ভাইরাস, দুর্গাপুরের কিংশুকের ভাইরাল অডিও এবং তার ঢোক গেলাঃ গর্জে উঠল সনোকা

0
20626

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ-

ভাইরাস কোথায়?

-কিংশুকের শরীরে।
ভাইরাল ক্লিপ কোথায়?

-শহর দুর্গাপুর সহ পশ্চিম বর্ধমান জেলায় হাজার হাজার মোবাইল ফোনে একটি নয়, দুটি ক্লিপ। তবে, প্রথম ক্লিপটি জেলাময় ছড়ালো করোনা’র চেয়েও দ্রুতগতিতে। দ্বিতীয় ক্লিপ’টি’র বরাতে তেমন ‘শেয়ার’ দর জুটলো না।
তবে,-
পয়লা ক্লিপটি হাতিয়ার করেই, যাকে বলে কবর থেকে বেঁচে ফেরার মরীয়া প্রয়াস চালালো ‘ফসিল’ হয়ে যাওয়া সিপিএম আর গেরুয়া সিপিএম। কারন, পরিসংখ্যান বলছে, দুর্গাপুর ইস্পাত কর্মী কিংশুক গুপ্তের অডিও ক্লিপ টি মারকাটারি বাজার করেছে লালবাড়ী, গেরুয়া বাড়ীগুলিতে যতটা, তার কনামাত্র প্রভাব ফেলতে পারেনি ইস্পাত স্বাস্থ্য প্রশাসনে। তাই, ইস্পাত প্রশাসন তাদের কারখানাগুলির শ্রমিক-কর্মচারীদের কোভিড – পরীক্ষার জন্য বেছে নিয়েছে সেই মলানদিঘির সনোকা হাসপাতাল কেই।
চাকরির পাশাপাশি, কিংশুক গুপ্ত’র পরিচিতি একজন ‘জনপ্রিয়’ ঘোষক হিসেবে। ‘ঘোষনা’ করার মুন্সিয়ানায় তিনি যে বেশ দঢ়, সেটা তার অডিও ক্লিপের ভাইরাল হওয়াতেই স্পষ্ট। তবে, অনুষ্ঠানের মাঝে ঘোষক কে যদি ‘ঢোক’ গিলতে হয়, তাহলে সাজানো নাটক ও মাঠে মারা যায়। এ ক্ষেত্রে তাই-ই হয়েছে। এমনটা মনে করেছেন শহর দুর্গাপুরের হাজার হাজার মানুষ।
কিংশুকের ভাইরাল হওয়া অডিও ক্লিপের নেপথ্যে, তথ্যাভিজ্ঞ মহলের ধারনা- একটি সুগঠিত পরিকল্পনা ও করোনা- চিকিৎসা সম্পর্কে নিরেট অজ্ঞতার মিশ্রনে তৈরী করা ষড়যন্ত্র কাজ করেছে। একজন রোগীর সাথে তার স্ত্রী’র ব্যক্তিগত বার্তালাপ রেকর্ডিং করা হল কেন? অর্থাৎ স্বামী-স্ত্রীর বার্তালাপের চিত্রনাট্য তৈরী ছিলই। দুর্গাপুর ইস্পাত কারখানার প্রথম কোভিড- আক্রান্ত শ্রমিকের চোখে কি কি ‘গলদ’ ধরা পড়বে, তার বিবরন কি ভাবে সুকৌশলে ছড়িয়ে দেওয়া যাবে, সে সবই ষড়যন্ত্রের অঙ্গঁ বলেই ইস্পাত কারখানার শ্রমিকদেরই একাংশের বক্তব্য।
এখন দেখা যাক, প্রথম অডিও ক্লিপে, অব্যবস্থা নিয়ে ক্ষিপ্ত, হতাশ কিংশুক ঠিক কি কি বলছেন। শুনুন……… অডিও ক্লিপ (১)


একজন করোনা রোগী এক টুকরো সাবান, একটি গামছা, কমন টয়লেট, ও একটি তরমুজ জবাই নিয়ে কতটা কাতর! বিশ্বজুড়ে ত্রাস ছড়ানো মারণ রোগে আক্রান্ত এক যুবক- ঘোষক অব্যবস্থার বার্তা ছড়িয়ে দিলেন অনায়াসে, আর বললেন- “এরা মোবাইল ফোন ব্যবহারই করতে দিচ্ছে না”। ওদিকে কারখানার সিটু ইউনিয়ন দ্বায়িত্ব নিয়ে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিচ্ছেন মারন রোগে কিংশুকের গামছা না পাওয়ার ভাষন! সিটু’র তরফে একটি আলাদা ভিডিও ক্লিপে এক নেতা সৌরভ দত্ত দাবি করেছেন, “ডিএসপির শ্রমিক বলে আরো ভালো ব্যবস্থা পাওয়ার অধিকারী” কিংশুক। অর্থাৎ করোনা-আক্রান্তের শ্রেনী বিভাজন। আবার, দাবি করেছেন- লুকোনোর অনেক কিছু আছে বলে কিংশুকের মোবাইল টি কেড়ে নিল সনোকা হাসপাতাল। দেখুন কি বলছেন সৌরভ-


দেখলেন, উদ্বিগ্ন সিটু নেতার ‘চিন্তিত’ মতামত। এবার দেখা যাক, সনোকা কোভিড হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার একদিন পর ঠিক কি বলছেন কিংশুক নিজে! শুনুন……… অডিও ক্লিপ (২)


অর্থাৎ, কিংশুক গুপ্ত নিজের মুখেই কবুল করলেন, তিনি নাকি বুঝে উঠতে পারেন নি ‘কোভিড হাসপাতাল’ ঠিক কি? কেমন করে চিকিৎসা হয় সেখানে।
সে যাই হোক। তার বিলম্বে চৈতন্যেদয় তার ব্যক্তিগত বিষয়। কিন্তু, তিনি যে সব ‘যথাযত’ প্রশ্ন তুলেছেন, তার কি হবে? তার আচরনে যে অন্যান্য কোভিড রোগীরাও অশান্তিতে রয়েছেন, সেজন্য তাঁকে কর্পোরেট হাসপাতালে পাঠানো দরকার বলে মনে করেন সনোকা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। তাই, আসানসোলের মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক কে সনোকা সে কথা জানিয়েও দেয়।


সে তো গেল প্রশসনিক দরকষাকষি। কিন্তু, কিংশুকের তোলা অভিযোগ কিংশুক নিজেই খন্ডন করলেও, সব দায় কি হেলায় ঝেড়ে ফেলবেন সনোকা কর্তৃপক্ষ?
এখন, শোনা যাক- কি বলছেন সনোকা হাসপাতালের কর্ণধার পার্থ পবি- শুনুন ……… অডিও ক্লিপ (৩)


যে হাসপাতালের সাফল্য ৯৯ শতাংশের বেশি, তার কর্ণধার বুক ঠুকে জবাব দেবেন সেটাই স্বাভাবিক। তবে, পার্থ বললেন, “আত্ম সন্তুষ্টির কোনো জায়গা নেই। আমাদের লড়াই টা প্রতিদিন কার সংগ্রাম। লোকে যাতে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরে, সেটাই বড় কথা। লড়াইটা ভাইরাসের সাথে, কি ভাইরাল হল সেটার সাথে নয়”।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here