শ্যালকের বিরুদ্ধে ভগ্নিপতিকে খুনের অভিযোগ, মৃতদেহ না দেখেই ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু চাঞ্চল্য এলাকায়

0
332

সংবাদদাতা, কলকাতাঃ- জমির প্রমোটিং ঝামেলার জেরে বোনের অনুপস্থিতিতে ভগ্নিপতিকে খুনের অভিযোগ উঠল শ্যালকের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রে এও জানা যায়, তোষকের মধ্যে মৃতদেহ মুড়ে বরফে চাপা দিয়ে দেহটিকে লোপাটের চেষ্টাও করা হয়। অন্যদিকে রোগীকে না দেখেই ডেথ সার্টিফিকেট দিয়ে দেন ওই এলাকারই এক হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক। এই হাড়হিম করা চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে কলকাতার রিজেন্ট পার্ক এলাকায়। রিজেন্ট পার্ক এলাকার বাসিন্দা সমীররঞ্জন সুর অনেকদিন ধরেই অসুস্থ ছিলেন। তিনি বাড়ি থেকে বেশি বেরতেন না। সমীররঞ্জন বাবু কে বাড়িতে একা রেখেই পরিচিত বেশ কয়েকজনের সঙ্গে পাঞ্জাবে বেড়াতে গিয়েছিলেন তার স্ত্রী জয়ন্তী সুর এবং মেয়ে। তাই সমীররঞ্জন বাবুর দেখাশোনার দায়িত্বে ছিলেন তার শ্যালক বিশ্বনাথ দাস। কিন্তু এরমধ্যেই সমীররঞ্জন বাবুর শারীরিক অসুস্থতা বাড়তে থাকে। শ্যালক বিশ্বনাথের দাবি শারীরিক অসুস্থতা এতটাই ছিল যে তার ভগ্নিপতি হঠাৎই মারা যান। তৎক্ষনাৎ বিশ্বনাথ সমীররঞ্জন বাবুর মৃত্যুর দুঃসংবাদ তার স্ত্রী এবং মেয়েকে ফোন করে জানিয়ে দেন। তবে তখনও ওই বৃদ্ধের মৃত্যুর খবর পাননি সেখানকার প্রতিবেশীরা। ইতিমধ্যেই, বাড়িতে তোষক এবং বরফের স্তুপ নিয়ে ঢুকতে দেখা যায় বিশ্বনাথকে। আর এতেই প্রতিবেশীদের সন্দেহ বাড়তে থাকে। প্রতিবেশীদের দাবি, তোষকে মুরে বরফ চাপা দিয়ে বাড়ির সামনে দাঁড় করানো ম্যাটাডোরে চাপিয়ে সমীরবাবুর মৃতদেহকে দাহ করতে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে বিশ্বনাথ। তাতেই প্রতিবেশীদের মনে রহস্য আরও দাঁনা বাঁধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিশ্বনাথ তার ভগ্নীপতি সমীরবাবু কে প্রতিদিন অত্যাচার করত। বিশ্বনাথই তার ভগ্নীপতি কে খুন করেছে এমন অভিযোগ ও পাওয়া গেছে। ইতিমধ্যেই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং বাড়িতে রাখা ফ্রিজার থেকে উদ্ধার করে সমীর বাবুর মৃতদেহ। অন্যদিকে সমীর বাবুর মৃত্যুর খবর জানতেই তার স্ত্রী এবং মেয়ে খুব তাড়াতাড়ি পাঞ্জাব থেকে ফিরছেন বলে জানা গেছে। এদিকে পুলিশ শ্যালক বিশ্বনাথ দাস কে আটক করে জোরদার জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। তবে কি ভাবে ডেথ সার্টিফিকেট জোগাড় করল বিশ্বনাথ তা নিয়ে পুলিশ এখনও ধন্দে রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সমীর বাবু অসুস্থ হয়ে পড়লে সেখানকারই এক হোমিওপ্যাথি ডাক্তার কে ডেকে আনে বিশ্বনাথ। তখন বিশ্বনাথ ডাক্তার কে সমীর বাবুর স্ত্রী জয়ন্তীর সাথে ফোনে কথা বলায়। এবং জয়ন্তী ও বিশ্বনাথের অনুরোধেই ডাক্তার ডেথ সার্টিফিকেট দিতে বাধ্য হয়। তবে ডাক্তারের দাবি তাকে সমীর বাবুর মৃতদেহ দেখতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু নিয়ম বলে যে, কোনো মৃতদেহ না দেখে ডেথ সার্টিফিকেট ইস্যু করা যায় না। নিয়ম ভাঙলে ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলাও রজু হতে পারে। কিন্তু কি করে মৃতদেহ না দেখে ডাক্তার এ কাজ করলেন তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here