হাতির আতঙ্কে ঘুম ছুঁটেছে বাঁকুড়াবাসীর

0
1079

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ফের বাঁকুড়ায় দাঁতালের তান্ডব। সদ্য হস্তি শাবককে নিয়ে জঙ্গলে ফেরার পথে জনবহুল এলাকায় পড়ে গিয়ে বিভ্রান্ত হয়ে গোটা গ্রামে দাপিয়ে বেড়ালো তিনটি দাঁতাল। ঘটনা বাঁকুড়া জেলার অন্তর্গত পাত্রসায়ের ব্লকের কুশদ্বীপ গ্রাম পঞ্চায়েতের সাহাপুর জঙ্গল এলাকার। জানা গেছে, সদ্য এক হস্তি শাবককে নিয়ে তিনটি হাতির একটি দল কুশদ্বীপ জঙ্গল থেকে জয়পুরের জঙ্গলের দিকে রওনা দিয়েছিল। কিন্তু দিনের বেলায় ওই তিনটি হাতি ও শাবকটি জনবহুল এলাকায় পড়ে গেলে এলাকার মানুষজন হাতিগুলিকে তারা করে। গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে হাতির দলটি বিভ্রান্ত হয়ে একটি খালের মধ্যে আশ্রয় নেয়। গ্রামের হাতি ঢুকে পড়ার খবর ছড়িয়ে পড়তেই কয়েকশো গ্রামবাসী হাতিগুলিকে তাড়া করতে শুরু করলে দলমার ওই দলটি ডিহিলাপুর, সুরসিঙ্গাপুর ও বড়বাগান গ্রামে বোরো ধানের ক্ষেতে ঢুকে পড়ে ধানের জমি তছনছ করে। গ্রামবাসীদের বয়ান থেকে জানা গেছে, হাতির হামলায় একটি ছাগলের মৃত্যু হয়েছে এবং আহত হয়েছে একটি গরু। তবে স্থানীয় চাষীদের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির হয়েছে বলে জানা গেছে। গ্রামবাসীদের বক্তব্য, ৫ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে হাতির তান্ডবে এলাকার বহু চাষের জমির বোরোধান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গ্রামে হাতি ঢোকার খবর পেয়ী বনদফতরের আধিকারিকরা ঘটনাস্থলে গিয়ে হাতিগুলিকে তাড়িয়ে জঙ্গলে পাঠায়। চলতি মাসে এই নিয়ে বেশকয়েকবার বাঁকুড়ায় হাতির হানায় আতঙ্কে জেলাবাসী। বার বার বিভিন্ন জায়গায় এভাবে হাতির হানায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অতর্কিতে এভাবে জনবহুল এলাকায় দলমার দল ঢুকে হামলা চালাচ্ছে স্কুল, অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র, চাষের জমি ও ঘরবাড়িতে। ফলে দিনের পর দিন বনদফতরের ওপর ক্ষোভ বাড়ছে সাধারণ মানুষের। কারণ, বনদফতরের কাছে বারবার অনুরোধ জানিয়েও হাতির হানা রোধ করতে কোনোরকম ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ গ্রামবাসীদের। শুধু তাই নয়, বার বার হাতির তান্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হলেও সেভাবে বনদফতরের তরফে কোনও ক্ষতিপূরণ পাওয়া যাচ্ছে না বলেও অভিযোগ চাষিদের। ফলে গ্রামে হাতি ঢুকলেই গ্রামের মানুষ তেড়ে যাচ্ছেন হাতিদের দিকে। এরফলে একদিকে যেমন বিভ্রান্ত হয়ে পড়ছে হাতিগুলি, তেমনি হাতির সামনে পড়ে গিয়ে গ্রামবাসীদের হতাহতের ঘটনাও সামনে আসছে বহুবার। তাই গ্রামে হাতির হানা রুখতে বনদফতরের তরফে আরও সক্রিয় ভূমিকা দাবি করছেন এলাকার মানুষজন।