অপহৃত হলেন শিলিগুড়ির চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট, ৬ কোটি টাকা মুক্তিপনের দাবি দুস্কৃতীদের

0
357

সংবাদদাতা, শিলিগুড়িঃ- অপহৃত হলেন শিলিগুড়ির এক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট। ওই ব্যাক্তির নাম কিষনকুমার আগরওয়াল। এদিন সকাল থেকেই বেপাত্তা শিলিগুড়ির ১৩ নম্বর ওয়ার্ডের পাঞ্জাবি পাড়া এলাকার বাসিন্দা কিষনকুমার বাবু। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কিষনকুমার বাবু খাল পাড়ার বাসিন্দা হলেও বর্তমানে তিনি পাঞ্জাবি পাড়ায় ফ্ল্যাট কেনেন। স্ত্রী এবং দুই ছেলেকে নিয়ে ওই ফ্ল্যাটেই থাকতেন কিষনকুমার বাবু। নিত্য দিনের মতো এদিনও কিষনকুমার বাবু সকাল বেলায় নিজের কাজে বেরিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎই দুপুর ১ টা থেকে তাঁর ফোন সুইচ অফ হয়ে যায়। এবং এও জানা গেছে, সকাল ১১ টার পর থেকে কিষনকুমার বাবু নিজের হোয়াটস অ্যাপও দেখেন নি। এমনকি রাত ১১ টা বেজে গেলেও কিষনকুমার বাবু বাড়িতে না ফেরায় তাঁর পরিবারের লোক চিন্তিত হয়ে পড়ে। কিন্তু রাত বাড়লেই কিষনকুমার বাবুর বাড়ির ফোনে দুস্কৃতী রা ফোন করে ৬ কোটি টাকার মুক্তিপন চেয়ে বসে। তখনই বাড়ির লোক বুঝতে পারে কিষনকুমার বাবু কে অপহৃত করা হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে তাঁর পরিবারের লোক শিলিগুড়ি থানায় অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেয়। পরিবারের লোকের অভিযোগ তাদের কাছে ফের একটা অজানা নাম্বার থেকে ফোন আসে। এবং তাদের শাঁসিয়ে দুস্কৃতীরা বলে যে, যেন তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ না করতে। এবং দুস্কৃতীদের তরফ থেকে এও হুমকি দেওয়া হয়, ওই ৬ কোটি টাকা না দিলে কিষনকুমার বাবু কে তারা ছাড়বে না। কিন্তু হুমকি দেওয়া সত্বেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। এরপর শিলিগুড়ি কমিশনারের নির্দেশে এসিপি ডিডি রাজেন ছেত্রীর নেতৃত্বে জোরদার তদন্ত শুরু হয়। যে দুটো নাম্বার থেকে ফোন এসেছিল সেগুলির টাওয়ার লোকেশান ট্রাক করার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ বিভাগ। পেশাগত শত্রুতা নাকি ব্যক্তিগত ঝামেলার জন্য কি এই অপহরণ তা নিয়ে পুলিশও খানিকটা ধন্দে রয়েছে। এই অপহরনের খবর পেয়ে এলাকার তৃণমূলের জেলা সভাপতি রঞ্জন সরকার, বিজেপির জেলা সভাপতি প্রবীন আগরওয়াল এবং স্থানীয় কাউন্সিলার মানিক দে। এরা প্রত্যেকেই তাড়াতাড়ি কিষনকুমার বাবু কে খুঁজে বের করার নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশ বিভাগ কে। কিন্তু একটা রহস্য থেকেই যাচ্ছে, অপহরন কারীরা কি ভাবে জানতে পারল কিষনকুমার বাবুর পরিবার পুলিশ কে এই বিষয়টি জানিয়েছে। তাহলে কি দুস্কৃতীরা আশেপাশেই আছে। প্রবীন বাবু বলেন, “এই ঘটনা থেকেই পরিস্কার কিষনকুমার বাবুর পরিবারের ওপর কেই না কেউ নজর রাখছে”। পুলিশ অবশ্য এই ঘটনার বিষয়ে জোরদার তদন্ত করছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here