বর্ধমানের নাগবাড়ীর নাগপাশঃ ম্যাডামের যৌনাঙ্গেঁ কেন আঘাত করল ড্রাইভার তপন?

0
9485

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- নিছক ড্রাইভার নয়, বর্ধমানের ডাক্তার পত্নী হত্যাকান্ডে অভিযুক্ত তপন দাস গত ২৬ বছরে হয়ে উঠেছিল নাগ বাড়ীর ‘খাস বাবু’, অন্ততঃ পুলিশি তদন্ত যতো এগোচ্ছে, চোখ কপালে ওঠার মতো এমনই বেশ কিছু তথ্য উঠে এসেছে। হতবাক হয়ে যাচ্ছেন পাড়া-পড়শি থেকে খোসবাগান লাগোওয়া বাসিন্দারাও।

  • দুর্গাপূজোর মুখে ডাঃ সুব্রত নাগের স্ত্রী মৌসুমীকে ডাক্তারের সামনেই গলা টিপে হত্যায় উদ্যত হয় “বিশ্বস্ত” ড্রাইভার তপন দাস। অভিযোগ হয় বর্ধমান থানায়। পরে, এক রহস্যজনক কারনে ডাঃ নাগ, মৌসুমী থানায় বসে তপনের সাথে মিটিয়ে নিলেন। প্রশ্ন-কেন? ডাঃ নাগ বলছেন, “এতো বছরের ড্রাইভার, নেশার বশে অমন করে ফেলেছে বলে ক্ষমা চাইল। মৌসুমীও মাফ করে দিতে চাইল”।
  • নাগ বাড়ীতে ঢোঁড়া সাপ হয়ে ঢুকে দিনের দিন ড্রাইভার তপন হয়ে উঠেছিল একটি বিষধর নাগ তার পাশ থেকে বের হওয়ার ক্ষমতা ছিল না বাড়ীর কর্মচারী,পরিচারিকা থেকে গোটা পরিবারের। বাড়ীর সর্বক্ষনের পরিচারিকা জবা প্রামানিক বলছেন, “সব সময় ওর ভয়ে জড়ো সড়ো থাকতাম আমরা সবাই। আগেও স্যরকে ম্যাডাম কে মারতে গেছে। ওনারাও ওকে দারুন ভয় পেতেন। ম্যাডামের গায়ে হাত দিত। অন্যরকম ভাবে কথা বলতো। আমরাও অবাক হয়ে যেতাম, ওর এত্তো সাহস হচ্ছে কি করে?”
  • “নেশাভাঙ করতো, জুয়া খেলতো। মাঝে মাঝেই বেশি বেশি করে টাকা চাইতো। না দিলেই মারতে আসতো। বলত-কথা না শুনলে একদম শেষ করে দেবো। কেউ বাঁচাতে পারবেনা,” ভাবুন, এটা বলছেন খোদ আক্রান্ত ডাঃ সুব্রত নাগ। বর্ধমান শহরের নামী অ্যানাস্থটিস্ট। একজন মামুলি ড্রাইভারের ভয়ে ওনার মতো একজন নামী মানুষ এতো ভয়ে কাঁটা কেন?
  • সোমবার দুপুরে, ঘটনার দিনও তপন নেশাগ্রস্ত ছিল। “প্রথমে এক লাখ টাকা চাইলো। পরে বলল তিন মাসের মাইনে একসাথে দিতে হবে। রাজি হহনি। তখনি লাঠি নিয়ে আমাদের হিংস্রভাবে পেটাতে শুরু করল”, বললেন ডাঃ নাগ।
  • প্রাথমিক তদন্তে মৌসুমীর যৌনাঙ্গেঁ ক্ষত আর রক্তের চিহ্ন পেয়েছে পুলিশ। প্রশ্ন হচ্ছে, টাকা না পেয়ে আক্রোশ বশতঃ স্যার, ম্যাডামকে লাঠিপেটা করল ড্রাইভার। তাহলে মৌসুমীর যৌনাঙ্গেঁ কিসের ক্ষত?

ঠিক এই প্রশ্নটিই ঘুরপাক খাচ্ছে বর্ধমানের পুলিশ মহল থেকে আদালত চত্বর – সর্বত্র। অপরাধ বিশেষজ্ঞরা বলছেন – টাকা পয়সা নিয়ে রাগারাগি, অথচ ম্যাডামের যৌনাঙ্গেঁ আঘাত করার দুঃসাহস তখনই হয়

(ক) যখন দীর্ঘদিনের যৌন আকাঙকা পুরন না হলে, অথবা

(খ) দীর্ঘদিন ধরে অবাধ যৌনতার পর আচমকা ; ম্যাডাম’ ওই রাস্তা থেকে মুখ ঘুরিয়ে নিলেন।

পরিচারিকা জবা’র বয়ানে স্পষ্টঃ “ম্যাডমের সাথে তপনের আচরন অন্যরকম ছিল। আমাদের ওসব নিয়ে প্রশ্ন তোলার হিম্মত ছিল না”।

তবে, জবার বিষয়েও তদন্তকারীদের মনে কিছু প্রশ্ন উঁকি দিচ্ছে। তপনের সাথে বা পরিবারের অন্য কারো সাথে তার সম্পর্কও কতটা স্বচ্ছ ছিল, সে সব তলিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তকারী আধিকারিক অরুন ব্যানারজী ইতিমধ্যেই মৌসুমী, তপনের মোবাইল ফোন “সিজ” করে নিয়েছেন। চলছে গত কয়েক মাসের কল লিস্ট খতিয়ে দেখার কাজ। এক পুলিশ আধিকারিক বললেন, “ম্যাডাম-তপনের সম্পর্ক কি ছিল, সেটা খতিয়ে দেখার পাশাপাশি আমরা তপনের জীবনযাত্রারও বিস্তারিত খোঁজ নিচ্ছি”।
তপনের বাড়ী বর্ধমান শহরেরই বাবুরবাগ এলাকায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here