“শব্দছকে করোনাভাইরাস” তৈরি করে শুভজ্যোতির লক্ষ্য গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম তোলার

0
780

সংবাদদাতা, কলকাতা:- সারা দেশজুড়ে চলছে চতুর্থ পর্যায়ের লকডাউন। করোণা আক্রান্তের ভয়ের মানুষজন এখন গৃহবন্দী। কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে বেশকিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে সাধারণ মানুষের সুবিধার্থে। তবুও লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। সুস্থ হয়ে বাড়ি ও ফিরছেন অনেকেই। পরিযায়ী শ্রমিকরা এখনও রাস্তার ধারে হেঁটে চলেছেন বাড়ি যাওয়ার উদ্দেশ্যে। রাজ্যের প্রশাসন তাদেরকে বাড়ি ফিরিয়ে দেওয়ার সবরকম প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।

গতকাল রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর পক্ষ থেকে একটি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। চতুর্থ পর্যায় লকডাউন এ পশ্চিমবঙ্গের মানুষজনকে কি কি বিধি নিষেধ মানতে হবে তা নিয়ে। বেশ কিছু নতুন সুবিধা দেওয়া হয়েছে সাধারণ মানুষকে কিন্তু যারা খেলতে ভালোবাসেন তাদের মাঠে যাওয়া এখনো বারন রয়েছে। তাই মানুষজন এখন টেলিভিশন ও মোবাইলে নিজেদেরকে ব্যস্ত রেখেছেন।

এমন অনেক মানুষ আছেন যারা এখনো পর্যন্ত সংবাদপত্রে শব্দছক খুঁজে বেড়ান। ঘুম থেকে উঠে সকাল বেলায় খবরের কাগজের শব্দছক নিয়ে বসে পড়েন এরকম মানুষের সংখ্যা খুব একটা কম নয়। তাই এবার সেই শব্দছকই এল করোনাভাইরাস এর নাম করে। কলকাতার সন্তোষপুর এলাকার বাসিন্দা শুভজ্যোতি রায়, তার পিতা ভজহরি রায়, অবসরপ্রাপ্ত সহ প্রধান শিক্ষক ও মাতা সুষমা দেবি গৃহবধূ। সেই ছোটবেলা থেকেই স্কুলে পড়াকালীন শব্দছক তৈরি করার এক আজব নেশা ছিল শুভজ্যোতির। তার তৈরি করা শব্দছক পশ্চিমবঙ্গ তথা দেশের বিভিন্ন সংবাদপত্র ও পত্রিকায় ইতিমধ্যেই প্রকাশিত হয় নিয়মিত। ইতিমধ্যেই শুভজ্যোতি প্রায় ২৭৫০ টিরও বেশি শব্দ শব্দছক তৈরি করে ফেলেছেন যা শুধু পশ্চিমবঙ্গে নয় গোটা ভারতবর্ষে একটি রেকর্ড।
বাংলার যেকোনো অনুষ্ঠানে হোক, যমন নববর্ষ, দুর্গাপূজা, বড়দিন, রামকৃষ্ণ, বিবেকানন্দ, ভূত, রথযাত্রা, রবি ঠাকুর, গোয়েন্দা ব্যোমকেশ, বিশ্বকাপ, কিশোরকুমার ও অনেক কিছুকে নিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই তৈরী করে ফেলেছেন শব্দছক। বাড়ি ভর্তি তার অসংখ্য বাংলা অভিধান বইয়ের। এলোমেলো ভাবে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে তার এই বাংলা অভিধানের সম্ভার। ছোটবেলা থেকে ছেলের এই শব্দছক তৈরি করার নেশাকে বাবা-মা পাগলামি বলে ভাবতেন। কিন্তু যেদিন ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে তার স্বীকৃতি হল সেদিন তারা বুঝলেন ছেলের এই মূল্যবান প্রতিভার কথা।

সারাদিনে শুভজ্যোতি প্রায় ১২ ঘন্টার মতন সময় ব্যতীত করেন এই শব্দছক তৈরি করতে। অনায়াসেই ১০ থেকে ২০ টি শব্দছক তৈরি করে ফেলেন সারাদিনে। তার এখন একটাই লক্ষ্য গিনিস বুক অব রেকর্ডস এ নাম তোলার। দেশের এই করোনা সংকটকালে ও তার মাথায় করোনাভাইরাস নিয়ে শব্দছক করার এক অভিনব ভাবনা আসে। তাই তিনি করোনা ভাইরাস নিয়ে ইতিমধ্যে শব্দছক তৈরি করে ফেলেছেন। তার এই করোনা ভাইরাস শব্দছক এ রয়েছে এই মারণ রোগকে রোধ করতে কি কি করতে হবে এবং কি কি প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীরা আগেই জানিয়েছেন যে এই ধরনের শব্দছক নিয়ে খেলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা বাড়ে। তাই ঘরে বসে লকডাউন এর সময় অনায়াসেই আপনি খেলতে পারেন করোনা ভাইরাস শব্দছক। শুভজ্যোতি বাবু জানান করোনা ভাইরাস কে নিয়ে তার শব্দছক সম্পূর্ণভাবে সচেতনতা মূলক। সমাজকে একটি বার্তা দেবে যে করোনা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের কি কি করনীয়। তিনি আরো বলেন “করোনা” “আর না” নাম দিয়ে তিনি ইতিমধ্যেই বেশ কয়েকটি করোনা ভাইরাস শব্দছক তৈরি করে ফেলেছেন। তিনি তার এই করোনাভাইরাস শব্দছক এ নানান সচেতনতা মূলক বার্তা দিয়েছেন। তাহলে আর সময় নষ্ট না করে চলুন বসে পড়ি শুভজ্যোতি রায়ের শব্দছক করোনাভাইরাস কে নিয়ে খেলতে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here