দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের হোটেল ব্যবসায়ী কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া কি এবার সিবিআইয়ের জেরার মুখে ?

0
1061

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর শহরের ডিএসপি স্টিল টাউনশিপের সি-জোন এলাকার বাসিন্দা কুখ্যাত কয়লা মাফিয়াকে কি এবার সিবিআইয়ের জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে ? একটি সূত্র থেকে জানা গেছে বাঁকুড়ার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও এর সিবিআই দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার পরেই ডাক পড়তে চলেছে কুখ্যাত এই কয়লা মাফিয়ার।

গত ৫ই নভেম্বর সকাল বেলায় অবৈধ কয়লা কাণ্ডের তদন্তে আয়কর দপ্তর এর একটি তদন্তকারী দল হানা দিয়েছিল দুর্গাপুর শহরের ডিএসপি স্টিল টাউনশিপের সি-জোন এলাকার ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে। কুখ্যাত ওই কয়লা মাফিয়ার বাড়িতে একটানা ২৮ ঘন্টা চলেছিল আয়কর দপ্তরের খানাতল্লাশি। তারপর থেকেই গা-ঢাকা দিয়েছিলেন কুখ্যাত ওই কয়লা মাফিয়া। ওই ব্যবসায়ীর সিটি সেন্টারের অফিস ও সিটি সেন্টারের অভিজাত এলাকায় একটি হোটেলেও তল্লাশি হয়। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে বেশ কয়েক মাস আগেই ওই ব্যবসায়ী সিটি সেন্টারের অভিজাত এলাকায় বহু পুরনো ও নামকরা একটি হোটেলটি কিনে নিয়েছেন। যদিও ওই হোটেল বিক্রি সংক্রান্ত বহু নথিতেই গলদ আছে বলে ওয়াকিবহাল মহলের শোনা যাচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক একাধিক রাজনৈতিক নেতার সাথেও আছে বলে জানা গেছে। কিছুদিন আগে কয়েক লক্ষ টাকা খরচা করে ওই ব্যবসায়ী সি-জোন এলাকায় একটি ক্লাব ঘর পুনর্নির্মাণ করেছেন বলে অভিযোগ।

একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা গেছে বহুদিন ধরেই কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া ও কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” ঘনিষ্ঠ ছিলো ওই ব্যবসায়ী। দুর্গাপুর, আসানসোল, বড়জোড়া, এলাকায় একাধিক কারখানায় তার অংশীদারি আছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে। ওই ব্যবসায়ীর ঘনিষ্ঠ বেশ কয়েক জনকে আটক করা হয়ে ছিল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। আয়কর দপ্তরের আধিকারিকরা ওই ব্যবসায়ীর সম্পত্তির হিসাব দেখে আবাক হয়ে যান। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সাধারণ এক শ্রমিকের ছেলে ওই ব্যবসায়ী। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা খুব বেশি নয়। কিছুদিন আগে পর্যন্ত যাকে সাইকেল নিয়ে রাস্তায় ঘুরে বেড়াতে দেখতে পাওয়া যেত। সে মাত্র কয়েক বছরের ভেতরে কি করে কোটি টাকার গাড়ি চেপে ঘুরছেন তা নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সিবিআই বলে একটি সূত্র থেকে জানা গেছে। কয়েক বছর আগেও এই ব্যবসায়ীকে একটি ছোট ঠিকাদারি সংস্থার চালাতে দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এখন তার চালচলন ও ওঠাবসা রীতিমতো চোখ ধাঁধানো। স্বভাবতই তদন্তকারী সংস্থার নজরে ওই ব্যবসায়ীর লেনদেন। কিভাবে ওই ব্যবসায়ী কিছুদিনের ভিতর কয়েক কোটি টাকার মালিক হলেন ও একাধিক দামি জমি, হোটেল ও সিটি সেন্টার আম্বুজা এলাকায় একটি বিশাল বাড়ি কিনলেন তা খতিয়ে দেখছে তদন্তকারী সংস্থা।

ইতিমধ্যে কুখ্যাত কয়লা মাফিয়া ও কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটে বেতাজ বাদশা “লালা’র” সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছে সি বি আই আদালত। ওই কয়লা মাফিয়ার সমস্ত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার কাজ শুরু করেছে তদন্তকারী সংস্থা। একটি সূত্র থেকে জানা গেছে দুর্গাপুরের সিটি সেন্টারের অবস্থিত ওই হোটেলটি ও বাজেয়াপ্তের তালিকায় রয়েছে। অবিলম্বে ওই হোটেলটিকে বাজেয়াপ্ত করার সিদ্ধান্ত নেবেন তদন্তকারী সংস্থা বলে সূত্র থেকে জানা গেছে।

উল্লেখ্য গত ৬ মাস ধরে গোটা রাজ্য জুড়ে যৌথ অভিযান তল্লাশি চলছে আয়কর, সিবিআই ও এনফর্সমেন্টের তদন্তকারী দলের। মূলত গরু পাচার ও অবৈধ কয়লা পাচার চক্রের সিন্ডিকেটের মাথাদের ধরার জন্যই এই অভিযান চালানো হচ্ছে রাজ্যজুড়ে। রাজ্য সরকারের পুলিশকে কোন কিছু না জানিয়েই আচমকাই চালানো হয়েছে তল্লাশি। গোটা রাজ্যে একাধিক ব্যক্তির ওপর নজর কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার বলে জানা গেছে। একযোগে কলকাতা, বাঁকুড়া, পুরুলিয়া, আসানসোল সহ দুর্গাপুর ও চলে ছিল তল্লাশি। ইতিমধ্যেই গোয়েন্দা সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন এনামুল হক ও পুরুলিয়ার নিতুড়িয়া থেকে “লালা’র” ঘনিষ্ঠ গুরুপদ মাঝি। এখনো পর্যন্ত গা-ঢাকা দিয়ে রয়েছেন অনেক ব্যবসায়ী। বাকি সমস্ত দোষী ব্যক্তিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে তল্লাশি চালাচ্ছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা বাহিনী।…………(প্রথম পর্ব)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here