অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” লেনদেনের ‘এক্সেল শিট’ দেখে চক্ষু চড়কগাছ আয়কর ও এনফর্সমেন্টের আধিকারিকদের

0
1669

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- গত বৃহস্পতিবার দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ায় পা রাখার সাথে সাথে গোটা রাজ্য জুড়ে জোর তল্লাশি চালান একযোগে সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা। যৌথ অভিযান চালানো হয় অবৈধ কয়লা মাফিয়া ও গরু পাচার চক্রের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। রাজ্যে প্রায় ২৫ টি জায়গায় একযোগে তল্লাশি চালানো হয়। রাজ্য সরকারের পুলিশকে কোন কিছু না জানিয়েই , আচমকাই কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে অভিযান চালায় সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকদের দল। আসানসোল, পুরুলিয়া, রানীগঞ্জ, বাঁকুড়া সহ দুর্গাপুরে ও অবৈধ কয়লা পাচার কাণ্ডে চালানো হয় জোর তল্লাশি।

আয়কর দপ্তর এর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে ওই তল্লাশি অভিযানে অবৈধ কয়লা পাচার সিন্ডিকেটের মাথা “লালা’র” কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে বেশকিছু নথিপত্র ও এক্সেল সিটের লেনদেনের তথ্য। অভিযানের সময় আটক করা “লালা’র” এক সাগরেদের মুখ থেকেই পাওয়া যায় সমস্ত তথ্য, যা দেখে চক্ষু চড়কগাছ হয় আয়কর ও এনফর্সমেন্টের আধিকারিকদের। জানা গেছে শুধুমাত্র পুরুলিয়া ওই কুখ্যাত কয়লা মাফিয়ার বাসস্থানের আশেপাশের দুটি থানাতেই তাকে মাসোহারা দিতে হতো প্রায় ছয় থেকে সাত কোটি টাকার ওপর । কয়লা মাফিয়া “লালা’র” সাগরেদকে জেরা করে আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন শুধু কয়লা নয়, বালি, আকরিক লোহা ও কারখানা সিন্ডিকেটে সংক্রান্ত লেনদেনও হয়েছে কয়েক শ’ কোটি টাকার বলে জানা গেছে।

অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” কার্যালয়ে হানা দিয়ে যে কম্পিউটার ‘এক্সেল সিট’ উদ্ধার করা হয়েছে তাতে নাম রয়েছে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি,ও প্রশাসনের আধিকারিকদের সূত্র থেকে জানা গেছে। শুধু যে দেশেই এই অবৈধ টাকার লেনদেন হয়েছে তা নয়, এক্সেল সিট অনুসারে টাকার লেনদেন বিদেশ এর একাউন্টে ও হয়েছে। অবৈধ লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়কর আধিকারিকরা যাচাই করছেন বলে সূত্র থেকে জানা গেছে ।

কয়েক শ’ পাতার অবৈধ লেনদেন সংক্রান্ত এই কম্পিউটার ‘এক্সেল শিট’ যে সমস্ত লেনদেনের তথ্য রয়েছে তা আয়কর দপ্তর এর আধিকারিকদের বেশ কয়েকদিন লাগবে পরীক্ষা ও তদন্তের কাজে করতে। ইতিমধ্যেই আয়কর দপ্তর এর পক্ষ থেকে সিবিআইকে অনুরোধ করা হয়েছে যাতে তারা এই বিরাট অংকের লেনদেনের ‘এক্সেল সিটি’ তাদের মতন করে পরীক্ষা করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।

গত বৃহস্পতিবার আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র”কার্যালয় ও বাড়িতে নোটিশ দিয়ে আসেন। তিন দিনের মধ্যে ওই কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া “লালা”কে আয়কর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট দপ্তরে হাজিরা দিতে বলা হয়েছিল বলে জানা গেছে। কারণ, আয়কর ও এনফর্সমেন্টের আধিকারিকদের তল্লাশি অভিযান এর সময় তার খোঁজ পাওয়া যায়নি।

এদিকে গত বৃহস্পতিবার দুর্গাপুর স্টিল টাউনশিপের সি-জোনের যে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়ার বাড়িতে ও কার্যালয়ে আয়কর দপ্তরের তল্লাশি চালানো হয়েছিল, তিনি এখন বাড়িতেই রয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে । গত কাল এলাকাতেই একটি সামাজিক অনুষ্ঠানে তাকে দেখা গেছে বলে জানা যাচ্ছে ।

আয়কর দপ্তরের একটি সূত্র থেকে জানা গেছে আয়কর দপ্তর এর একটি বিশেষ টিম বাজেয়াপ্ত করা কয়েক’শ পাতার ওই ‘এক্সেল সিটে’ যেসব পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি, ও প্রশাসনের কর্তাদের নাম রয়েছে তাদের লেনদেনের তথ্য সংক্রান্ত সমস্ত তথ্য যোগাড় করার কাজ করছে। খুব শিগগিরই হয়তো সেই সব ব্যক্তিদেরকে নোটিশ পাঠিয়ে আয়কর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকতে পারে বলে জানা যাচ্ছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here