অ্যাডমিট আসেনিঃ দুই পলিটেকনিক ছাত্রীর আত্মহত্যার হুমকি ঘিরে ধুন্ধুমার দুর্গাপুরের কলেজে

0
1998

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- পরীক্ষায় বসার অ্যাডমিট কার্ড দিচ্ছে না কলেজ, তাই আত্মহত্যার হুমকি দিল দুই ছাত্রী। এই ঘটনাকে ঘিরে মঙ্গলবার ধুন্ধুমার কান্ড দুর্গাপুরের বেসরকারি পলিটেকনিক কলেজে। দলে দলে কলেজ পড়ুয়ারা ক্লাশরুম থেকে বেরিয়ে কলেজের প্রশাসনিক ভবনের সামনে জড়ো হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষের “অন্যায়” সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তারা জোরদার শ্লোগান দিতে থাকে। কলেজটিতে বন্ধ হয়ে যায় পঠন পাঠন।

এদিকে দুই ছাত্রীর আত্মহত্যার হুমকিকে ঘিরে দুর্গাপুরের রাজেন্দ্রনাথ পলিটেকনিক কলেজ তো বটেই, চাঞ্চল্য ছড়ায় শহরের প্রশাসনিক স্তরেও। পরে, দুই ছাত্রীর সাথে কথা বলেন দুর্গাপুরের মহকুমা শাসক অনির্বাণ কোলে। খবর নিতে কলেজে পৌঁছায় কাঁকসা থানার পুলিশও।

দুর্গাপুরের গোপালপুরের রাজেন্দ্রনাথ পলিটেকনিক কলেজে মঙ্গলবার সকালে দুই ছাত্রী বৈশাখী রায় ও রিতু সিংকে ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়ায়। কলেজে ২০১৯ তে ভর্তি হওয়া পুড়ুয়াদের প্রথম সেমিষ্টার পরীক্ষা আসন্ন। তাই, রাজ্য সরকার নিয়ন্ত্রিত ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল স্টেট কাউন্সিল অফ টেকনিক্যাল এন্ড ভোকেশন্যাল এডুকেশন এন্ড স্কিল ডেভলপমেন্ট’ (ডব্লু.বি.এস.সি.টি.ভি.এ.এস.ডি.) এখন পরীক্ষার্থীদের জন্য অ্যাডমিট কার্ড দেওয়া শুরু করেছে। রাজেন্দ্রনাথ কলেজে সব ছাত্র ছাত্রীর অ্যাডমিট কার্ড এলেও অ্যাডমিট কার্ড এলেও বাদ পড়ে গেছে বৈশাখী, রিতু। তাদের প্রবেশিকা পত্র না আসায়, দুই ছাত্রী যখন কলেজের প্রশাসনিক কর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন, কলেজ তখন জানায় মাধ্যমিক পরীক্ষায় ওদের প্রাপ্ত নম্বর ৩৫ শতাংশের কম ছিল। তাই, রাজ্য সরকারের কারিগরী শিক্ষা নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি তাদের অ্যাডমিট কার্ড ইস্যু করেনি। কলেজ কর্তৃপক্ষ একথা জানানোর পরই দুই ছাত্রী দারুন ভাবে ভেঙে পড়ে। তাদের বাড়ি আসানসোলে। ছুটে আসেন তাদের অভিভাবকেরাও। কলেজ কর্তৃপক্ষের সাথে বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন তারাও। এরই মাঝে কলেজের অধ্যক্ষ থেকে শুরু করে অনান্য কর্তারাও তাদের পক্ষে কিছু করা সম্ভব নয় জানালে, দুই ছাত্রী ভেঙে পড়ে। তারা অনান্য ছাত্রছাত্রীও অভিভাবকদের সামনেই আত্মহত্যার হুমকি দেয়। এ খবর ছড়িয়ে পড়তেই ক্লাসরুম থেকে জড়ো হয় ছাত্রছাত্রীরা। বৈশাখী, রিতুর সাফ কথা, “যদি আমাদের মাধ্যমিকের নম্বর কমই ছিল, তবে এই কলেজ ভর্তির সময় আমাদের সে কথা জানায়নি কেন? কলেজ ভর্তিই বা নিল কেন?” তারা আরো দাবি করে, “আমরা জানতে পেরেছি অন্য একটি কলেজে ৩২ শতাংশ নম্বর পাওয়া ছাত্র ছাত্রীরা পরীক্ষায় বসেছে। তবে, আমাদের কলেজ আমাদের দায়িত্ব নাবে না কেন? শুধুই কি ব্যবসা করার জন্য আমাদের ভর্তি নেওয়া হয়েছিল?”

কলেজে অচলাবস্থা, দুই ছাত্রীর আত্মহত্যার হুমকির ঘটনায় নড়ে চড়ে বসে প্রশাসন। কলেজের চেয়ারম্যান জয়ন্ত চক্রবর্তী বলেন, “আমরা পরিস্থিতি মোকাবিলার চেষ্টা করছি”। তিনি জানান, “আমরা ওদের সব রকম দায় দায়িত্ব নিচ্ছি। দরকার হলে ওদের আই.টি.আই. করিয়ে তারপর পলিটেকনিক করাবো। ওদের জন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই নেব”।

দুর্গাপুর প্রশাসনের এক কর্তা জানান, “সরকার নির্ধারিত নম্বরের চেয়ে কম নম্বর পাওয়া ছাত্র ছাত্রীদের নিছক টাকা রোজগারের জন্য কলেজগুলি ভর্তি কড়ছে না কি এটা নিছক ভুলক্রমে ভর্তি নেওয়া, তদন্ত করা হবে”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here