লকডাউনে দুঃস্থদের ৫০/- টাকায় ডায়লেসিস কলকাতায়

0
221

এই বাংলায় ওয়েব ডেস্কঃ- ডায়লোসিস! কথাটার সাথে বিশেষ ভাবে কিডনির রোগীরা পরিচিত। আর কিডনি রোগীদের মাসে বার তিনেক ডায়লোসিস করাতেই সর্বস্বান্ত হয়ে যান রোগীর পরিবার। এতটাই ব্যয়বহুল খরচ হয় ডায়লোসিসে! কিন্তু আপনাকে যদি বলি কলকাতার মধ্যে ৫০/- টাকায় ডায়লোসিস হয়! আপনি কি বিশ্বাস করবেন? জানি ভাবছেন যে অসম্ভব! কিন্তু অসম্ভব ও তো সম্ভব হয়! এও তেমনি!

২০১৯ এর লোকসভা নির্বাচনে CPIM ডায়মন্ডহারবার লোকসভা কেন্দ্রের প্রার্থী তথা প্রাক্তন অধ্যক্ষ ছিলেন ড. হাসিম আব্দুল হালিমের। তারই পুত্র ডা. ফুয়াদ হালিম সোশ্যাল মিডিয়ায় বার্তায় জানিয়েছেন এই পরিষেবার কথা। ডা. ফুয়াদ হালিমের কথায়-“কলকাতা স্বাস্থ্য সংকল্প, কোভিড-১৯ এর এই অনিশ্চিত সময়ে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত দারিদ্র ও কম সুবিধাপ্রাপ্ত মানুষদের জন্য ৫০/- টাকার বিনিময়ে ডায়ালিসিস দিয়ে গেছেন। গত ২৬ মার্চ থেকে এখনও অবধি ১৬৪৩ টি ডায়ালিসিস করেছেন”

ডা: ফুয়াদ হালিম বলেছেন, “আমরা ডায়োলিসিস করছি গত ১২ বছর ধরে। আমরা যখন এটা প্রথম খুলেছিলাম, তখন থেকেই আমাদের লক্ষ ছিল যে কম পয়সায় ডায়ালিসিস করানো।যাতে গরীব ও দুঃস্থ মানুষদের পরিষেবা দেওয়া যায়। মূলত তাদের কথা ভেবেই আমরা এই পরিষেবা চালু করি‌। আমরা ৫০০/- টাকা দিয়ে শুরু করেছিলাম। সেখান থেকে কমিয়ে ৪৫০/- টাকা করেছি। তারপরে ৪০০/- করি পরে আর ও কমিয়ে ৩৫০/- টাকা করি। লকডাউনের আগে অবধি ৩৫০/- টাকা তেই এই পরিষেবা দিয়ে আসছিলাম। ২৬ মার্চের থেকে লকডাউন পরে যাওয়ায় ডায়ালিসিসের চার্জ ৫০/- টাকা করতে বাধ্য হই।”

কিন্তু এত কম খরচে কী করে ডায়ালয়োসিস করানো সম্ভব ?
এর উত্তরে ফুয়াদ হালিম বলেন যে- এটা সম্ভব হয়েছে কারণ এই সেন্টারে আনুষঙ্গিক আর কোন খরচ নেই। অর্থাৎ এই সেন্টারে এয়ারকন্ডিশনিং নেই, ওয়েটিং এরিয়া নেই, কোনও লাউঞ্জ নেই, ঝাঁ চকচকে ক্যান্টিন নেই, এমনকি কোনো লিফ্ট অবধি নেই। এখানে ডায়ালেসিস ছাড়া বাড়তি আর কোন খরচ না থাকার দরুন এটি সম্ভবপর হয়েছে। এছাড়া এখানকার টেকনিশিয়ানরাও ভীষণ রকম দক্ষ। তারা মাল্টিপারপাস কাজ করতে পারেন‌। ডায়ালিসিস মেশিন সরবরাহকারীরা বাজারদরের থেকে কম দামে জিনিস দেন। তাই ডোনারদের পুরো অর্থ টুকুই রোগীদের জন্য ব্যয় করা সম্ভব হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here