চতুরঙ্গ মাঠ অশালীনতার লীলাভূমি : বসছে সিসি টিভি, উদাসীন অনিন্দিতাকে নিয়ে বিরক্ত সবাই

0
2401

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- বেলেল্লাপনা আর অশালীনতার লীলাভূমি হয়ে উঠেছে শহরের প্রাণকেন্দ্র সিটিসেন্টারের বহুল পরিচিত ‘চতুরঙ্গ’ মাঠ। যেখানকার দুর্গাপুজো দেখতে বিভিন্ন জেলা শহর থেকে শরদোৎসবের সময় কাতারে কাতারে ভিড় করে মানুষ, সারাটা বছর সেই মাঠই অশালীন আর অসামাজিক কাজের খোলা ময়দান। বহিরাগত যুবক যুবতীদের উচ্ছল উদ্দাম খোলামেলা মেলামেশা আর আপত্তিকর অঙ্গভঙ্গিতে তিতবিরক্ত পাড়ার মহিলারা এবার কোমর বাঁধছেন প্রতিরোধ গড়ার জন্য।

রবিবার বিকেলে সিটিসেন্টারের ননকোম্পানী হাউসিং পাড়ার মহিলারা চতুরঙ্গ মাঠেই জড়ো হবেন ‘বহিরাগতদের’ অবাধ দৌরাত্ম্য ঠেকানোর জন্য। সেই মহিলাদের একাংশ ক্ষোভের সাথে বললেন ” ভাবতে রীতিমত লজ্জা লাগে, এ পড়ায় নাকি বড় বড় নেতা, আমলা, ডাক্তার, উকিলদের বাস। আর সেখানেই দিনের পর দিন বাইরে থেকে বেয়াড়া ছেলেমেয়েরা মোটর বাইকে এসে অসামাজিক কাজকর্ম করছে। সবাই দেখেছ কিন্তু মুখে টুঁ – শব্দ টি নেই।” তাদের আরও অভিযোগ “এখানে বসে মদ – গাঁজার আসর ও চলে। সবাই জানে বলেনা কিছুই।”

প্রায় দু’সপ্তাহ আগেই স্থানীয় এক গৃহবধূ কয়েক জোড়া যুবক- যুবতীর উৎশৃঙ্খলতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে বহিরাগতদের দ্বারা অপমানিত হন। পাড়ারই এক প্রৌঢ়কে কয়েকজন কথা কাটাকাটির সময় ধাক্কা মেরে পালায়। মাঠে গাড়ি নিয়ে ঢোকা বারণ করায় এক কলেজ শিক্ষককেও কুকথা শুনতে হয়। নন কোম্পানির গৃহবধূ রিতা রাহা বলেন “অনেক ধাক্কা খেয়ে আমরা এটা বুঝে গেছি, আমাদের সমস্যা আমাদেরই মেটাতে হবে। তাই রবিবার পাড়ার মহিলারা মিলে ওই মাঠেই মিটিং ডেখেছি। আটকাতে হবে আমাদেরই।”

এদিকে পাড়ার অতিষ্ঠ বাসিন্দাদের কাছ থেকে মাঝে মধ্যেই উটকো লোকের অভব্য আচরণের অভিযোগ পুলিশের কাছেও আসে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে রুটিন মাফিক মাঠ ও সংলগ্ন এলাকা গাড়ি ঘুরিয়ে দায়িত্ব পালন করে পুলিশও। সিটিসেন্টারেরই এক পুলিশ আধিকারিকের কথায়,” চতুরঙ্গ মাঠ নিয়ে হাজারো সমস্যা। ওখানকার ক্লাবের ছেলেরা বা পাড়ার লোকেরা চুপচাপ বসে থাকবে আর যতো হয়রানি আমাদের। ” গোটা বিষয়টা নিয়ে তিতবিরক্ত পুলিশ প্রশাসন এবার ওই মাঠ ঘিরে চারটি সিসি টিভি ক্যামেরা বসানোর উদ্যোগ নিয়েছে। সম্ভবত সামনের সপ্তাহ থেকেই সেগুলি চালু হয়ে যাবে। ননকোম্পানি হাউজিং অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি পীযূষ মজুমদার এদিন বলেন” রেগুলার পুলিশকে বলছি। দু এক গাড়ি পুলিশও আসছে। এভাবে সমস্যার সমাধান হচ্ছে না। এটা একটা বিনোদন পার্ক হয়ে গেছে।” তিনি বলেন “সিসি টিভি ক্যামেরা বসিয়ে দেখা যাক পরিস্থিতি কতটা শোধরানো যায়।” শুনুন কি বলছেন পীযূষ মজুমদার মহাশয়।

এলাকার বাসিন্দাদের ক্ষোভ স্থানীয় কাউন্সিলারের অদক্ষতা এবং উদাসীনতা নিয়ে। পীযূষবাবু একা নন, ২২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর অনিন্দিতা মুখার্জির দায়সারা মনোভাবে কার্যত বিরক্ত ও হতাশ সিটিসেন্টারের বাসিন্দারা। বিক্ষুব্ধ মহিলাদের একাংশ বললেন” উনি আছেন ওনার মতো। খেয়াল পড়লে মাঝে মধ্যে এদিকে এসে পাড়া বেড়িয়ে ভিড়িঙ্গী চলে যান।”

কি বলছেন কাউন্সিলর অনিন্দিতা? এখুনি কিছুই বলছেন না উনি। শনিবার অটটা অবধি টানা ন’বার চেষ্টা করেও সিটিসেন্টারের কাউন্সিলরকে ধরাই যায় নি ফোনে। স্থানীয়দের অনেকেরই বক্তব্য “ওনার পছন্দের নম্বর না হলে ফোনই ধরেন না উনি।”

তাই কি?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here