথম সামনে এল।

ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিম বর্ধমানের আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেট এর কুলটি থানার অধীনে। কুলটি স্টেশন সংলগ্ন বাবুপাড়ার বাসিন্দা অঙ্কিতা সরকার যিনি আসানসোল করপোরেশনে কর্মরত থাকার পাশাপাশি দিল্লীর একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা “দিল্লী অ্যাসোসিয়েশন ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স” এর সেক্রেটারি। কুলটি এলাকাতেও তিনি সমাজসেবা করে থাকেন। কুলটি ব্লক নাগরিক কমিটির করোনা পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে অক্সিজেন সিলিন্ডারের দরকার হয় এবং তারা সাহায্য চায় ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কাছে। সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন কলকাতার গড়িয়ার কাছেই নরেন্দ্রপুর কামালগাছি এলাকার “অক্সিকেয়ার প্রাইভেট লিমিটেড” নামে একটি সংস্থা দরকারে অক্সিজেন সরবরাহ করছে। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় দেওয়া মোবাইল নম্বরে যোগাযোগ করেন অরবিন্দ অরোরা নামে এক ব্যক্তির সঙ্গে । অঙ্কিতা দেবী পাঁচটি ১০ লিটারের অক্সিজেন সিলিন্ডার এবং পাঁচটি রেগুলেটর অর্ডার করেন এবং জিএসটি বাবদ ৫৭,২৩০ টাকা ১১ ই মে তার ইন্ডিয়ান ব্যাংকের একাউন্ট থেকে ওই ব্যক্তির দেওয়া ব্যাংক এর একাউন্টে ৪ দফায় ইলেকট্রনিক ট্রান্সফার করেন। কথামত ওই অক্সিজেন সিলিন্ডারগুলি সহ রেগুলেটর সম্বলিত পার্সেল কুলটির ঠিকানায় না আসায় তিনি কুলটি থানার ইন্সপেক্টর ইনচার্জ এর সঙ্গে যোগাযোগ করেন। তিনি আসানসোল দুর্গাপুর কমিশনারেটের সাইবার ক্রাইম দপ্তরেও অভিযোগ জানান । কুলটি থানা এবং সাইবার ক্রাইম দপ্তর যৌথভাবে এই ব্যাপারটি তদন্ত শুরু করছে। পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে ও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

অন্যদিকে শিল্পাঞ্চল দুর্গাপুরের ইস্পাত নগরী, বি-জোনের একাধিক জায়গায় চলছে অক্সিজেন সিলিন্ডারের কালোবাজারি। ইস্পাত নগরী বি-জোনের, ভারতী রোডের ১৮ নম্বর স্ট্রীটের এক মহিলা গতরাত্রে এক রোগীর আত্মীয়কে ১৩,০০০ টাকা দাবি করেন অক্সিজেন সিলিন্ডার রিফিল করে দেওয়ার জন্য। শুধু তাই নয়, নতুন ভাবে যদি তার কাছ থেকে সিলিন্ডার নেওয়া যায়, তাহলে ওই মহিলার বক্তব্য তাকে দিতে হবে ২০,০০০ টাকা নগদ ফাঁকা সিলিন্ডারের জন্য। আরো ১৩,০০০ টাকা অক্সিজেন গ্যাস ভরানোর দিতে হবে । সাথে সাথে দিতে হবে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার জন্য গাড়ি ভাড়াও। এই রকমই এক ভয়ঙ্কর অভিযোগ এক রোগীর আত্মীয় করেছেন আমাদের কাছে। প্রমাণ হিসেবে আমাদেরকে সেই ফোনের কথোপকথনের অডিও ক্লিপটি তুলে দিয়েছেন। ফোনের অডিও ক্লিপটির কথোপকথন থেকে পরিষ্কার যে ওই মহিলা বহুদিন ধরেই অক্সিজেনের কালোবাজারির চক্রের সাথে জড়িত। তিনি প্রতিদিনই বেশ কয়েকটি সিলিন্ডার চড়া দামে করোণা আক্রান্ত অসহায় রোগীদের কে বিক্রি করছেন ।

চ্যানেল ‘এই বাংলায়’ পক্ষ থেকে সকল দুর্গাপুর বাসীর কাছে আমাদের বিনীত অনুরোধ দয়া করে যদি কোনো ব্যক্তি বা সংস্থা আপনাদের কাছে চড়াদামে অক্সিজেন সরবরাহ করার কথা বলে, তাহলে অবিলম্বে আমাদের নম্বরে যোগাযোগ করে সাহায্য চাইতে পারেন বা তৎক্ষণাৎ স্থানীয় থানার আধিকারিককে ফোন মারফত জানাবেন। সকল ইস্পাত নগরীর বাসিন্দাদের কাছে আমাদের অনুরোধ কাউকে আপনারা করোনা রোগীর অসহায়তার সুযোগ নিতে দেবেন না। কোথাও যদি কোন কালোবাজারির অভিযোগ পান তৎক্ষণাৎ আমাদেরকে বা স্থানীয় থানার পুলিশকে জানান। আমরা আমাদের সাধ্যমত আপনাদের সহায়তা করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here