সুরের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে করোনা মহামারির যন্ত্রনা

0
359

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- দিনের পর দিন মাসের পর মাস গৃহবন্দীর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে সুর তাল লয়ের বাধনে বেধে সংগীতের সুর মুর্ছনায় ডুবে রয়েছেন শিল্পীরা। দীর্ঘ দিন ডাক পড়েনি সামাজিক অনুষ্ঠান বাড়িতে তাই এক কথায় উপার্জনহীন হয়ে দিন গুজরান শিল্পী পাড়ার শিল্পীদের। যাদের কথা বলছি তারা ব্যান্ড পার্টির শিল্পী। যারা বিয়ে বাড়ি, অন্নপ্রাশন ও পুজা পার্বন সহ নানান অনুষ্ঠানে আসর মাতিয়ে তুলে। করোনা আবহে তারাও আজ চরম ক্ষতিগ্রস্থ। লকডাউন পরিস্থিতিতে নম নম করেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে সামাজিক অনুষ্ঠানগুলি তাই ছয় মাস ধরে এদের ডাক নেই। আপাতত বুকে এক রাশ আতঙ্ক কে সঙ্গী করে সুরের সাধনার মধ্য দিয়ে মহামারী থেকে মুক্তির আর্তি শিল্পীদের।

বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুর ব্লকের ধরাপাট গ্রাম। প্রায় ১০০পরিবারের বাস। এর মধ্যে প্রায় ৪০ টি পরিবার রয়েছে যাদের জীবন জীবিকা জড়িয়ে রয়েছে ব্যান্ডের দলের সাথে। এই গ্রামের নাম মানেই প্রথমেই মনে পড়বে বিখ্যাত ব্যান্ড পার্টি র কথা। দীর্ঘ প্রায় ৯০ বছরের প্রাচিন এই ব্যান্ড। স্বনামধন্য শিল্পী শক্তিপদ ধাড়ার হাত ধরে এই গ্রামে জন্ম নিয়েছিল ব্যান্ড পার্টির। একজন ভালো সানাই বাদক হিসেবে বেশ সুনামও কুড়িয়েছিলেন শক্তিবাবু। জেলা রাজ্য ছাড়িয়ে বাইরের রাজ্যে শক্তিবাবুর জনপ্রিয়তা বেড়েছিল। এরপর নিজের গ্রামে বিভিন্ন শিল্পী দের নিয়ে নিজের নামে তৈরি করেন ব্যান্ড পার্টির দল। শক্তিবাবুর হাত ধরে খুব কম সময়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করে তার এই ব্যান্ড পার্টি। আজ শক্তি বাবু বেঁচে নেই কিন্তু তার পাঁচ সন্তান বাবার হাতে গড়া স্বপ্নের ব্যান্ড কে আখড়ে রেখেছেন। শক্তিবাবু নিজে ব্যান্ড পার্টির সমস্ত যন্ত্র সংগীতে পারদর্শী ছিলেন। তাই তার পাঁচ সন্তান কে নিজের হাতে যন্ত্র সংগীত শিখিয়ে তৈরি করে ছিলেন। বাবার হাত ধরে শক্তি ব্যান্ডের অতিহ্য ধরে রেখেছেন তার ছেলেরা। দীর্ঘদিন উপার্জন নেই বর্তমান কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দাঁড়িয়ে যন্ত্রসংগীত গুলোকে নিয়ে রেওয়াজের মধ্য দিয়ে সুরের আবহে মশগুল শিল্পীরা।

বিষ্ণুপুর থেকে সামান্য দূরে ধরাপাট গ্রামের রাস্তার পাশ দিয়ে কান পাতলেই শুনতে পাওয়া যাবে শিল্পীদের সাধনার সুর। অনুষ্ঠান নেই তাই বর্তমানে ডাক নেই ব্যান্ডপার্টি দের। ছ মাস ধরে রোজকার নেই শিল্পীদের। তবুও প্রাণের চেয়ে প্রিয় যন্ত্রসংগীত নিয়ে বাড়িতে বসেই বিভিন্ন ধরনের রাগ, রবীন্দ্র সংগীত দেশাত্মবোধক হিন্দি বাংলা গানের সুরের আবহে ডুবে রয়েছেন প্রাচীন ঐতিহ্যের ব্যান্ডের শিল্পীরা। লকডাউন পরিস্থিতিতে মন ভালো না থাকলেও সংগীত সাধনার মধ্য দিয়ে শান্তি খুঁজছেন শিল্পীরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here