কলির কেষ্ট/ ২………..আমার সামনেই একরাতে বাঁকুড়ার বর্ষাকে ঘরে তুলল শুভেন্দু, বলল চ্যাঁচালে মার্ডার হয়ে যাবি। চলে এলাম সব ছেড়েঃ রূপা

0
835

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- ‘মিঃ নটবরলাল’ শুভেন্দু মিশ্র ওরফে সুমন চট্টপাধ্যায়ের প্রায় এক ডজন ‘বউ’র খোঁজ মিলেছে বিভিন্ন সূত্রে। তাদের মধ্যে সাতপাকে বাঁধা সাত বউ এর নাম ধাম ইতিমধ্যে হাতে এসেছে তদন্তকারীদের। তবে, বাকি পাঁচ বউ কোথায়- তার হদিশ পেতে বিশেষ বেগ পেতে হচ্ছে না বলেই জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।

এই নটবর-নাগরের ঘর রামগঢ়ের বারিন্দা গ্রামে। এটি ঝারগ্রামের একটি স্বল্প পরিচিত গঞ্জ। তবে, অখ্যাত এই পল্লিটিই এখন এই মিঃ নটবরলালের দৌলতে বেশ চর্চিত নাম দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলার পুলিশ মহলে তো বটেই, রাজ্যের খোদ মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরেও। কারণ, শুভেন্দু ওরফে সুমন চট্টপাধ্যায়ের ‘হেরাফেরি’ এবং ‘ফির হেরাফেরি’র ঘটনা বর্ণনা করে ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রী দপ্তরের গুচ্ছ গুচ্ছ লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। একটি সূত্র জানায়, দেবীপক্ষের সূচনায় রাজ্য প্রশাসন অন্যান্য কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেও, একের পর এক যুবতী- মহিলার সর্বনাশ করা ওই প্রতারকের তল্লাশীতে কোনোরকমই ঢিল দিতে নারাজ রাজ্য প্রশাসন।

প্রায় ২৪ বছর আগে ঝাড়খণ্ডের জামশেদপুরের বাসিন্দা রূপা মিশ্রকে প্রথম বিয়ে করে শুভেন্দু। সেই দরুন তার বান্টি নামের একটি পুত্র সন্তানও রয়েছে। একথা জানিয়ে শুভেন্দু’র বোন সুজাতা মিশ্র বলেন, “হ্যাঁ। আমার বৌদি এখনো জামশেদপুরে থাকে। ওখানে ওদের সাথে ঠিক কি সমস্যা হয়েছিল, তা আমাদের জানা নেই। যতটুকু জানি ওকে ওখানে ছেড়ে আসার পরও দাদা জামশেদপুর যাতায়াত করতো।” ফেরার শুভেন্দু’র মা প্রতিমা মিশ্র তার ছেলের বিষয়ে কোনো কথাই বলতে রাজি হননি। তবে, বিবাহসূত্রে মেদিনীপুর শহরের বাসিন্দা সুজাতা সাফ জানিয়ে দেন, “দাদার সাথে আমার শেষ কথা হয়েছে এক বছর আগে। তাই, সে কোথায় কখন থাকে, কি করে কিছু জানিনা আর ওর ব্যাপারে জানতে চাইও না।”

মুখে “কিচ্ছুটি জানিনা” বললেও সুজাতা, প্রতিমা যে সবটাই জানেন তেমনটাই দাবি জামশেদপুর নিবাসী শুভেন্দুর প্রথম স্ত্রী রূপা’র। মঙ্গলবার দুপুরে তিনি জানালেন, ‘ওরা সব জানে। আমার বিয়ের যৌতুক সহ সবকিছু তো নিজেদের কাছে রেখেইছে। আমার ছেলেটাকেও আমার কাছে আসতে দিলো না।’

শুভেন্দু রূপা’র একটিই ছেলে বান্টি। রূপা’র কথায়, “আমাদের বিয়ের পর গোড়ার দিকে ও ভালই ছিল। খুব ভালোবাসতো। একটা বছর কাটার পর আচমকাই বদলে গেল। একদিন রাত্রে আমার সামনেই বর্ষা রক্ষিৎ নামে একটা মেয়েকে ঘরে তুলল, বলল- ওকেও বিয়ে করেছে। বর্ষা বাঁকুড়ার মেয়ে। পরদিন ভোরে দুজনেই উধাও হয়ে গেল। শ্বশুর বাড়ির লোকেরা আমাকে শাসালো- চিৎকার করলেই মার্ডার হয়ে যাবি। এ কথা শোনার পর আর ওখানে থাকিনি। জামশেদপুরে বাপের বাড়িতে চলে আসি। আর যাইনি। শুনেছি, পরে আরও বেশ কয়েকটা বিয়ে করেছে। সেই সব ‘বউ’রা আমাকে ফোনও করে কেউ কেউ।”

রুপা’র সাথে শুভেন্দুর বিয়ে হয়েছিল পারিবারিক সম্বন্ধ ধরে। “আসলে ও আমার নিজের মামী’র ভাইপো। ভালো ছিল। কিন্তু চট আর টিন ব্যবসার কাজে বাঁকুড়া যাওয়া শুরু করার পরই ওর স্বভাব খারাপ হয়ে গেল, কি করব?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here