রাজ্য জুড়ে চড়ক সংক্রান্তির টুকরো চিত্র

0
760

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ চড়ক সংক্রান্তি তথা চৈত্র সংক্রান্তি। বহু প্রাচীন কাল থেকেই এই চড়ক সংক্রান্তি বাংলার বিভিন্ন প্রান্তে প্রান্তে উদযাপিত হয় নানান অনুষ্ঠানের মধ্যে দিয়ে। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চৈত্র মাসের শেষ দিনে চড়ক সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে পূজা-অর্চনা ও মেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। তেমনি দুর্গাপুরের কুরুরিয়াডাঙ্গা এলাকাতেও রবিবার চড়ক সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে মেলা ও উৎসবের আয়োজন করা হয়। চলে বাজি পোড়ানো। মূলত চড়ক সংক্রান্তি হল শিবের উপাসনা। তাই এই সংক্রান্তির আগের দিনে বহু মানুষ নিরামিষ ও ফলাহার করে চৈত্রের শেষ দিনে শিবের আরাধনা করেন। তবে দুর্গাপুরের পাশপাশি নদীয়া জেলাতেও চড়ক সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে উৎসবের আবহ দেখা যায়। বহু বছর ধরেই নদীয়ার শান্তিপুরের বিভিন্ন এলাকায় চড়ক সংক্রান্তি উদযাপিত হয় উন্মাদনার সঙ্গে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল রামনগর পাড়া, থানার মাঠ, বেড় পাড়া, চড়তলা সহ আরও বেশকয়েকটি জায়গা। তবে এইবছর শান্তিপুর রামনগর পাড়ার চড়ক সংক্রান্তি ৫০ বছরে পদার্পন করায় সেখানে উৎসবের আবহ ছিল তুলনামূলক বেশি। চড়ক উপলক্ষ্যে রবিবার রামনগর পাড়ায় মানুষের ঢল নামে। মূলত গ্রামাঞ্চলে এই উৎসবে এলাকার মানুষ জন নররাক্ষস, শিব, দূর্গা সহ বিভিন্ন রূপে সজ্জিত হয়ে খেলা প্রদর্শন করেন। তাছাড়া বিভিন্ন জায়গায় বাউল গান, নামগানের আসরও বসে। রবিবার চড়ক অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসাবে সেখানে উপস্থিত ছিলেন শান্তিপুর পৌরসভার পৌরপতি শ্রী অজয় দে মহাশয়| মূলত চৈত্র সংক্রান্তি বা চড়ক সংক্রান্তির উদ্ভব মুঘল আমল থেকে। জানা যায়, সেইসময় প্রজাদের কাছ থেকে রাজস্ব আদায় ও অন্যান্য হিসেব সংক্রান্ত বিভিন্ন তথ্য তুলে রাখার জন্য নির্দিস্ট একটি দিনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সেই প্রয়োজনীয়তা উপলব্ধি করেই দক্ষ রাজার এক কন্যা চিত্রার নাম অনুসারে চৈত্র মাসের নামকরন হয়। এরপর চৈত্রমাসের শেষদিনের মধ্যে পুরনো সমস্ত রাজস্বের হিসেব মিটিয়ে নতুন খাতা শুরু করার প্রথা চালু হয়। তারপর থেকেই চলে আসছে এই চড়ক সংক্রান্তি উদযাপনের রীতি। চড়ক পুজোর রীতি হল পুজোর দিনে জলাশয় থেকে চড়ক গাছ তুলে এনে কোনও এক জায়গায় বাঁধা হয়। এরপর সেই চড়ক গাছের মাথায় বাঁশ বেঁধে কখনও দুমাথা আবার কখনও আট মাথা তৈরী করা হয়। এই চড়ক উপলক্ষ্যে রাজ্যের বিভিন্নব প্রান্তেই মেলা বসে। জাতি, ধর্ম নির্বিশেষে সকল মানুষ এক হয়ে মেলার আনন্দ উপভোগ করেন।