চিঠি পড়ে চোখে জল মমতারঃ একদিনেই সরকারি চাকরি কলেজ শিক্ষকের বিধবা স্ত্রী’র

0
8366

বিশেষ সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- একটি দিনেই কপাল খুলল জেলার দুই বিধবার। একজন পেলেন সরকারি চাকরি আর অন্যজন ফিরে পেলেন “জীবিত”র তকমা । আর এই সবই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সৌজন্যে। বুধবার।

এদিন রবীন্দ্র ভবনে প্রশাসনিক বৈঠকে যাওয়ার আগে বাঁকুড়া সার্কিট হাউজে মুখ্যমন্ত্রীর হাতে আছে এক সদ্য বিধবা যুবতীর চোখের জলে ভেজা কাতর আবেদন । বেলিয়াতোড়ের টুম্পা কুন্ডু নামে ওই বিধবা ছিলেন উদয় ভানু কুন্ডু নামে এক যুবকের স্ত্রী। উদয় ভানু হুগলির বঙ্গাই আঘোরি কামিনী কলেজে সহ শিক্ষক হিসেবে যোগ দেওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে মারা যান । গত ৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯। তখন তার ছোট মেয়ের বয়স মাত্র ১৩ দিন। উদয় ভানুর চাকরি যেহেতু অল্পদিনের তাই সরকারি সমস্ত রকম সুযোগ সুবিধা সব দরজাই বন্ধ হয়ে যায় বিধবা টুম্পা আর তার দুই শিশু কন্যার জন্য।

” গত কয়েক মাস ওই বিধবা দরজায় দরজায় ঘুরেছেন। কখনো সাহায্য পাননি। ওর চিঠি পড়তে পড়তে আমার চোখে জল এসে গিয়েছিল ভাবছিলাম– তবে আর এলাকায় জনপ্রতিনিধি থাকার দরকার কি? যদি বিপদে , সমস্যায় মানুষের পাশে না পাওয়া যায়” এদিন বলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যেমন ভাবা , তেমনি কাজ । তিনি প্রশাসনিক কর্তা ব্যক্তিদের সামনে জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বলে বসেন ” জানেন তো একজন জনপ্রতিনিধি দুঃস্থ, অসহায় মানুষকে সাহায্য করার জন্য বছরে তিনটি করে সরকারি চাকরি দিতে পারেন। এমন কোটা আছে।”

উল্লেখ্য, বেলিয়াতোড়ের টুম্পার জীবনযন্ত্রণার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে পাঠিয়েছিলেন বর্যরা বিধায়ক সুজিত চক্রবর্তী। তিনি বলেন ” আমিই ওই মহিলার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে রেফার করি । আজ উনি সহৃদয়তার সাথে বিষয়টি দেখলেন। ধন্যবাদ ওনাকে। ” বুধবারই জেলাশাসক উমাশঙ্কর এস কে মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দেন একদিনের মধ্যেই টুম্পার সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করা হয়। জেলাশাসক বলেন “জেলা পূর্ত দপ্তরে একদিনই ওই মহিলাকে নিয়োগ করা হলো।

রানিবাঁধর মৌলা গ্রামের আরেক বিধবা প্রমিলা সদ্দার ৩০ বিঘা জমির মালিক। ঘুষ তন্ত্রের জেরে প্রমীলাকে রাণীবাঁধ ব্লক ভূমি রাজস্ব দপ্তর খাতায়-কলমে “মৃত” দেখিয়ে তার সমস্ত জমি প্রমীলার ৫ আত্মীয়র নামে রেকর্ড করা হয়। দুই ছেলে তিন মেয়ে নিয়ে বড্ড কষ্টে দিন গুজরান করেন প্রমিলা । অথচ সরকারি খাতায় তিনি “মৃত” আর তার সম্পত্তি ২০১৯ র ১১ ই নভেম্বর দখল নায় তারই আত্মীয়রা। খাতড়ার পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি জয়ন্ত মিত্র বুধবার বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর নজরে আনেন । রেগে অগ্নিশর্মা মুখ্যমন্ত্রী প্রমীলা সমস্ত নথি নিজের হাতে তুলে নেন আর জেলা শাসককে দুর্নীতির বিষয়ে দ্রুত তদন্ত শুরু করার নির্দেশ দেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here