মরেও শান্তি নেই, দুর্গাপুরের বেসরকারী হাসপাতালের দায়িত্বজ্ঞানহীনতায় দুটি মৃতদেহ বদল

0
732

নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ- দুর্গাপুরের বেসরকারী হাসপাতালে এও সম্ভব । দুটি আলাদা আলাদা মৃতদেহ দুটি আলাদা আলাদা পরিবারের হাতে তুলে দিল বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলে অভিযোগ । দুটি পরিবারই একে অপরের মৃতদেহ নিয়ে গেল সৎকারের উদ্দেশ্যে নিজের নিজের বাড়িতে। একটি পরিবার অন্য আরেকটি পরিবারের মৃতদেহ নিয়ে গেল ধানবাদের নিরসায় ও আর একটি পরিবার অন্যের মৃতদেহ নিয়ে গেল ত্রিবেণীতে। রোমাঞ্চকর এই ঘটনা ঘটেছে দুর্গাপুরেরই এক বেসরকারী হাসপাতালে গাফিলতিতে।

একটি সূত্র থেকে জানা গেছে চম্পাই মাজি(৫৫) নামক এক ব্যক্তি যিনি ঝাড়খন্ডের ধানবাদের নিরসায় বাসিন্দা কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের এক বেসরকারী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন শারীরিক সমস্যা নিয়ে । বুধবার বেলার দিকে তার মৃত্যু হয় । হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খবর দেয় তার পরিজনদেরকে। ঝাড়খন্ডের ধানবাদ থেকে আসতে পরিবারের দেরি হওয়ায় মৃতদেহটি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের নিজস্ব মর্গে রেখে দেয়।

অন্যদিকে দুর্গাপুরের ইছাপুর গ্রামের বাসিন্দা পরেশ সামন্ত(৮০) ,শারীরিক সমস্যা নিয়ে গত ১৬ ই ফেব্রুয়ারি হাসপাতলে ভর্তি হয়েছিলেন। এদিন তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে। তার মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় হাসপাতালের নিজস্ব মর্গে ।

বুধবার বিকেল দিকে দুই পরিবারই তাদের নিজেদের মৃতদেহ নিতে আসেন এবং বেসরকারী হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাদরে আপাদমস্তক মোড়া দুটি মৃতদেহ দুই পরিবারকে হস্তান্তর করে দেয়। মৃতদেহ হস্তান্তরের সময় দুই পরিবারের পরিজনরা কেউই মৃতদেহের মুখ দেখে চিহ্নিতকরণ না করেই মৃতদেহগুলি সৎকারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যায় তাদের নিজ নিজ স্থানে।

দুর্গাপুরের ইছাপুর গ্রামের পরেশ সামন্ত এর পরিবার মৃতদেহ সৎকারের জন্য নিয়ে যান ত্রিবেণীতে। সেখানে গিয়ে তাঁরা দেখেন যে পরেশ বাবুর মৃতদেহ জায়গায় অন্য কারো মৃতদেহ তারা বহন করে নিয়ে এসেছেন। শুরু হয়ে যায় গন্ডগোল। তৎক্ষনাতই টেলিফোন মারফত ওই পরিবার যোগাযোগ করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সাথে এবং পুরো বিষয়টি তারা ক্ষোভের সাথে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে জানায় বলে অভিযোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদেরকে ব্যাপারটি নিয়ে মুখ খুলতে মানা করেন ও তাড়াতাড়ি তারা এর সমস্যা সমাধান করবেন বলে আর তাদের আশ্বাস দেন বলে অভিযোগ।

অন্যদিকে চম্পাই মাজির পরিবার মৃতদেহ সৎকারের উদ্দেশ্যে ততক্ষণে পৌঁছে গিয়েছেন ধানবাদ এর নিরসায়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চম্পাই মাজির পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং পুরো ঘটনাটি তাদের খুলে বলেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দুই পরিবারের কাছে অনুরোধ জানায় যে তারা যেন জনসমক্ষে এই ঘটনার কথা জানাজানি না করেন বলে অভিযোগ। কিন্তু দুই পরিবারের সদস্যরা ইতিমধ্যেই বিভিন্ন আত্মীয়-পরিজন কে উক্ত ঘটনার কথা জানাজানি হয়ে যায় । শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী এখনও পর্যন্ত দুই পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশের কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ করা হয়নি বলে জানা গেছে।

এই ঘটনা জানাজানি হতেই দুর্গাপুর শিল্পাঞ্চল জুড়ে আলোড়ন পড়ে যায়। দুর্গাপুরের বেসরকারী হাসপাতালে চরম দায়িত্বজ্ঞানহীনতা আরেকবার সামনে চলে আসে। সহজেই অনুমান করা যায় যে দুর্গাপুরে যে সমস্ত বেসরকারী হাসপাতাল গুলি রয়েছে তাদের পরিষেবার মান কতটা উন্নত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here