কারখানায় চুরির ঘটনায় ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে, প্রচুর পরিমাণে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার

0
509

সংবাদদাতা, বর্ধমানঃ- বর্ধমান-কাটোয়া রোডে হটুদেওয়ান এলাকার কারখানায় চুরির ঘটনায় ধৃতদের হেপাজতে নিয়ে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে একটি গোডাউন থেকে প্রচুর পরিমাণে চুরি যাওয়া সামগ্রী উদ্ধার করল বর্ধমান থানার পুলিশ। পুলিস সূত্রে জানাগেছে, মঙ্গলবার রাত দেড়টা নাগাদ কয়েকজন বর্ধমান-কাটোয়া রোডে হটুদেওয়ান এলাকার কারখানাটিতে ঢোকে। স্টোররুমের তালা ভেঙে ২০০টি অক্সিজেন স্ক্র‌্যাপ ভাল্ভ, তামার পাইপ, পাম্প, প্রেসার গেজ প্রভৃতি নিয়ে পালায়। পরেরদিন সকালে কারখানা কর্তৃপক্ষ চুরির বিষয়টি জানতে পারেন। কারখানার ম্যানেজার সন্ত কুমার পাণ্ডে ঘটনার কথা জানিয়ে পুলিসে অভিযোগ দায়ের করেন।
বৃহস্পতিবার রাতে হটুদেওয়ান এলাকা থেকে চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিস। ধৃতদের নাম শেখ আসাদূল, শেখ মণিরুল, শেখ সাইদুল, শেখ সঞ্জয় ও শেখ রফিক। বর্ধমান থানার হটুদেওয়ান পিরতলা ও বিজয়রাম এলাকায় ধৃতদের বাড়ি। চুরিতে জড়িত থাকার কথা ধৃতরা কবুল করেছে বলে পুলিসের দাবি। তাদের সঙ্গে আরও কয়েকজন চুরিতে জড়িত বলে ধৃতরা পুলিসকে জানিয়েছে। শুক্রবার ধৃতদের বর্ধমান আদালতে পেশ করা হয়। চুরির মালপত্র উদ্ধারের জন্য এবং বাকি জড়িতদের হদিশ পেতে ধৃতদের ৭ দিন নিজেদের হেফাজতে নিতে চেয়ে আদালতে আবেদন জানায় পুলিস। ধৃতদের ৩ দিন পুলিসি হেফাজতে পাঠানোর নিের্দশ দেন ভারপ্রাপ্ত সিজেএম মণিকা চট্টোপাধ্যায় (সাহা)।
শনিবার ডি এস পি (হেড কোয়ার্টার) সৌভিক পাত্র জানিয়েছেন, ধৃতদের নিজেদের হেপাজতে নিয়ে পুলিশ জানতে পারে বর্ধমান শহরের কাঁটাপুকুর বেনফেড গলির একটি গোডাউনে চুরির সামগ্রী রাখা রয়েছে। এরপরই সেই গোডাউনে পুলিশ হানা দেয়। সেখান থেকে প্রায় ২০০০ কেজি অ্যালুমিনিয়াম সামগ্রী, ১২০ টি মোবাইল টাওয়ারের ব্যাটারি, ২০০ কেজি তামা ও পিতল, ৫০০ কেজি রাবার কেবল, ২৫০ কেজি লোহা উদ্ধার হয়েছে বলে জানিয়েছেন সৌভিকবাবু। তিনি আরও জানিয়েছেন, শেষ ১০-১৫ দিনে বর্ধমানে বেশ কয়েকটি এই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ ৫ জনকে হেপাজতে নিয়ে চুরির সামগ্রীর রিসিভার হিসাবে আরও একজনকে পুলিশ গ্রেফতার করেছে। পাশাপাশি দেওয়ানদিঘীর কারখানা থেকে চুরি যাওয়া সামগ্রীর পুরোটাই উদ্ধার করতে পেরেছেন। এমনকি বেশি পরিমাণে সামগ্রী উদ্ধার হয়েছে। যেগুলি অন্য কোনও এলাকা থেকে চুরি করে এই গোডাউনে রাখা হয়েছিল বলে তারা জানতে পেরেছেন। এখন উদ্ধার হওয়া অতিরিক্ত সামগ্রীগুলো কোন এলাকার সে বিষয়ে খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানিয়েছেন, এটা একটা বড় অপরাধী দলের কাজ। হটুদেওয়ান এলাকার ঘটনায় পুলিশ তদন্ত করতে শুরু করে ৫ জনকে ধরতে পারলেও, এখনও ওই দলের ৫-৬ জন ধরা পরেনি বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। পুলিশ পুরো দলটাকেই ধরার চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন সৌভিক পাত্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here