করোনা পরিস্থিতিতে দুর্গাপুরের বিবেকানন্দ হাসপাতালের অমানবিক আচরণ রোগী ও তার পরিজনদের সাথে

0
7161

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- সারা দেশ তথা আমাদের রাজ্য পশ্চিমবঙ্গ চলছে লকডাউন পরিস্থিতি। রাজ্য সরকার ও কেন্দ্রীয় সরকারের পক্ষ থেকে সমস্ত আপৎকালীন পরিস্থিতির জন্য তৈরি থাকতে বলা হয়েছে পুলিশ প্রশাসন স্বাস্থ্যকর্মী ও সফায় কর্মীদেরকে। ইতিমধ্যেই সমস্ত বেসরকারি হাসপাতাল গুলিকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যাতে তারা কোন ধরনের রোগীকে অস্বীকার না করেন তাদের ওখানে ভর্তি করার ক্ষেত্রে। কিন্তু প্রশাসনের সেই নির্দেশ কে মূলত বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল এলাকার বেশ কিছু বড় হাসপাতাল ওর নার্সিংহোম তাদের মন মোতাবেক কাজ করে চলেছেন।

দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলের বিধাননগর নিবাসী মধুমিতা মানি নামে এক মহিলা তিন দিন ধরে জ্বরে ভোগ করছিলেন। গত ৬ তারিখে রাত্রে বেলায় তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই মহিলার স্বামী তাকে দ্রুত বিবেকানন্দ হাসপাতালে নিয়ে যান। বাড়িতে অন্য কেউ না থাকায় তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে কেশব মনিরাম দুটি বাচ্চা ও স্ত্রী সমেত দ্রুত পৌঁছান বিবেকানন্দ হাসপাতালের এমার্জেন্সি বিভাগে। কিন্তু বিবেকানন্দ হাসপাতালের ইমার্জেন্সি বিভাগের ডাক্তার পরিষ্কার করে জানিয়ে দেন তাদের এই হসপিটালে চিকিৎসা করা সম্ভব নয়। যখন মহিলার স্বামী জানতে চান কেন তাদের চিকিৎসা করা হবে না এই হাসপাতলে, তখন তার সাথে দুর্ব্যবহার করেন হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে থাকা ডাক্তার ও নিরাপত্তা রক্ষীরা বলে অভিযোগ। কেশব মনিরাম একটি লিখিত অভিযোগ এর মাধ্যমে দুর্গাপুর মহকুমা শাসক কে জানিয়েছেন ১০-১২ জন লোক তার মধ্যে এমার্জেন্সি বিভাগের ডাক্তার, সিকিউরিটি গার্ড ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বেশ কয়েকজন তাকে একপ্রকার জোর করে ঘাড় ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বার করে দেন। কেশব মনিরাম আর অভিযোগ করেছেন এই পুরো ঘটনাটি তিনি মোবাইল ক্যামেরায় রেকর্ড করতে গেলে তাকে মারধর করা হয় এবং তার মোবাইলটি কেড়ে নেওয়া হয়। কেশব মনিরাম অভিযোগ করেন তাকে ধাক্কা দিয়ে হাসপাতাল থেকে বার করার সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ,সিকিউরিটি গার্ডেরে ও এমার্জেন্সি ডাক্তাররা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে বলেন “যা করার করে নে, দেখি কে কি করতে পারে”। কেশব মনিরাম তার লিখিত অভিযোগে দুর্গাপুর মহকুমা শাসক কে জানিয়েছেন তার নির্দিষ্ট মেডিক্লেম থাকা সত্ত্বেও ও তিনি নিজে একজন সংবাদকর্মী হয়েও করোনাভাইরাস সংক্রান্ত এই পরিস্থিতিতে ইমারজেন্সিতে থাকা ডাক্তার ও সিকিউরিটি গার্ডরা যেভাবে সমাজের মানুষের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন তা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি দুর্গাপুর মহকুমা শাসক ও দুর্গাপুর পুলিশের কাছে এফ.আই.আর করার অনুরোধ করেন বিবেকানন্দ হাসপাতালের বিরুদ্ধে। তার সাথে ঘটে যাওয়া এই দুর্ব্যবহারের ছবি নিশ্চয়ই বিবেকানন্দ হাসপাতালে সি.সি.টি.ভি ক্যামেরায় ধরা পড়েছে , তাই তিনি মহকুমা শাসক ও পুলিশ প্রশাসনকে অনুরোধ করেন যত তাড়াতাড়ি সম্ভব বিবেকানন্দ হাসপাতালে থাকা সি.সি.টি.ভি ফুটেজ যা এমার্জেন্সি ও আউটডোরে লাগানো আছে তা দেখে বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং উপযুক্ত প্রমাণ হিসেবে তা ব্যবহার করা হয় বিবেকানন্দ হাসপাতালের বিরুদ্ধে।

বিবেকানন্দ হাসপাতালের সম্বন্ধে এই প্রথম অভিযোগ হচ্ছে এমনটা নয়। এর আগেও বহুবার বিবেকানন্দ হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও সিকিউরিটি গার্ডের বিরুদ্ধে রোগীর পরিজন ও রোগীর সাথে আসা লোকজনদের সাথে দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে ভুরিভুরি। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চলর এক প্রবীণ সাংবাদিকের বাবার মৃত্যুর পর তার বাবার মৃতদেহ আটকে রাখা হয়েছিল টাকা না দেওয়ার কারণে। শেষে তার বাবার ব্যাংকের এম.আই.এস এর খাতাটি হাসপাতলে বন্ধক রেখে তার বাবার মৃতদেহ হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে অভিযোগ আছে।

যখন রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী বারবার বেসরকারী হাসপাতাল গুলিকে অনুরোধ করছেন সাধারণ মানুষের সাহায্যার্থে তারা যেন এগিয়ে আসেন ও তাদেরকে উপযুক্ত পরিষেবা দেন। কিন্তু দুর্গাপুর সংলগ্ন বেশ কয়েকটি হাসপাতাল ও নার্সিং হোম এই করোনা পরিস্থিতিতে রোগীদের সাথে দুর্ব্যবহার করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সব অভিযোগ লিপিবদ্ধ না হলেও গতকালের ঘটনা ইতিমধ্যেই লিপিবদ্ধ হয়েছে দুর্গাপুর মহকুমা শাসকের কাছে। ইতিমধ্যে দুর্গাপুর মহকুমা শাসক অ্যাসিস্ট্যান্ট সি.এম.ও.এইচ দুর্গাপুর কে অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে জানিয়ে দিয়েছেন বলে জানা যাচ্ছে। যদিও এই সংক্রান্ত অভিযোগ নিয়ে বিবেকানন্দ হাসপাতালের কর্ণধার শ্রী সুজিত দত্ত কে প্রশ্ন করা হলে তিনি সরাসরি অভিযোগ খারিজ করে দেন। তিনি বলেন তার কাছে এখনো পর্যন্ত এই রকম কোনো অভিযোগ জমা পড়েনি। তিনি সবসময় হাসপাতালের সম্বন্ধে সতর্ক দৃষ্টি রাখেন, তাই এমন কোন ঘটনা ঘটলে তিনি নিশ্চয়ই জানতে পারতেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here