দেশজুড়ে চলছে লকডাউন, সাংসারিক অনটনের মধ্যে সোনামুখীর তাঁত শিল্পীরা

0
463

সংবাদদাতা, বাঁকুড়াঃ- খটাখট শব্দে আপন মনে তাঁত বুনে চলেছেন সোনামুখীর তাঁত শিল্পীরা। কিন্তু আর কতদিন তারা এই কাজ চালিয়ে যেতে পারবেন তাই নিয়ে তৈরি হয়েছে সংশয়। এই মুহূর্তে বিশ্বে আতঙ্কের আর এক নাম নোবেল করোনাভাইরাস। ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধের জন্য গোটা দেশজুড়ে চলছে লকডাউন । গৃহবন্দি হয়ে রয়েছেন দেশের ১৩০ কোটি সাধারণ মানুষ। আর এমতাবস্তায় সবথেকে বেশি সমস্যায় পড়তে হয়েছে দিনমজুরির সঙ্গে যুক্ত শ্রমিকদের।

এই যেমন বাঁকুড়া জেলার প্রাচীন পৌর শহর সোনামুখী , সোনামুখীর এক ঐতিহ্য তাঁত শিল্প। সোনামুখীর তাঁত শিল্প শুধুমাত্র এ রাজ্যে নয় রাজ্যের গন্ডি পেরিয়ে এমনকি দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিদেশেও খ্যাতি অর্জন করেছে। সোনামুখীতে মূলত সিল্ক শাড়ি থ্রিডি শাড়ি বিখ্যাত। সোনামুখী পৌর শহরের কয়েকশো তাঁত শিল্পি এই তাঁত শিল্পের উপর নির্ভর করে সারাবছর নিজেদের সংসার চালানোর অর্থ উপার্জন করে থাকেন । কিন্তু এই মুহূর্তে তাদের সংসার চালানো দায়ভার হয়ে দাঁড়িয়েছে । সারাদিন যে কাপড়টা তৈরি করে একটা সময় ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা মজুরি পেতেন কিন্তু বর্তমানে কাজ করলেও ১০০ থেকে ২০০ টাকার বেশি মজুরি পাচ্ছেন না। কেননা কাপড় বিক্রি নাহলে মহাজনরাই বা কোথা থেকে তাদের দিনমজুর দেবেন। ফলে অর্ধেক টাকায় রয়ে যাচ্ছে মহাজনের কাছে। ফলে রীতিমতো সাংসারিক অনটনের মধ্যে পড়তে হয়েছে এই তাঁত শিল্পীদের। এখন তারা তাকিয়ে রয়েছেন কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে সচ্ছন্দে ফিরে আসে তাঁত শিল্প।

যদিও সোনামুখী পৌরসভা সর্বদাই সোনামুখীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষদের পাশে থাকার চেষ্টা করছেন । ইতিমধ্যেই সকলকে সোনামুখী থানা এবং সোনামুখী পৌরসভার উদ্যোগে চাল ডাল আটা তেল সোয়াবিন সহ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য প্রদান করা হয়েছে। সাধারণ মানুষদের বিশেষ করে দিন আনা দিন খাওয়া মানুষগুলোকে যাতে না খেয়ে দিন কাটাতে না হয় সেদিকে নজর রয়েছে সোনামুখী পৌরসভার।

সদানন্দ সুর বাবলু সুর নামে ১১ নম্বর ওয়ার্ডের তাঁত শিল্পীরা বলেন , লকডাউন এর ফলে বাইরে থেকে কাঁচামাল আসছে না যেটুকু রয়েছে তাই দিয়ে আজ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে নিলাম তবে কারো কারো আবার কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একটা কাপড় বুনে ৪০০ টাকা মজুরি পায় মহাজন’ আমাদেরকে এখন ২০০ টাকা দিচ্ছেন বাকিটা কবে দেবে তা অজানা । তাই এই মুহূর্তে সংসার চালাতে খুবই সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। সরকার যদি একটু সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় খুবই ভালো হয়।

সঞ্জয় গুই নামে এক তাঁত ব্যবসায়ী ( মহাজন ) বলেন , লক ডাউন এর জন্য এই মুহূর্তে ট্রান্সপোর্ট বন্ধ হয়ে রয়েছে ফলে বাইরে থেকে কাঁচামাল আমদানি হচ্ছে না। তার ওপর উৎপাদিত কাপড় বাইরে রপ্তানিও করতে পারছিনা ফলে বাড়িতেই জমায়েত করে রাখতে হচ্ছে উৎপাদিত শাড়ি। এর ফলে আমরা তাঁত শিল্পীদের ন্যায্য মজুরি দিতে পারছিনা। তাই এরকম পরিস্থিতিতে সরকার তাঁত শিল্পীদের পাশে দাঁড়ালে খুবই ভালো হয়।

এ বিষয়ে সোনামুখী পৌরসভা পৌরপিতা মাননীয় সুরজিৎ মুখোপাধ্যায় বলেন , সোনামুখী শহর এবং ব্লক সমস্ত এলাকার সাধারণ মানুষদের সর্বদাই আমরা খোঁজ-খবর রাখছি। মানুষের পাশে থাকা এটা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব আমরা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে এটা শিখেছি। তাদের যাতে কোনো সমস্যা না হয় সে ব্যাপারে আমরা সর্বদাই নজর রেখে চলেছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here