আবার করোনা সংক্রমন দুর্গাপুরের চিকিৎসকেরঃ শহর জুড়ে ছড়ালো চাঞ্চল্য

0
4293

বিমান পন্ডিত, দুর্গাপুরঃ- ফের করোনায় আক্রান্ত দুর্গাপুরের চিকিৎসক। এবার খোদ সরকারি হাসপাতালে। এই নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই বিস্তর চাঞ্চল্য শিল্প শহর জুড়ে। পাশাপাশি, এ প্রশ্ন ও ইতিমধ্যেই উঠতে শুরু করেছে- করোনার উপসর্গ থাকা সত্বেও ওই মহিলা চিকিৎসক কে কেন টানা দু’দিন ধরে ‘ডিউটি’ তে রাখা হল। যদিও, এ দিনই পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক সাফ জানিয়ে দেন, “ওই চিকিৎসকের মধ্যে করোনা আক্রান্তের কোনও উপসর্গই ছিল না। তিনি নিজেই স্বেচ্ছায় কোভিড-টেষ্ট করিয়েছিলেন আরো কয়েকজনের মতো”।

গত দু’সপ্তাহ ধরে, দুর্গাপুরে বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক- স্বাস্থ্য কর্মীদের কোভিড-১৯ আক্রান্ত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। যদিও, বেসরকারি হাসপাতাল গুলির চিকিৎসকেরা হোম কোয়ারান্টাইনে রয়েছেন, তবে খোদ বিধান নগরেরই অ্যাস্ট্রোনাট অ্যাভিন্যুর একটি বাড়িতে বসবাসকারী ওই মহিলা চিকিৎসকের করোনা সংক্রমনের ঘটনায় অস্বস্তিতে পড়েছেন স্বাস্থ্য মহলের শীর্ষ কর্তারাই। বিশেষ একটি সূত্রে জানা গেছে, করোনা আক্রান্ত ওই চিকিৎসক ডাঃ আত্রেয়ী ব্যানারজীর নমুনা সংগ্রহ হয় ৪ জুলাই। বর্ধমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মাইক্রো বায়োলজি বিভাগ, ৭ জুলাই সন্ধ্যায় তার টেষ্ট-রিপোর্ট দুর্গাপুরে পাঠায় মেডিক্যাল কলেজ। আশ্চর্যের বিষয় হল, ৭ জুলাই সন্ধ্যাতেও ডাঃ ব্যানারজী যথারিতি নাইট ডিউটির কাজে যোগ দেন দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে। এই নিয়ে বুধবার সকাল থেকেই বাজার সরগরম করেছে বিজেপি। বিজেপির জেলা কমিটির আহ্বায়ক অমিতাভ ব্যানারজী প্রশ্ন তুলেছেন, “কোন আক্কেলে করোনায় সংক্রমিত একজন চিকিৎসককে দিয়ে ডিউটি করাল সরকারি হাসপাতাল? এনিয়ে হাসপাতাল সুপার ডাঃ দেবব্রত দাসের কাছে কেনই বা কৈফিয়ত চাইছেন না স্বাস্থ্য কর্তারা?” তবে, সরকারি সূত্রে পাওয়া অন্য একটি রিপোর্ট অবশ্য অমিতাভ’র দাবিকে খারিজ করে দিয়েছে। ওই রিপোর্টেই স্পষ্ট বলা আছে, ডাঃ ব্যানারজী ‘স্বেচ্ছায়’ কোভিড টেস্ট করান, তার উপসর্গ ছিল না। গোটা ঘটনায়, পশ্চিম বর্ধমান জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক ডাঃ দেবাশিস হালদার এদিনই বলেন, “সরকারি প্রোটোকল মেনে ওই চিকিৎসকের সংস্পর্শে আসা তার পরিবার ও কর্মস্থলের লোকেদের নামের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। ওনার সংস্পর্শে আসা তার পরিবার ও কর্মস্থলের লোকেদের নামের তালিকা তৈরির কাজ শুরু করে দিয়েছে পুলিশ। ওনার সংস্পর্শে আসা সবার লালারসের নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হবে।” এদিকে ওই মহিলা চিকিৎসক দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালের চেয়ে কলকাতায় চিকিৎসা করাতে চাইছেন, কারন সেখানেই তার পরিবারের লোকেরা রয়েছেন।

বুধবার সকাল পর্যন্ত পশ্চিম বর্ধমান জেলায়, গত ২৪ ঘণ্টায় ৩জন নতুন করোনা রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ পর্যন্ত জেলায় ১৮ জন কোভিড-পজিটিভ রোগীর সন্ধান মিলল। এদের মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন ১ জন। এদিকে, দুর্গাপুরের সনকা কোভিড হাসপাতাল থেকে ছুটিও হয়েছে ৩ জন রোগীর, বলেই স্বাস্থ্য দফতর থেকে জানা গেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here