রংবেরঙের ফুলের বাগানে শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া , ধারিমমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ে

0
547

সঞ্জীব মল্লিক , বাঁকুড়া : স্কুল বাড়ির ভিতর থেকে বের হতো সাপ । সীমানাপ্রাচীর ছিল না বিদ্যালয়ের । অবাধে বিদ্যালয় চত্বরে ঘুরে বেড়াতো গরু-ছাগল । বছর পাঁচেক আগের এই হতশ্রী ছবিটা আজ বদলে গিয়েছে । তবে এত সহজে আসেনি সাফল্য । সরকারি অনুমানের টাকার পাশাপাশি গ্রামবাসীদের সাহায্যে তৈরি হয়েছে বিদ্যালের নতুন ঘর,তারকাটার সীমানা প্রাচীর । আর বিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যে গড়ে উঠেছে রংবেরঙের ফুলের বাগান । বাঁকুড়া পাত্রসায়ের ব্লকের ধারিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এমন সুন্দর পরিবেশ এখন সকলের নজর কাড়ছে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়দেব চট্টোপাধ্যাযের অক্লান্ত প্রচেষ্টায় নির্মল বিদ্যালয়এর স্বীকৃতি পেয়েছে ধারিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়।খুদে পড়ুয়াদের হাতের ছোঁয়া ও রক্ষণাবেক্ষনে বিদ্যালয় চত্বরে চোখজুড়ানো ফুলের বাগান দেখে আপ্লুত সকলেই। সুন্দর ফুলের বাগান শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিবেশটাই পাল্টে দিয়েছে। পাত্রসয়ার ব্লকের নারায়ন পুর পঞ্চায়েতের গ্রামে গড়ে উঠেছে এই প্রাথমিক বিদ্যালয়। পড়ুয়ার সংখ্যা ১১২ জন।প্রধান শিক্ষক সহ ৩ জন শিক্ষক রয়েছেন। ধারিমপুর ও রাইখা এই দুটি গ্রামের সংখ্যালঘু ও তফসিলি সম্প্রদায় ভুক্ত ছেলেমেয়েরা এই বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করে। প্রধান শিক্ষক জয়দেব চট্টোপাধ্যায় বলেন,”বছর পাঁচেক আগে বিদ্যালয় চত্বরে বিষধর সাপ বের হতো।পঠন পাঠনের আগে বিদ্যালয়ের পরিবেশ যে বদলাতে হবে সেটা উপলব্ধি করে পরিকল্পনা নিয়ে স্কুল সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছিলাম।প্রশাসনিক সাহায্যের পাশাপাশি গ্রামবাসীর অকুণ্ঠ সহযোগিতায় কাজ শুরু করি।” তিনি আরও জানিয়েছেন, “বিদ্যালয়ের চৌহদ্দির মধ্যেই গড়ে তোলা হয়েছে গোলাপ, রজনীগন্ধা,গাঁদা ও সূর্যমুখী ফুলের বাগান।চারিদিকে সুন্দর করে লাগানো হয়েছে ঝাউ, দেবদারু গাছ।পড়ুয়াদের জন্য বসানো হয়েছে পানীয় জলের ফিল্টার। আবর্জনা ফেলার জন্য রয়েছে ডাস্টবিন। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা নিজেরাই অবসর সময়ে গাছে জল দেয়,পরিচর্যা করে। সকলের সহযোগিতায় বিদ্যালয়ের পরিবেশটা বদলে গিয়েছে।” বিদ্যালয়ের দেওয়ালে মনীষীদের ছবি। চৌহদ্দির মধ্যে রংবেরঙের ফুলের বাগান। সুন্দর সুরভিত পরিবেশ।এ যেন শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া। শিক্ষার আঙ্গিনাকে বদলে দিয়েছে ধারীমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় । রাজু আলি মণ্ডল নামে এক গ্রামবাসী বলেন , স্কুলের প্রধান শিক্ষক জয়দেব চট্টোপাধ্যায়ের জন্যেই ধারিমপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় আজ এই জায়গায় পৌঁছেছে । এছাড়াও আমরা যতটা পেরেছি তাকে সাহায্য করেছি । শেখ সালাউদ্দিন ও তুহিনা খাতুনরা বলে আমাদের বিদ্যালয়ের পরিবেশ আমাদের দারুণ ভালোলাগে । শিক্ষক মহাশয়রা আমাদের সুন্দর ভাবে পড়ান । স্কুলে শান্তিনিকেতনের ছোঁয়া রয়েছে । আর সে কারনেই আমরা প্রতিদিন স্কুলে আসি ।পাত্রসায়ের ব্লকের পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি পার্থপ্রতীম সিংহ বলেন , আমরা পঞ্চায়েত এবং পঞ্চায়েত সমিতির পক্ষ থেকে সমস্ত বিদ্যালয় গুলোকেই ভালো পরিবেশ তৈরীর চেষ্টা করছি । এছাড়াও তিনি বলেন আমরা প্রতিটি বিদ্যালয়কেই একটা ভালো জায়গায় নিয়ে যাবো ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here