কেন্দ্রীয় সরকারের সচেতনতা ও জনকল্যাণ মূলক প্রচারে অনীহা দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার জনসংযোগ আধিকারিক এর বিরুদ্ধে, অভিযোগ

0
763

অমল মাজি, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিকের বিরুদ্ধে বেশ কিছুদিন ধরে বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল জনসংযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের প্রতিনিধিরা তাকে ফোনে দুর্গাপুর ইস্পাত সংক্রান্ত কোন বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি প্রথমত এড়িয়ে যান কিংবা ফোন ধরেন না বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, বেশ কয়েক মাস আগে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক বেদ বন্ধু রায়ের পরিবর্তে নতুন মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হন আশরাফুল হোসেন নামে এক আধিকারিক । অভিযোগ, যে দিন থেকে তিনি ওই পদে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন সেদিন থেকে এখনও অবধি কোন রকম ইস্পাত সংক্রান্ত খবরা খবর সংবাদমাধ্যমকে বা জনসংযোগের জন্য কোনরকম চেষ্টাই করা হয়নি তাঁর পক্ষ থেকে। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার উন্নয়নমূলক কাজের কোন খতিয়ান তিনি মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক হিসাবে তার কার্যকালে জনসমক্ষে আনেননি বলে অভিযোগ । বিভিন্ন মহলে এ নিয়ে কানাঘুষো চলছিল অনেকদিন ধরে, কিন্তু কোনও পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ এতদিন দায়ের করা হয়নি তাঁর বিরুদ্ধে ।

এবার সেই অভিযোগ দায়ের হলো দুর্গাপুরের বিশিষ্ট বিজেপি কর্মী ও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের আধিকারিক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় এর পক্ষ থেকে। অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় অভিযোগ করে একটি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ভারত সরকারের মিনিস্ট্রি অফ ইনফর্মেশন অন্ড ব্রডকাস্টিং মন্ত্রকের পক্ষ থেকে কয়েক দিন আগে সমস্ত পাবলিক সেক্টর ইউনিট গুলিকে ভারতবর্ষের প্রধানমন্ত্রীর শুরু করা “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” এবং “প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ আন্না যোজনা” এই দুটি প্রকল্পের জন্য ব্যাপকভাবে নিজ নিজ ক্ষেত্রে সচেতনতা বৃদ্ধি ও নাগরিকদের মধ্যে প্রচার এর জন্য ফ্লেক্স , হোডিং-এর মাধ্যমে জনসংযোগ করার জন্য । উক্ত বিষয়ে ইস্পাত মন্ত্রকের সেক্রেটারি একটি চিঠি দিয়ে সব ইস্পাত কারখানার সব সি.ও. সি কে উক্ত বিষয় গুলি যথাযথভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার জনসংযোগ বিভাগের দায়িত্বে থাকা মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেন কোনও এক অজানা কারণে প্রধানমন্ত্রীর ও ইস্পাত মন্ত্রকের আদেশ কে অমান্য করে ওই দুইটি প্রকল্পের প্রচার করেননি বলে অভিযোগ বিজেপি আধিকারিক অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।তবে তিনি বলেন “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” নামক কিছু ফ্লেক্স গোটা ইস্পাত নগরীতে লাগনো হয়েছে তাও এমন জায়গায় লাগনো হয়েছে যেখানে তুলনামূলকভাবে মানুষজনের নজরে কম আসবে বা দেখা যাবে না এমন বেশ কয়েকটি জায়গায় লাগিয়েছেন বলে অভিযোগ। অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় আরো অভিযোগ করেন, শুধুমাত্র সংকীর্ণ মানসিকতার জন্য দুর্গাপুরের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক সরকারি নির্দেশ অমান্য করে সরকারকে অপমান করছেন। তাই তার ওই গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকার কোন নৈতিক অধিকার নেই বলে তিনি মনে করেন।

‘এই বাংলায়’ এর প্রশ্নের উত্তরে অমিতাভ বাবু বলেন, দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেন একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করছেন । একজন কেন্দ্রীয় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিক হয়ে তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর আদেশকে অমান্য করছেন। তাই অবিলম্বে তাকে ওই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে অবাহতি দেওয়া হোক এবং ডিপার্টমেন্টাল এনকোয়ারি করা হোক তাঁর বিরুদ্ধে। অমিতাভ বাবু জানান তিনি এ বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী , মাননীয় ইস্পাত মন্ত্রী , মাননীয় ইনফরমেশন এন্ড ব্রডকাস্টিং মিনিস্টার ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে এই বিষয়ে চিঠি দিয়ে অনুরোধ করেছেন, অবিলম্বে যেন ওই সংকীর্ণ মানসিকতার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেনের বিরুদ্ধে দ্রুততার সাথে শাস্তির বিধান করেন।

অন্যদিকে এই একই বিষয়ে কড়া অবস্থান নিতে চলেছেন বিজেপির শ্রমিক সংগঠনের শীর্ষ নেতা ধরম মিশ্র | তিনি বলেন, ” দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেনের নামে বহুদিন ধরেই সংকীর্ণ মানসিকতার কাজকর্মের অভিযোগ আমাদের কাছে আসছে | তিনি একজন কেন্দ্রীয় সরকারের কর্মচারী হয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশ অমান্য করছেন শুধুমাত্র তার সংকীর্ণ মানসিকতার জন্য । আমরা অবিলম্বে এই বিষয়ে ইস্পাত মন্ত্রকের সঙ্গে কথা বলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করার আবেদন করবো ।”

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার শ্রমিক সংগঠনের আরেক নেতা অরূপ রায় জানান, ” মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক আশরাফুল হোসেন বহুদিন ধরেই সাম্প্রদায়িক ও সংকীর্ণ মানসিকতা নিয়ে সংস্থার ভেতরে বহু আপত্তিকর কাজ কর্মে লিপ্ত হয়েছেন বলে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে | তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের এই জনহিতকারি প্রকল্প গুলির যথাযথভাবে প্রচার করছেন না তার পেছনে অন্য কি কারণ আছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না ।” তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেন অবিলম্বে যদি মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক পদ থেকে তাকে সরিয়ে তুলনামূলকভাবে কোন কম গুরুত্বপূর্ণ পদে না বদলি করা হয় তবে তারা লাগাতার আন্দোলনে নামার হুমকি দিয়েছেন।

অন্যদিকে এই বিষয়ে ভিন্নমত পোষণ করলেন দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার সি.আই.টি.ইউ নেতা সৌরভ দত্ত | তিনি বলেন, ” কেন্দ্রীয় ইস্পাত মন্ত্র থেকে যদি কোন নির্দেশিকা এসে থাকে এই বিষয়ে তাহলে নিশ্চয়ই তা পালন করা উচিত ছিলো মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক এর | কিন্তু প্রশ্ন হল যখন মানুষ ভ্যাকসিন পাচ্ছেনই না তখন “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” ক্যাম্পেইন করার অর্থটা কি ? কেনইবা প্রধানমন্ত্রীর ছবি দিয়ে তার পাব্লিসিটি করা হবে ?”

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আই.এন.টি.টি.ইউ.সি নেতা জয়ন্ত রক্ষিত জানান, ” কেন্দ্রীয় সরকারের কোনও নির্দেশিকা এলে তা সরকারি কর্মচারী হিসেবে যথাযথভাবে পালন করা উচিত বলে মনে করি | ইতিমধ্যেই দুর্গাপুর ইস্পাত নগরীর বিভিন্ন প্রান্তে “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” নামক বেশ কিছু ফ্লেক্স দেখা যাচ্ছে শহর জুড়ে | কিন্তু প্রশ্নটা কেন প্রধানমন্ত্রীর মুখের ছবি লাগানো এই সব পোস্টার গুলি দেওয়া হয়েছে | মানুষ “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” লেখাতো দেখছে কিন্তু সবাই পাচ্ছে কি? তিনি এও জানান, ইতিমধ্যে দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানা ও অ্যালয় স্টিল প্ল্যান্ট এর সমস্ত শ্রমিককে ফ্রী ভ্যাকসিন দেওয়া হয়ে গিয়েছে |কিন্তু বাকি যেসব সাধারণ মানুষ দুর্গাপুর শহরে বসবাস করে তাদের ভ্যাকসিন পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়েছে | কারণ কেন্দ্রীয় সরকার ভ্যাকসিন দিচ্ছি না| বিনা পয়সায় “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” শুধু লেখায় নয় কাজেও করে দেখানো|”

দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার আরেক শ্রমিক সংগঠন আই.এন.টি.ইউ.সি নেতা ও পশ্চিম বর্দ্ধমান জেলা কংগ্রেস, সভাপতি দেবেশ চক্রবর্তী বলেন, ” কেন্দ্রীয় সরকারের আদেশ থাকলে তা মানা উচিত নিশ্চয়ই কিন্তু মিথ্যা প্রচার করে কেন মোদি সরকার মানুষকে বিব্রত করছেন ? দুর্গাপুরে যে সমস্ত ছোট বড় কল-কারখানা গুলি রয়েছে সেখানকার শ্রমিকদের জন্য কোনরকম বিনা পয়সায় ভ্যাকসিন দেওয়ার বন্দোবস্ত করেনি কেন্দ্রীয় সরকার | ওই সব সংস্থার কর্ণধারা নিজেদের পকেটের পয়সা খরচা করে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে যোগাযোগ করে তাদের কর্মীদেরকে টিকাকরণ করছেন | তবে যতদূর আমি জানি বা দেখেছি এখনও পর্যন্ত দুর্গাপুর ইস্পাত শহরের ভেতরে বহু জায়গাতে “সকলের জন্য ভ্যাকসিন বিনামূল্যে” বলে বিভিন্ন ফ্লেক্স ও হোডিং চোখে পড়ছে | সরকারের উচিত যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সমস্ত মানুষকে প্রথম ডোজ ভ্যাকসিন বিনামূল্যে দিয়ে দেওয়া | সেদিকে নজর দেওয়া উচিত বলে আমি মনে করি |”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here