কয়লা মাফিয়া “লালা’র” বাড়ি ও অফিস থেকে বাজেয়াপ্ত ৭.৫ কোটি টাকা নগদ ও বহু স্বর্ণ অলংকার। ১৫০ কোটি টাকার ভুয়া লগ্নির হদিশ, তদন্তে সিবিআই

0
1803

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- ১০ দিন আগে দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বাঁকুড়ায় যেদিন এসেছিলেন সেইদিনই গোটা রাজ্য জুড়ে তল্লাশি চালিয়ে ছিল একযোগে সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা। ওই যৌথ অভিযান চালানো হয় মূলত অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের মাফিয়া ও গরু পাচার চক্রের সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। প্রায় ২৫ টি জায়গায় রাজ্যের একযোগে তল্লাশি চালানো হয় । রাজ্য সরকারের পুলিশকে কোন কিছু না জানিয়েই আচমকা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সাথে নিয়ে অভিযান চালায় সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট এর আধিকারিকদের দল। আসানসোল, পুরুলিয়া, রানীগঞ্জ, বাঁকুড়া সহ দুর্গাপুরে ও অবৈধ কয়লা পাচার কাণ্ডে চালানো হয় জোর তল্লাশি।

আয়কর দপ্তর এর একটি সূত্র থেকে জানা গেছে ওই তল্লাশী অভিযানে অবৈধ কয়লা পাচার সিন্ডিকেটের মাথা “লালা’র” বাড়ি ও অফিস থেকে উদ্ধার হয়েছিল বেশ কিছু আপত্তিকর নথিপত্র ও কয়েক শ’ পাতার কম্পিউটার ‘এক্সেল শিট’ যাতে তার সমস্ত লেনদেনের তথ্য রয়েছে। ওই অভিযান চলাকালীন আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা মোট সাড়ে সাত কোটি টাকা নগদ, বহু স্বর্ণ অলংকার বাজেয়াপ্ত করেন। প্রায় দেড়শ কোটি টাকার ভুয়া লগ্নির হদিস পাওয়া যায়। কয়লা মাফিয়া “লালা’র” এক সাগরেদকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা জানতে পেরেছেন শুধু কয়লা নয় বালি, আকরিক লোহা ও কারখানা সিন্ডিকেট সংক্রান্ত লেনদেন হয়েছে কয়েক শ’ কোটি টাকার বলে জানতে পারা গেছে। সূত্র থেকে জানা গেছে অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” কার্যালয়ে হানা দিয়ে যে কম্পিউটার ‘এক্সেল সিট’ উদ্ধার করা হয়েছে তাতে নাম রয়েছে বেশ কয়েকজন পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি,ও প্রশাসনের আধিকারিকদের । শুধু যে দেশেই এই অবৈধ টাকার লেনদেন হয়েছে তা নয়, এক্সেল সিট অনুসারে টাকার লেনদেন বিদেশ এর একাউন্টে ও হয়েছে। অবৈধ লেনদেন সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য আয়কর আধিকারিকরা যাচাই করছেন বলে সূত্র থেকে জানা গেছে ।

ইতিমধ্যেই “লালা’র” কম্পিউটারের এক্সেল সিট থাকা বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী, পুলিশ অফিসার, রাজনৈতিক নেতা, বিশিষ্ট ব্যক্তি ও অন্যান্য প্রশাসনের আধিকারিকদের কে নোটিশ করে তাদেরকে আয়কর দপ্তর এ হাজির হতে নির্দেশ দিয়েছে সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে। আয়কর দপ্তর এর পক্ষ থেকে সিবিআইকে অনুরোধ করা হয়েছিল যাতে তারা এই বিরাট অংকের অবৈধ লেনদেনের এক্সেল শিট তাদের মতন করে পরীক্ষা করে অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণ করেন। সেইমতো আজ সিবিআই সূত্র থেকে আয়কর দপ্তর এর কাছ থেকে সমস্ত অবৈধ কয়লা পাচার সংক্রান্ত ফাইল চেয়ে পাঠানো হয়েছে এবং তাতে সমস্ত বিবরণ ও সমস্ত ব্যক্তির নাম ও তল্লাশি অভিযান এর সময় কি পাওয়া গিয়েছিল তার বিবরণ দিতে বলা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে অবিলম্বে সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট একযোগে ওই সমস্ত অবৈধ লেনদেন ও এক্সেল সিটে থাকা সমস্ত ব্যক্তিদের কে আলাদা আলাদা করে জেরা করে এই অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে এর আসল তথ্য বার করার চেষ্টা চালাবেন।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে “লালা’র” কম্পিউটারের এক্সেল সিট থাকা পুরুলিয়ার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক, বাঁকুড়ার এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিক, রানীগঞ্জের এক পুলিশ অফিসার, কলকাতা ও দুর্গাপুরের বেশ কয়েকজন শিল্পপতির বিরুদ্ধে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করেছে সিবিআই, আয়কর দপ্তর ও এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আধিকারিকরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here