অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” সব ঠিকানায় একযোগে হানা সিবিআই, আইকর ও এনফর্সমেন্টের

0
3615

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- আজকেই দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এলেন বাঁকুড়ায়। আর ঠিক তখনই একযোগে শুরু হয়ে গেল কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান। কয়লা মাফিয়া ও পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা” নামে পরিচিত ব্যক্তির সমস্ত ঠিকানায় একযোগে তল্লাশি চালালো সি বি আই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। রাজ্য সরকারের পুলিশকে কোন কিছু না জানিয়েই আচমকাই আজ সকালে একযোগে কলকাতা সহ কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া “লালা’র” সল্টলেট, শেক্সপিয়ার সরণি, ৩১ নং গণেশ চন্দ্র অ্যাভিনিউ, সরবড়ি মোড় ও পুরুলিয়া স্থিত ভামুরিয়ার কার্যালয়ে হানা দেয় দিল্লির সিবিআই,ইডি ও আইটির টিম। এই অভিযানে দিল্লির টিমের সঙ্গে যোগ দিয়েছে ঝাড়খণ্ড পুলিশের টিমও। প্রায় ৭ টি ঠিকানায় তল্লাশি শুরু করে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা আধিকারিকরা। দুর্গাপুর, আসানসোল, পুরুলিয়া, রানিগঞ্জেও কয়লা পাচারকাণ্ডে চালানো হয়েছে তল্লাশি।

জানা গেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার তল্লাশির সময় তারা বেশ কিছু আপত্তিকর কাগজপত্র ও অনেকগুলি মোবাইল ফোন কয়লা মাফিয়া ও পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” সাগরেদদের কাছ থেকে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। আটক করা হয়েছে বেশ কয়েক জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। সম্প্রতি কয়লা কারবারের বেতাজ বাদশা “লালা’র” নাম গোটা রাজ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই রাজ্যেই নয় এই পাচার কাণ্ডে যুক্ত রয়েছে ঝাড়খন্ড, বিহার ও উত্তরপ্রদেশের বেশকিছু কয়লা মাফিয়া নামও । এই ঘটনায় আগেই ঝাড়খন্ডের ধানবাদে একটি কেস রুজু করা হয়েছিল। ধানবাদ পুলিশও এই তল্লাশিতে সাহায্য করছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাকে বলে জানা যাচ্ছে।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে দুর্গাপুরে “লালা’র” আর এক সাগরেদের নামে একটি হোটেল কেনা হয়েছে সিটি সেন্টারের অভিজাত এলাকায়। সেই সাগরেদের ও সমস্ত ব্যাপার খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা এই তল্লাশিতে জানার চেষ্টা করছেন কে বা কারা এই কয়লা মাফিয়াদের সাথে যুক্ত রয়েছেন। কোন কোন পুলিশ অফিসার, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক নেতা এই অবৈধ কয়লা পাচার কাণ্ডে যুক্ত আছেন তাদেরও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

অন্যদিকে রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজ একটি সম্মেলনে জানিয়েছেন “আসানসোল, পুরুলিয়া, দুর্গাপুরে রাজ্য পুলিসকে না জানিয়ে তল্লাশি হচ্ছে শুনছি। কেন্দ্র থেকে নিজেদের পুলিস এনে তল্লাশি করাচ্ছে৷ রাজ্যের অফিসারদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। আইএএস, আইপিএস অফিসারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। বলছে আইটি, ভিজিল্যান্স কে দিয়ে ধরিয়ে দেবে ৷ রাজ্যে সরকার কেন্দ্রীয় সরকারের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে না তেমন কেন্দ্র সরকারও রাজ্যে সরকারের ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here