সাংসদদের কোন কৃতিত্ব নেই , দলকে জানিয়ে কাজ করুন সেলিব্রেটি বাবুলের সঙ্গেই এবার টার্গেট নিষ্ক্রিয় আলুয়ালিয়া

0
2353

বীরূপাক্ষ সেন

দল বড়ো না সাংসদ। বিতর্ক থামিয়ে দিতেই না-কি এক ঢিলে দুই পাখি মারা। বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু যিনি। বঙ্গ বিজেপিতে তিনিই দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠ পশ্চিম বর্ধমান জেলা সভাপতি লক্ষ্মণ ঘোড়ুই। তার নির্দেশে, সাধারণ সম্পাদক শিবরাম বর্মন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, সাংসদ হয়ে অনৈতিক কাজ বরদাস্ত করা হবে না। নাম না করেই দলের দুই সাংসদকে এবার এক হাত নিয়েছেন দলের ক্ষমতাসীন নেতারা। সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, জেলায় হাজার হাজার কার্যকর্তারাই দলের সম্পদ। যাদের দৌলতে ভোটে জিতে সাংসদ। তাদের উপেক্ষা করে দলকে না জানিয়ে কাজ করা যাবে না। যে বা যারা অনৈতিক কাজ করছেন। আর, যারা তাকে সমর্থন করছেন। প্রতিনিয়ত তারা দলের ক্ষতি করছেন। দলের মধ্যে থেকে বিরোধিদের হাত শক্ত করছেন। ইতিহাস তাদের ক্ষমা করে নি। করবেও না।

অন্যদিকে আবার দলেই বিক্ষুব্ধ শিবিরের প্রশ্নবাণে জেরবার ক্ষমতাসীন লক্ষ্মণ। সুদিন ফিরতে না ফিরতেই যথারীতি দলের কর্মীদের অসময়ে ত্যাগ তিতিক্ষার কথা ভুলে গেল বিজেপিও। সংঘের কঠোর নিয়ন্ত্রণেই কি তবে এই হাল— প্রশ্ন উঠেছে। কার্যকরী সমিতির নির্বাচন পর্বটি প্রায় শেষ। প্রশ্নহীন দল চালাতে ইয়েস-ম্যান ব্যতিরেকে ছেঁটে ফেলা হয়েছে সবাইকেই। জেলা সভাপতির অনৈতিক কাজ ও নিয়ম-বহির্ভূত আয় নিয়ে কটাক্ষ করে বিক্ষুব্ধ শিবিরের নেতারাও জানিয়ে দিয়েছেন। অনৈতিক আচরনের সমর্থনে জনতা ভোট দেয়নি। বামফ্রন্টের তুঘলকি আচরণ ও তৃণমূল কংগ্রেসের অত্যাচারে অতিষ্ট মানুষ বিকল্প চেয়েছেন। অনেক ঘাম ও রক্তের বিনিময়ে জেলায় দলের পক্ষে বিপুল জনসমর্থন এসেছে। তাকে অস্বীকার করে স্রেফ বিধানসভায় দলের টিকিটে জিতে মন্ত্রী হবার বাসনায় মরিয়া হয়ে উঠেছেন তিনি। সংঘের দোহাই দিয়ে ঘর গোছাতে ব্যস্ত। এক্ষেত্রে যাদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সেই সাংসদদের পথের কাঁটা ধরে নিয়ে, তাদের ঘনিষ্ঠ কর্মীদের দলছাড়া করে ছেড়েছেন। যদিও নাগরিক কমিটির ব্যানারে তারা সকলেই একত্রিত। তারাই পাল্লায় ভারি, না-কি সমান সমান। ঘরের ভেতরেই ভুত দেখছে ক্ষমতা। যাদের বেছে কমিটি গড়া। তাদেরই আবার কারো কারো না-কি বিক্ষুব্ধ শিবিরে সখ্যতা। সবে মিলে টালমাটাল অবস্থা। সামাল দিতেই বজ্র আঁটুনি নির্ঘোস দাওয়াই। দল বিরোধী কাজ করলে কসুর করা হবে না কারোকেই।
আসানসোলের সাংসদ, মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়কে বশে আনতেই ডানা ছেঁটে ফেলা। ঘনিষ্ঠদের উপর কোপ পড়েছে আগেই। এবার কি টার্গেট দুর্গাপুরের সাংসদ সুরিন্দর সিং আলুয়ালিয়া। ক্ষমতাসীনদের একটি অংশের কৌশলী প্রশ্ন, তাকে না-কি পাওয়াই যায় না। সাংসদ যথারীতি ডোন্ট কেয়ার। বাড়িতে বসেই বিলি করছেন ত্রান। বিরোধী গোষ্ঠীও দারুন অ্যাকটিভ এবং মুখরা। জেলায় সদ্য প্রাক্তন সম্পাদিকা সুধা দেবী সোস্যাল মিডিয়াতে দাবি করেছেন তাদের বাদ দেবার প্রকৃত কারণ, ‘কামাই যো বন্ধ্ হো জায়েগী।‘ যুব মোর্চার জেলা সভাপতি অরিজিৎ রায় দাবি করেছেন, ‘টিম বাবুল সুপ্রিয়, আমরা প্রতিদিন প্রতিনিয়ত কাজের মধ্যে রয়েছি। এসত্বেও একদল লোক ক্যুৎসা করছে।‘ আবার ক্ষমতাসীনদের দাবি, রাজ্য সভাপতিকে খুশি করতে করোনা মোকাবেলায় দু-দফায় পাঁচ টন ও তিন টন ত্রানের চাল অলরেডি রাজ্য দফতরে পাঠিয়ে দিয়েছেন তাদের নেতা। সাংসদরা ত্রানের চেয়ে ফটো স্যুট করতেই বেশি ব্যস্ত। রাজ্যে রেশন দুর্নীতি নিয়ে তাদের অবশ্য সিপিএমের মতো মাথা ব্যাথা নেই। দুর্গাপুর শহরে দলের স্বঘোষিত নেতা অমিতাভ ব্যানার্জীর আবার এই নিয়ে কোন মাথা ব্যাথা নেই। ‘সুদিন অথবা দুর্দিন, সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকে কাজ করি। সাংসদরা জনপ্রতিনিধি। অত্যন্ত ভালো মানুষ। দল বড়ো হলে, সমস্যা হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। সভাপতি জেলায় দলের নেতা। যেটুকু দায়িত্ব দিয়েছেন কাজ করছি। ওনাকে জিজ্ঞাসা করুন। সমস্যা যারা দেখার দেখছেন। সব ঠিক হয়ে যাবে।‘
সাংসদ এলাকায় বিভিন্ন ধরনের কাজের দায়িত্ব বন্টন করা নিয়ে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে বেজায় চটেছেন লক্ষ্মণ ও তার অনুগামীরা। জেলা কমিটির পক্ষে সাধারণ সম্পাদক, শিবরাম বর্মন মন্ত্রীর এহেন দায়িত্ব বন্টনকে অনৈতিক কাজ বলে কটাক্ষ করেছেন। আবার দায়িত্ব পেয়েও ধমক খেয়ে রীতিমতো চিঠি লিখে অব্যাহতি চেয়েছেন আসানসোলের উৎপল অধিকারীরা। অনুমোদন না নিয়ে কোন সাংসদ এলাকায় কোন কাজ করতে পারবেন না বলে জেলা কমিটি তাদের মত জানিয়ে দিয়েছে। অপরপক্ষে আবার, জেলা কমিটি গঠন থেকে শুরু করে যে কোন বিষয়ে এলাকার সাংসদের সঙ্গে পরামর্শ না করার অভিযোগটিও জোরালো হয়েছে। এই নিয়েই বিতর্ক তুঙ্গে। তবে, করোনা বিপর্যয় কাটিয়ে উঠে আসানসোল পুরভোটের কথা মাথায় রেখে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাজ্য বিজেপি নেতারা না-কি জেলায় নতুন পদ সৃষ্টি করার কথা ভাবছেন। সেক্ষেত্রে মন্ত্রী ঘনিষ্ঠ প্রশান্ত চক্রবর্তী কে জেলায় দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রের খবর। এই নিয়ে বিক্ষুব্ধ শিবিরে বাড়তি উৎসাহ দেখা দিয়েছে। কাঁকসা থেকে দুর্গাপুর, কিম্বা অন্ডাল থেকে বরাকর। ত্রান বিলি করার কাজে অফিসিয়াল গোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে দলের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here