ভোটের মরসুমে দামোদরের ভাঙণ নিয়ে সরব জেলাবাসী

0
938

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ভোট আসে আবার চলেও যায়, কিন্তু প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়না। আর তাই হয়তো বহুবার আবেদন-নিবেদন করেও দীর্ঘ ৩৪ বছরেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বাঁকুড়ার সোনামুখী থানার দামোদর নদী তীরবর্তী এলাকায় রয়েছে ডিহিপাড়া অঞ্চলের রাঙ্গামাটি, কেনেটি, রাধামোহনপুর অঞ্চলের উত্তর নিত্যানন্দপুর, নবাসন অঞ্চলের মুনুই, কুরুমপুর সহ বেশ কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার পরিবারের বসবাস। আর এই দামোদর নদীই হয়ে উঠেছে তাদের কাছে বিভীষিকা। কারণ এই সমস্ত এলাকার মানুষদের জীবিকার একমাত্র মাধ্যম হল কৃষিকাজ। সারাবছর কৃষিকাজ করেই তাদের সংসার চলে। কিন্তু বছরের বাকি সময় দামোদর তাদের চাষের কাজে সাহায্য করলেও বর্ষায় এই দামোদর ভয়াল রূপ ধারন করে। ফলে বছরের পর বছর বন্যায় এইসমস্ত নদী তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের তিনফসলি কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই অনেক গ্রামবাসীই তাদের বহু চাষের জমি হারিয়ে সর্বসান্ত হয়েছেন, এখনও সেই ধারা বজায় রয়েছে। এক চাষির বয়ান থেকে জানা যায়, ইতিমধ্যেই তার ১২ বিঘা জমি বন্যার কবলে পড়ে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। তাহলে আন্দাজ করাই যায় নদী তীরবর্তী ওই এলাকার বাকি চাষিদের অবস্থাটাও ঠিক কেমন। রাধামোহনপুর অঞ্চলের উত্তর নিত্যানন্দপুর গ্রামে তৈরী হয়েছিল নিত্যানন্দপুর কলোনি শিশু শিক্ষাকেন্দ্র। কিন্তু সেই শিক্ষাকেন্দ্র অদূর ভবিষ্যতে থাকবে কিনা তা নিয়ে খুব একটা ভরসা পাচ্ছেন না এলাকার বাসিন্দারা। তাদের বক্তব্য, যেভাবে নদীর পাড় ভাঙছে তাতে তাতে ভবিষ্যতে ওই স্কুলও নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাবে। একই বিষয়ে আশঙ্কিত স্কুলের প্রধান শিক্ষিকা অমীয়বালা সিকদার জানান, প্রতিবছর বন্যার সময় স্কুলে জল ঢুকে যায়। প্রধান শিক্ষিকা অমীয়বালা সিকদারের আক্ষেপ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকলে এলাকার বাচ্চাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রে খুবই অসুবিধা হবে। সরকার যদি একটু নজর দিত তাহলেই ভাঙন সমস্যা সমাধান সম্ভব হত। একই অভিযোগ গ্রামবাসীদের। তাদের বক্তব্য, প্রত্যেক বছর বর্ষা এলেই এলাকার মানুষদের মধ্যে বন্যার আতঙ্ক গ্রাস করে। কিন্তু তাসত্ত্বেও প্রশাসনের হুঁশ ফিরছে না বলে অভিযোগ গ্রমাবাসীদের। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রত্যের বছর পালা করে ভোট এলে রাজনৈতিক নেতারা নদী ভাঙন রোধের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গ্রামবাসীদের কাছে ভোট দেওয়ার আবদার করেন। তাদের বক্তব্য, ভোট তো দেওয়া হচ্ছেই, কিন্তু তাদের কথা কেউ ভাবছে কী? ভোট পেরোলেই প্রতিশ্রুতিও নদী ভাঙনের সঙ্গে বিলীন হয়ে যাচ্ছে নদীগর্ভা। তাই আসন্ন লোকসভা ভোটের আগে তাঁরা আর প্রতিশ্রুতি চাননা, চান ভাঙন রোধের স্থায়ী ব্যবস্থা। এ বিষয়ে সোনামুখী ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি প্রণব রায় জানান, দীর্ঘ ৩৪ বছরে বাম সরকার নদী ভাঙন নিয়ে ভাবেনি। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরকার গড়ার পর দামোদর নদীর ভাঙ্গন নিয়ে সরকারি স্তরে চিন্তাভাবনা শুরু হয়েছে। নদী ভাঙ্গনের কাজ শুরু হয়েছে, ভোটপর্ব মিটে গেলেই দ্রুত এই সমস্যার সমাধান করা হবে।