ব্যাপক রদবদল করেও বিরোধীদের দখলে থাকা দুর্গাপুরে দুটি আসনে জয় পাওয়া তৃণমূলের অসম্ভব এমনই অভিমত রাজনৈতিক মহলের

0
2308

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- ২০২১ এ বিধানসভা ভোটকে পাখির চোখ করে তৃণমূল সুপ্রিম দলের ব্যাপক রদবদল ঘটালেন। অন্যান্য জেলার পাশাপাশি পশ্চিম বর্ধমান জেলায়তেও দলনেত্রী রদবদল করলেন। ভি শিবদাসনকে সরিয়ে মন্ত্রী মলয় ঘটককে করলেন দলের চেয়ারম্যান। ভি শিবদাসনকে রাজ্যের সাধারন সম্পাদক মন্ডলীতে নিয়ে গেলেন দলনেত্রী। জেলার যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি করা হল রুপেশ যাদবকে। আর আসানসোলে শ্রমিক নেতা হরেরাম সিংকে এবং দুর্গাপুরে কংগ্রেস বিধায়ক বিশ্বনাথ পাড়িয়ালকে দলের কোঅর্ডিনেটরের পদ দেওয়া হল। আর জেলা সভাপতির পদে রয়ে গেলেন জিতেন্দ্র তেওয়ারি। অন্যদিকে জেলার পর্যবেক্ষক পদ থেকে কর্ণেল দীপ্তাংশু চৌধুরীকে সরিয়ে দেওয়া হল। অবশ্য পর্যবেক্ষকের পদটিই বিলুপ্তি ঘটালেন দলনেত্রী। এদিকে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, কয়েকজন নেতাকে কিছু দায়িত্ব দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কৌশলে বেঁধে রাখা হল, যাতে তারা দলত্যাগ কিংবা দলের মধ্যে ঘোঁট পাকাতে না পারেন। অপরদিকে রাজনৈতিক নেতা কর্মীরা সবাই জানেন, জেলার সভাপতি পদটিই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর চেয়ারম্যান পদটি অলংকৃত পদ। এতদিন ওই চেয়ারম্যান পদে ভি শিবদাসন ছিলেন। তখন দলে ভি শিবদাসনবাবুর কি ভূমিকা এবং গুরুত্ব ছিল, তা তৃণমূলের নেতা কর্মীরা জানেন। দলে কোনও সমস্যার ক্ষেত্রে জেলার যা সিদ্ধান্ত নেওয়ার তা জেলা সভাপতি নেন। আর কোঅর্ডিনেটর পদটি একেবারে নতুন পদ। ওই পদের সঠিক দায়িত্ব এবং সঠিক কি কাজ তা কেউ জানেন না। অনেকে মনে করছেন, গত কয়েক বছর ধরে বিশ্বনাথবাবুকে জেলার তৃণমূল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি করা হয়েছে। কিন্তু এতো বড় এবং বিশাল গুরুত্বপূর্ণ পদ পেয়েও বিশ্বনাথবাবু কোনও কাজ করতে পারেননি। বলা যেতে পারে, তাকে কোনও কাজ করতে দেওয়া হয়নি। তিনি বারবার বাধাপ্রাপ্ত হয়েছেন। গ্রাফাইট কারখানার আন্দোলন একটা জলজ্যান্ত উদাহরণ। যে দল এখন রাজ্যে ক্ষমতায় আসীন। সেই দলের শ্রমিক ইউনিয়নের জেলা সভাপতিকেই কারখানার ভেতর ঢুকতে না দিয়ে গেটের বাইরে পাঁচ ঘন্টা বসিয়ে রাখা হয়। এই যখন অবস্থা, তখন কোঅর্ডিনেটর পদে বসে তিনি দলের মধ্যে কতটা গ্রহণযোগ্যতা পাবেন, তা নিয়েই সন্দেহের দানা বাঁধছে। অবশ্য অনেকে মনে করছেন, ২০২১ বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুর পশ্চিম আসনে দলের প্রাথী পদের তিনি দাবিদার না হতে পারেন, তারজন্যই আগেভাগেই তাকে কোঅর্ডিনেটর পদে বসানো হল। এখন এই কোঅর্ডিনেটর পদটি ‘মাথায় দেয়, না গায়ে মাখে’ তা এখনো কেউ জানেন না। তাই এই পদে আসীন হয়ে তিনি তার কাজের গণ্ডি কতটা বিস্তার করতে পারবেন তা নিয়েও হাজারো প্রশ্ন রয়েছে। এমনিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের অবস্থা ভালো নয়। গত ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে দুর্গাপুরে দুটি আসনেই এবারও তৃণমূলের হার নিশ্চিত, এমনটাই ধারণা রাজনৈতিক মহলের। শিল্পাঞ্চলে দলের হাল ফেরাতে এই মুহুর্তে তেমন কোনও যোগ্য নেতা চোখে পড়ছে না। যার নেতৃত্ব সবাই মেনে নেবে এবং চলবে। এই রদবদলের ফলে শিল্পাঞ্চলে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব আদৌ কমবে এমনটাও মনে করছেন না রাজনৈতিক মহল। বরং গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব বাড়বে। ২০১৬ বিধানসভা নির্বাচনে দুর্গাপুরে দুটি আসনে বিরোধীরা জয়লাভ করে। এই দুটি আসনে তৃণমূলকে জয় পেতে হলে, এমন প্রার্থী দিতে হবে যিনি কোনও গোষ্ঠীর হবেন না। এবং যিনি সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য থাকবেন। নিজেস্ব ক্যারিশ্মায় মানুষের মন জয় করতে পারবেন। কিন্তু এই মুহূর্তে দুর্গাপুরের নেতাদের মধ্যে এমন কেউ নেই যিনি তৃণমূলকে দুটি আসনে জয় এনে দিতে পারেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here