আওতাভুক্ত না হওয়া সত্বেও একশ্রেণী বি পি এল কার্ড হোল্ডারদের বিরুদ্ধে তদন্তের আশ্বাস মহকুমা শাসকের, জানালেন বোরো চেয়ারম্যান

0
1393

অমল মাজি , দুর্গাপুরঃ- “এই বাংলায়” সোশ্যাল মিডিয়ায় “আওতাভুক্ত না হওয়া সত্বেও একশ্রেণী বি পি এল কার্ড হোল্ডাররা অন্যায়ভাবে গরিবদের রেশন তুলছে , তদন্তের আশ্বাস বোরো চেয়ারম্যানের ” শিরোনামে একটি খবর প্রকাশিত হওয়ার পর ব্যাপক সাড়া পড়ে যায় পাঠক মহলে।

বিভিন্ন এলাকা থেকে বহু পাঠক এই প্রতিবেদককে ফোন করে ধন্যবাদ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের নিজ নিজ এলাকাতে বহুজন এবং বহু পরিবার আর্থির্ক সচ্ছলতা থাকা সত্বেও তাদের বি পি এল কার্ড আছে এবং সেই বি পি এল কার্ডে তারা নিয়মিত রেশন তোলেন সেই সমস্ত অভিযোগ জানান। লকডাউনে সারা রাজ্যে গৃহবন্দী মানুষ। সকলের কাজ কর্ম বন্ধ। এই অবস্থায় কোটি কোটি দরিদ্র মানুষ পেটের অন্ন জোটাতে হিমশিম খাচ্ছে। দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোর কথা চিন্তা করেই রাজ্য সরকার তথা মুখ্যমন্ত্রী তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই সমস্ত গরিব মানুষগুলো যাতে অভুক্ত না থাকে , তার জন্য রাজ্য সরকার বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করেছে। কিন্তু সেক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে যারা কার্যত গরিব নয় তারাও বি পি এল কার্ড দেখিয়ে বিনামূল্যের রেশন তুলছে নির্লজ্জভাবে।

সারা পশ্চিম বর্ধমান জেলা জুড়ে এমন অভিযোগে অভিযুক্ত হাজার হাজার ব্যক্তি ও পরিবার। সেই জন্য রাজ্য সরকারের কাছে বহু ভুক্তভুগি মানুষদের আবেদন , রেশনের মাধ্যমে গরিবদের জন্য রাজ্য সরকার যে চাল,গম বিনামূল্যে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে সেক্ষেত্রে বি পি এল এবং এ পি এল দেখলে চলবে না। কারণ লকডাউনে কেবলমাত্র বি পি এল রাই ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে না, বহু এ পি এল পরিবার আছে যারা সত্যি করে আর্থিক দিক দিয়ে পিছিয়ে পড়া, তারাও আজ ক্ষতিগ্রস্থ। কিন্তু তাদের কাছে বি পি এল কার্ড না থাকায় বড় সংকটে পড়তে হয়েছে তাদের। তাদের অভিযোগ , বি পি এল কার্ড আছে মানেই সবাই গরিব এমনটা কিন্তু নয় | বহু বড়লোক আছে যারা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে বি পি এল কার্ড করিয়েছে। অথচ এমন অনেক পরিবার ও ব্যক্তি আছে যারা একদিন কাজে না গেলে সংসারে হাঁড়ি চড়ে না। কিন্তু তাদের বি পি এল কার্ড নেই। বামফ্রন্ট আমল থেকে চলতে থাকা এমন দুর্নীতি আজও চলছে।

অনেকের বক্তব্য , এবার ‘রেশন কার্ড হোল্ডারকেই স্বয়ং গিয়ে, লাইনে দাঁড়িয়ে রেশন তুলতে হবে, রেশন কর্তৃপক্ষের এমন ফরমান জারি হওয়ার পর একপ্রকার বাধ্য হয়েই বি পি এল কার্ড হোল্ডারদারদেরকে রেশনশপে লাইন দিতে হয়। তখনই ধরা পড়ে যায় ‘ভুয়ো’ বিপিএল কার্ড হোল্ডার কারা। তখন দেখা যায় , এক লাখ টাকার বাইকে চড়ে এসে, হাতে কুড়ি হাজার টাকার মোবাইল নিয়ে বি পি এল কার্ডে রেশন তুলতে এসেছে তারা। এমন অভিযোগ বহু ওয়ার্ড থেকে এসেছে। অভিযোগ , ৪৩ নং ওয়ার্ডে অন্তর্গত নডিয়া গ্রামে একশ্রেণী লোক আর্থিক ভাবে সচ্ছল, বাড়িতে চারচাকা গাড়ি, এসি, দোতলা বাড়ি ইত্যাদি থাকা সত্বেও তারা বি পি এল কার্ড হোল্ডার। এমন অভিযোগ ২৮ নং , ২৯ নং , ৩০ নং প্রভৃতি ওয়ার্ড থেকেও এসেছে।

এ সম্পর্কে ৪ নং বোরো চেয়ারম্যান চন্দ্রশেখর ব্যানার্জি বলেন, এলাকায় কিছু জনপ্রতিনিধি সহ বহু বিত্তবান ব্যক্তির অন্যায্য BPL কার্ড রয়েছে, সেকথা দুর্গাপুর মহকুমা শাসক অনির্বান কোলে মহাশয়কে সরাসরি জানানো হয়েছে। মহকুমা শাসক আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি এই সমস্ত বি পি এল কার্ডের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবেন। চন্দ্রশেখরবাবু বলেন, যেসব ব্যক্তিরা এই বিপর্যয়ের সময়ও গরিবের প্রাপ্য রেশনের উপর অন্যায়ভাবে ভাগ বসাছেন, তাদের উচিত BPL কার্ডগুলি জমা দিয়ে দেওয়া। আর বিনামূল্যে যে রেশন তুলছেন সেইগুলি মানবিক খাতিরে গরিদের দান করা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here