দুর্গাপুরে আদিবাসী ভাই-বোনদের “মাঃ মড়ে” পরব উদযাপন, নাচে, গানে মাতলো শহর, দেখুন ভিডিও

0
928

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ বাঙালীর বারো মাসে তেরো পার্বণ উৎসবের কথা আমরা সকলেই জানি, কিন্তু এই বাঙালীদের থেকে কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষজনও। সেই আদিবাসী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন উৎসবের মধ্যে অন্যতম হল প্রকৃতির দেবতা বাহা মাঃ মড়ে পরব। প্রকৃতির দেবতাকে সন্তুষ্ট করতে আদিবাসী সম্প্রদায়ের ভাই-বোনদের নাচ, গান পুজো-অর্চনা, রীতি রেওয়াজ সত্যিই দেখার মতো। বাঙালীর বুদ্ধপূর্নিমার দিনে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এই প্রকৃতির দেবতার পূজোর সূচনা হয়। দুদিন ধরে চলা এই উৎসবের প্রথম দিনকে বলা হয় উম মাহা এবং দ্বিতীয় দিনকে বলা হয় সাড্ডি মাহা। মূলত প্রকৃতির দেবতার কাছে এই আদিবাসী সম্প্রদায়ের প্রার্থনা সারা বছর যেন তারা সুখে, শান্তিতে ভালো থাকতে পারে, ফসলে পরিপূর্ণ হয় যেন শস্য গোলা। পুজোর প্রথম দিন সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ নতুন জামাকাপড় পরিধান করেন, বাড়ির উঠোন সুন্দর করে নিকানো হয়। এরপর স্নধ্যাবেলায় নিজেদের গান আর ধামসা-মাদলের তালে তালে পুরুষ এবং মহিলা সকলেই নাচে-গানে মেতে ওঠেন।

গোধূলির আলো আর আধারি পরিবেশে আদিবাসী নাচ-গান আর দ্রিম দ্রিম ধামসা-মাদলের তাল মন মাতিয়ে তোলে। শনিবার প্রকৃতির দেবতা বাহা মাঃ মড়ে পরবের সূচনায় দুর্গাপুরের চিত্রালয় ময়দানেও ধরা পড়ল এমনই উৎসবের ছবি। জানা গেছে এই উৎসবের দ্বিতীয় দিন অর্থাৎ সাড্ডি মাহার দিন বিশেষ পুজোর আয়োজন করেন আদিবাসী সম্প্রদায়ভুক্ত মানুষজন। পুজোর শুরুতে সকালবেলায় আদিবাসী মহিলারা ঘটে জল ভরে তা মাথায় নিয়ে পদযাত্রা করে পুজোর মণ্ডপে পৌঁছান। মাথায় ঘট নিয়ে সেই শোভাযাত্রা অত্যন্ত মনোরম। এরপর মন্দির বা দেবতার থানে তাদের রীতি-রেওয়াজ মেনে শুরু হয় পুজো-অর্চনা। প্রকৃতির দেবতার কাছে সকলের শান্তি ও সমৃদ্ধি প্রার্থনা। এই পুজো দেখতে দূরদূরান্ত থেকে যেমন প্রচুর লোক আসেন আদিবাসী সম্প্রদায়ের পুজো দেখতে তেমনি তাদের ধামসা মাদলের তালে নাচ-গান দেখতেও প্রত্যেক বছর বহু মানুষ ভিড় জমান। এই পুজোয় দ্বিতীয় দিনে যেমন সকালে মহিলারা শোভাযাত্রায় সামিল হন তেমনি আবার সন্ধ্যাবেলাতেও একইভাবে পদযাত্রার রীতি প্রচলিত আছে। শুধু দুর্গাপুরের চিত্রালয় ময়দান নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে আদিবাসী গ্রামগুলিতে বুদ্ধপূর্নিমার এই বিশেষ দিনে প্রকৃতির দেবতার উদ্দেশ্যে আদিবাসী সম্প্রদায়ের এই বিশেষ অনুষ্ঠানের প্রচলন রয়েছে।