বর্ষবরণের আলোয় যখন ভাসছে দেশ, আঁধারেই ডুবে গেল দুর্গাপুরের বিদ্যুৎ কেন্দ্র

0
986

মনোজ সিংহ, দুর্গাপুরঃ- মাঝরাতে দেশজুড়ে যখন বর্ষবরণের আলোর রোশনাই, তখন ঝুপ করে অন্ধকারে ডুবে গেল দুর্গাপুর তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র(ডিটিপিএস)। তার একমাত্র বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটও বন্ধ করে দেওয়া হল সকলের অগোচরে।

রাজ্য দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদ অবশ্য ডিটিপিএসের একমাত্র চালু ইউনিটটির দূষণমাত্রা কমিয়ে আনার জন্য ৩১ ডিসেম্বর ২০২০ পর্যন্ত চূড়ান্ত সময়সীমা ধার্য করে। ওয়াকিবহাল সূত্রের ধারনা, দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদের ওই নির্দেশকে হাতিয়ার করেই শেষপর্যন্ত ডিটিপিএসের একমাত্র চালু ইউনিটটিকেও গুটিয়ে ফেলল ডিভিসি। ডিটিপিএসের মুখ্য বাস্তুকার কে কে সিনহা অবশ্য বলেন, “ট্রান্সফরমার সহ দূষণ নিয়ন্ত্রনের কিছু যন্ত্রাংশ মেরামতির জন্য গোড়ায় ৬ দিন উৎপাদন বন্ধের কথা ভাবা হলেও এখন আপাতত ১৪দিন বন্ধ রাখা হচ্ছে।” সংস্থার আধিকারিক ও শ্রমিক মহলের ধারনা অবশ্য ১৪ দিন নয়, আদতে চিরতরেই বন্ধ হয়ে গেল ডিটিপিএস। কারণ, ২০১৭-র ২১ জুন ডিভিসির কলকাতার সদরদপ্তরে ২৫ বছরের বেশী পুরনো বিদ্যুৎ উৎপাদন ইউনিটগুলি একে একে বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। যার জেরে বোকারো ও চন্দ্রপুরার ৩ টি ইউনিট সেবছরেরই ৮ সেপ্টেম্বর গুটিয়ে ফেলা হয়। ওই তালিকায় ছিল ডিটিপিএস। বোকারো ও চন্দ্রপুরায় আরো উৎপাদন ইউনিট থাকায় সেখানে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলি বন্ধ হয়নি, কিন্তু ডিটিপিএসের কেবলমাত্র ৪নং ইউনিট চলছিল। সেটিও বন্ধ হওয়ায় এবার বিদ্যুৎ কেন্দ্রটিই উঠে যাবার পথে।

দামোদর ভ্যালি কর্পোরেশন ১৯৬৬ সালে ডিটিপিএসের উৎপাদন শুরু করে। গোড়ায় দুটি ৭৫ মেগাওয়াট ও একটি ১৪০ মেগাওয়াট ইউনিট ছিল। পরে ১৯৮২-র সেপ্টেম্বর মাসে রাষ্ট্রায়ত্ত ভেল’র হাত ধরে ২২০ মেগাওয়াটের চতুর্থ ইউনিট আসে। এরপর ১৯৮৫তে অগ্নিকাণ্ডে ১ ও ২নং ইউনিট দুটি পুড়ে ছাই হয়ে গেল, সেগুলি গত ৩৫ বছরে আর সারিয়ে তোলাই হয়নি। চলছিল যে ৪ নং ইউনিট সেটিও অন্য অছিলায় বন্ধ করে দেওয়া হল।

অথচ ডিটিপিএসের শ্রমিক সংগঠনগুলির যৌথ মঞ্চ গত দু’বছর ধরে বার বার ৪নং ইউনিটটিকে দূষণ-মুক্ত করার পাশাপাশি তার স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের নানান পরামর্শ দিয়ে এসেছে। “আমাদের বলাই সার। ওনারা জেদ ধরেই বসেছিলেন কিভাবে ডিটিপিএস কে পুরোপুরি বন্ধই করে দেওয়া যায়। কাল মাঝরাতে চুপিসারে ওনারা তাই-ই করে ফেললেন,” বললেন ডিটিপিএসের যৌথ শ্রমিক মঞ্চের নেতা, ইনটাকের সুব্রত মিশ্র।

গত ১৩ অক্টোবর, ২০২০ যৌথমঞ্চ ডিভিসির সদস্য-সচীব পি.কে মুখার্জীকে ডিটিপিএসের ইউনিট মেরামতি ও দূষণ নিয়ন্ত্রনের বিষয়ে একগুচ্ছ প্রস্তাব পাঠায়। সুব্রত মিশ্র বলেন, “ইউনিটের ইলেক্ট্রো স্ট্যাটিক প্রেসিপিটেটরের গ্যাস সঞ্চালন ও সেটিকে পুরোপুরি অবর্জনা মুক্ত করার পাশাপাশি ইউনিটের হিট রেট কমানোর জন্য বাস্প ইজেক্ট সিস্টেমের বদলে ভ্যাকুম পদ্ধতি ব্যবহারের কথা বলা হয়। দূষণ কমাতে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কোল কমপ্লেক্সকে আধুনিক করার কথাও বলা হয়।”

ডিভিসির হিসাবে ডিটিপিএস বাঁচাতে ৩৩০ কোটি টাকার দরকার বলা হলেও, সংস্থার যৌথ মঞ্চের হিসাব অনুযায়ী ৫৫ কোটি টাকা পেলেই বেঁচে যেত ৫৪ বছরের এই বিদ্যুৎ কেন্দ্র।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here