চাকরির নামে টাকা নেওয়ার অভিযোগ অশোক কুন্ডুর বিরুদ্ধে, পাল্টা “বেইমান বিহারী” বলে কটাক্ষ জীতেন্দ্র তিওয়ারীকে

0
4525

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ২০১৯ লোকসভা ভোটের পর পেরিয়ে গেছে বেশ কয়েকটা দিন আর লোকসভা ভোট পরবর্তী রাজ্য তথা শিল্পশহর দুর্গাপুরের রাজনীতিতেও বয়ে গেছে অনেক জল। তবে লোকসভা পরবর্তী রাজনৈতিক ঘটনাবহুল শিল্পশহরের সমস্ত রাজনৈতিক ঘটনা, রাজনৈতিক বিবাদ সমস্ত কিছুকেই ছাপিয়ে গিয়েছে গতকাল শনিবাসরীয় শিল্পশহরে ঘটে যাওয়া এযাবৎকালে দুর্গাপুরের রাজনীতির সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। দুর্গাপুরের দাপুটে নেতা হিসেবে পরিচিত তথা তৃণমূল শ্রমিক সংগঠন (INTTUC)-র অবিসংবাদিত নেতা অশোক কুন্ডু-র তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে আচমকায় বিজেপিতে যোগদানের ঘটনা। শনিবারই নিজের দলের সাঙ্গপাঙ্গদের নিয়ে বিজেপি তথা গেরুয়া শিবিরে যোগ দেওয়ার পর থেকেই সরগরম দুর্গাপুরের রাজনীতি। বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তৃণমূল শ্রমিক নেতা অশোক কুন্ডুর বিজেপিতে যোগদানের খবর সামনে আসার পর থেকেই বিভিন্ন রকম মন্তব্য পরিবেশিত হতে শুরু করে। কিন্তু সমস্ত কিছুকে ছাপিয়ে শনিবার থেকে বড় ইস্যু হয়ে ওঠে অশোক কুন্ডু বনাম তৃণমূল জেলা সভাপতি জীতেন্দ্র তিওয়ারীর সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশ্য বিবাদ। বিজেপিতে যোগ দিয়ে অশোক কুন্ডু ও তাঁর নেতৃত্বে অন্যান্য দলত্যাগী কর্মীরা সময় অপচয় না করেই জীতেন্দ্র তিওয়ারিকে এক হাত নেয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। সদ্য জেলা সভাপতি পদে নির্বাচিত জীতেন্দ্র তিওয়ারিকে “বেইমান বিহারী” নামে প্রকাশ্যে কটাক্ষ করে সেখানেই থেমে না থেকে জীতেন্দ্র তিওয়ারীকে “তোলাবাজ” বলে আক্রমণ করে তৃণমূল ত্যাগী অশোক কুন্ডুর অনুগামীরা। তাদের অভিযোগ, গত বিধানসভা ভোটে পাণ্ডবেশ্বরে মেডিকেল কলেজ তথা নার্সিং কলেজ তৈরীর প্রস্তাব দিয়েছিলেন জীতেন্দ্র তিওয়ারী, অথচ তারপর কয়েক বছর কেটে গেলেও কলেজ তৈরী তো দূর অস্ত, স্বপ্নেও বাস্তবায়িত হয়নি সেই সেটি। তাদের আরও বিষাদগার, জীতেন্দ্র তিওয়ারীর আসানসোল জুড়ে তোলাবাজি, কাটমানি আদায়, সাংবাদিকদের উপর আক্রমণের অন্যতম কারিগর এবং গা-জোয়ারি মনোভাবের কারণেই লোকসভা ভোটে আসানসোলে ভরাডুবি হয়েছে তৃনমূল কংগ্রেসের। অশোক কুন্ডুর তৃণমূল কংগ্রেস ত্যাগ এবং জীতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে একের পর এক বিস্ফোরক মন্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই তা আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়ে। স্বভাবতই চুপ থাকেননি তৃণমূল কংগ্রেস তথা পশ্চিম বর্ধমান তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা সভপতি জীতেন্দ্র তিওয়ারি। বেআইনিভাবে কাটমানি আদায়, তোলাবাজি, সর্বোপরি “বেইমান বিহারী” হিসেবে কটাক্ষের একের পর এক বাউন্সার সামলে পাল্টা দিতে ছাড়লেন না জীতেন্দ্র তিওয়ারিও। তিনি জানালেন, চাকরির নাম করে বহু সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা টাকা কাটমানি আদায় করতেন মিশ্র ইস্পাত কারখানার শ্রমিক নেতা অশোক কুন্ডু ও তাঁর অনুগামীরা। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশের পর সেই আর্থিকভাবে প্রতারিত মানুষজন তাদের টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য আওয়াজ ওঠানোয় পিঠ বাঁচাতে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দিয়েছেন অশোক কুন্ডু ও তাঁর অনুগামীরা। এখানেই থেমে না থেকে জীতেন্দ্র তিওয়ারির হুঙ্কার, ওই সমস্ত প্রতারিত মানুষের টাকা অবিলম্বে ফেরত না দিলে অশোক কুন্ডু ও তাঁর অনুগামীদের বিজেপির বড় বড় রাঘব বোয়ালরাও আইনের হাত থেকে বাঁচাতে পারবেন না। আর শনিবার থেকে জেলার রাজনীতিতে এহেন দুই দাপুটে নেতার বিপরীতমুখী সম্মুখ সমরের উত্তাপ রবিবাসরীয় রাজনীতিতেও সহজেই অনুমেয়। উল্লেখ্য, শনিবার দলীয় অন্দরে একাধিক কারনের জেরে দুর্গাপুর ১ নং ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব। এদিন দুর্গাপুরের মেয়র দিলীপ অগাস্তি, জেলা সভাপতি জীতেন্দ্র তিওয়ারী এবং অন্যান্য মেয়র পারিষদদের সম্মতিক্রমে ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সাংবাদিকদের সামনে ঘোষণা করা হয় তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে। কমিটি গঠন না হওয়া পর্যন্ত দুর্গাপুর ১ নং ব্লকের দায়িত্বে দুজন কনভেনর এবং একজন অবজারভার নিয়োগ করা হয়েছে। অন্যদিকে ইতিমধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে গেরুয়া শিবিরে নাম লিখিয়েছেন প্রাক্তন শ্রমিক নেতা অশোক কুন্ডু। রাজনীতির এই উত্তর ও দক্ষিণমুখী লড়াইয়ের জের যেখানে শুরু হয়েছে তার শেষ কোথায় হয় আপাতত সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিকমহল।