করোনার থাবা দুর্গাপুর-আসানসোল পুলিশ মহলে, আক্রান্ত পুলিশ কমিশনার সুখেশ জৈন বলে শিল্পাঞ্চল জুড়ে গুজব

0
1442

সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার পুলিশ কর্মীরা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। এবার করোনার থাবা পড়ল দুর্গাপুর পুলিশ মহলে। দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে মোট আটটি থানা আছে। এতদিন সেই থানাগুলির কোনো পুলিশ কর্মী এবং আধিকারিক কেউই করোনায় আক্রান্ত হননি। কিন্তু এবার করোনায় খাতায় দুর্গাপুর পুলিশ কর্মীদের নাম উঠে গেল। সূত্র মারফৎ জানা গেছে এখনো পর্যন্ত দুর্গাপুরে তিনজন পুলিশ কর্মী করোনায় সংক্রমিত হয়েছে। এদিন অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যায়, দুর্গাপুর থানা এবং কোকওভেন থানার দুই আধিকারিক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। অন্যদিকে অন্ডাল থানার এক আধিকারিকও করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। দেশ তথা রাজ্যে করোনা সংক্রমন ছড়াতেই পুলিশ বিভাগের দ্বায়িত্বও অনেক বেড়ে গিয়েছে। কারন শুধুমাত্র আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করাই নয়, লকডাউন সফল করাও পুলিশের দ্বায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তাছাড়া করোনা আক্রান্ত রোগীকে বাড়ি থেকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া, এমনকি স্যানিটাইজ করার কাজ গুলিও পুলিশকেই করতে হচ্ছে। তাই পুলিশ মহলের একাংশের মতে, এই সমস্ত ঝুঁকি সম্পন্ন কাজ করতে গিয়েই দুর্গাপুর মহকুমার তিন পুলিশ আধিকারিকের করোনা সংক্রমন। ইতিমধ্যেই পুলিশ কর্মীদের একাংশের মধ্যে করোনা আক্রান্ত হওয়ায় ভয় দাঁনা বাঁধছে।
অন্যদিকে পুরো শিল্পাঞ্চল জুড়ে একটি গুজব কাল সকাল থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ও বিভিন্ন পোর্টালে ভাইরাল হয়েছে। ওই সমস্ত অসমর্থিত সূত্র থেকে জানা যায়, দুর্গাপুর-আসানসোল পুলিশ কমিশনার সুখেশ জৈন নাকি করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন এবং তার জন্য তিনি তার বাংলো থেকেই সমস্ত প্রশাসনিক কাজকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন। গত সোমবার থেকেই না কি শারীরিক অবস্থা বেগতিক দেখে সুকেশ বাবু নিজের অফিসে আসছিলেন না। এবং সেদিন থেকেই তিনি নিজেকে তাঁর সরকারি বাসভবন ইসকোর গেস্ট হাউসে কোয়ারেন্টাইন করে রেখেছিলেন। গত বেশ কয়েকদিন ধরেই সমস্ত কাজকর্ম তিনি সেখান থেকেই করছিলেন। সূত্র মারফৎ জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সুকেশ জৈনের লালারসের এক নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এবং রাতেই কলকাতা থেকে রিপোর্ট আসে। তাতে জানা যায় তিনি করোনা পজিটিভ। করোনা সংক্রমন চলাকালীন সুকেশ বাবু ঝাড়খণ্ড সীমানা এলাকার ডুবুডিহি চেকপোস্টে ব্যাপক ভাবে কাজ করেছিলেন। এই চেকপোস্ট দিয়েই পরিযায়ী শ্রমিকদের বেশীরভাগ আনাগোনা ছিল। অন্যদিকে পরিযায়ী শ্রমিকদের রাজ্যে ফেরানোর ব্যবস্থা এবং তাদের কোয়ারেন্টাইনে রাখার ব্যাপারেও তিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। পুলিশ মহলের অনুমান হয়তো এই সমস্ত কাজ করতে গিয়েই তিনি হয়তো করোনায় সংক্রমিত হয়েছেন। এখনো পাওয়া খবর পর্যন্ত তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here