একা ‘প্রচেষ্টা’য় রক্ষে নেই এবার দোসর ‘প্রয়াস’: দুর্গাপুরে অবাধে চলছে বাসট্যান্ড, পার্কের জমিলুঠ

0
890

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুর:- ‘প্রচেষ্টা’র পর এবার ‘প্রয়াস’। শহর দুর্গাপুরের এই দুটি সংস্থা সমাজ সেবার নামে এবার খোলাখুলি সরকারি জমি, বাসস্ট্যান্ড, খেলার মাঠ তো বটেই, খুল্লামখুল্লা দখল করতে শুরু করেছে শিশুদের জন্য সরকারের করে দেওয়া চিলড্রেন্স পার্কও। এই ঝোঁক মূলতঃ সিটি সেন্টার ও তার সংলগ্ন সেপকো, সেইল কো-অপারেটিভ আবাসনগুলিতে দিনের দিন বাড়ছে, আর কার্যতঃ ঠুঁটো জগন্নাথ হয়ে বসে বসে ‘তামাশা’ দেখছে কি জেলা প্রশাসন,কি পুরসভা, কি দুর্গাপুর ইস্পাতের নগর প্রশাসন।

সিটি সেন্টারের নন্ কোম্পানি পাড়ার বিদিশা মোড়ে আস্ত একটি সরকারি বাসস্ট্যান্ডকে হড়প করে ‘প্রচেষ্টা’ নামে একটি গজিয়ে ওঠা সংস্থা দিনকে দিন তার বহর বাড়িয়ে চলেছে। হাত বাড়িয়েছে সংলগ্ন জমিতেও। ‘প্রচেষ্টা’কে দেখে এবার উৎসাহিত হয়েছে ‘প্রয়াস’ নামের আরেকটি আচমকা গজিয়ে ওঠা সংস্থা। এদের এখন রমরমা কাজ কারবার সেপকো টাউনশিপের ‘৪-সি’ এবং ‘৪-ডি’ রাস্তা দুটির মাঝে আবাসন সমবায়ের গড়ে দেওয়া একটি শিশু উদ্যানকে ঘিরে। কোভিড- ১৯ অতিমারির দরুন রাজ্যজুড়ে লকডাউনের নিস্তব্ধতাকে কাজে লাগিয়ে তরতর করে ইট-বালি-সিমেন্টের গাঁথুনি তুলে সেপকোর ওই শিশু-উদ্যানটি জবরদখলের কাজ শুরু করে দেয় ‘প্রয়াস’। স্থানীয় বাসিন্দারা ‘অসহায়’ হয়ে গোড়ায় শুধু দেখতেই থাকলেন কিভাবে বাইরে থেকে কিছু ‘ষন্ডা’মার্কা যুবককে সঙ্গী করে বেপাড়ার কিছু মানুষ আস্তে আস্তে প্রায় হজমই করে ফেললেন পাকর্টি। ক্রমশঃ শিশুদের খেলার দোলনা, ‘শ’, ‘স্লিপ’ উধাও হয়ে গেল। পাকর্টি হয়ে উঠল ‘স্বার্থপর দৈত্যে’র বাগান।

স্থানীয় গৃহবধূরা ক্ষোভের সাথে জানালেন,” করোনা সচেতনতা, রক্তদান শিবিরের ছুতো করে ওরা পাড়ায় এল আর আস্তে আস্তে দখল করে নিল পুরো পার্কটাই। আমাদের ছোট ছোট বাচ্চা গুলো’র প্রবেশ বন্ধ হয়ে গেল। পার্কের গেটে ওরা তালাও লাগিয়ে দিল। বাচ্চাগুলো কোথায় যাবে বলুন তো!” পাড়ার পুরুষেরা যখন মুখ বুঁজে প্রয়াসের দাপাদাপি হজম করছেন, তখন এলাকারই ১৬ জন গৃহবধূ সরাসরি শহরের মহানাগরিক দিলীপ অগস্তির দ্বারস্থ হয়েছেন সম্প্রতি। তাদের কথায়, “আমরা এখানকার সেপকো আবাসনের কর্মকর্তাদের কাছে গেলাম। ওঁরা কিছু না করে চুপ করে গেলেন। কেন জানিনা।” সেপকো আবাসনের সম্পাদক শ্যামল মুখোপাধ্যায় এদিন বলেন, “এটা সত্যি কথা যে পার্কে নির্মাণ কাজের জন্য ‘প্রয়াস’ আমাদের কাছে কোনো অনুমতি নেয়নি। ওরা আমাদেরকে কিচ্ছুটি জানায়ওনি।” তিনি বলেন, “স্থানীয় মানুষদের কাছে কিছু অভিযোগ পেয়েছি। আমরা পুরো বিষয়টি স্থানীয় কাউন্সিলরকেও জানাচ্ছি। এসব উটকো ঝামেলা আমরা সইবোই বা কেন?” তিনি সইবেন কি না সইবেন, ‘প্রচেষ্টা’র মতোই ‘প্রয়াস’ও থোড়াই কেয়ার করে? সংস্থাটি ইতিমধ্যেই পার্কের ভেতরে একটি পাকাপোক্ত ঘর বানিয়ে ফেলেছে। পার্কের গেটে তালা মেরে সেখানে দেদার হুল্লোড়বাজি চলছে বলে অভিযোগ। সংস্থাটি আবার সম্প্রতি নতুন করে পাঁচিল তোলার কাজ শুরু করেছে। কিন্তু হঠাৎ কেন এমনটা করছেই বা ‘প্রয়াস’? সংস্থার সম্পাদক রুদ্র জানা বললেন, “হ্যাঁ আমরা পাঁচিলটা তুলছি। পার্কের পাঁচিলটা পড়ে গেছিল, তাই এটা করেছি।” পার্কের ভেতর ঘর নির্মাণ কেন হল?- এ প্রশ্নের জবাবে রুদ্র বলেন, “কিছু মানুষের অর্থসাহায্যে আমরা পার্কটা নতুন করে সাজাতে চাইছি। তাই এসব করছি।”

স্থানীয় পুরসভার কাউন্সিলর অমিতাভ বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, “না না, এভাবে সরকারি সংস্থার জমি দখল করা যাবে না। ওখানকার পাড়ার মহিলাদের নিয়ে একটি কমিটি তৈরি করে দেওয়া হবে। ওই কমিটিই সব করবে। আমরা শীঘ্রই ব্যবস্থা নিচ্ছি।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here