প্রাচীন কলা কেন্দ্রের উদ্যোগে দুর্গাপুরে বিশাল সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার আয়োজন

0
1044

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যেমন আমাদের রুচি বদলেছে তেমনি বদল এসেছে সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রেও। সেই বিভিন্ন রকম আধুনিক গানের ক্ষেত্রেই হোক বা নাচের দিক থেকেই হোক। কিন্তু তাই বলে প্রাচীন সংস্কৃতি ভারতের সাংস্কৃতি ইতিহাস থেকে মুছে গেছে একথা ভাবার কোনও কারণ নেই। আধুনিক নৃত্য-গীতকে যেমন বর্তমান যুগ গ্রহণ সাদরে গ্রহণ করেছে, তেমনি প্রাচীন শাস্ত্রীয় সঙ্গীত ও প্রাচীন নৃত্যরীতিকেও (কুচিপুডি, ভারতনাট্যম, ওডিসি, কত্থক ইত্যাদি) আঁকড়ে ধরে রেখেছেন যুগে যুগে আগত শিল্পীরা। শুধু দেশ নয় দেশের গণ্ডী ছাড়িয়ে সমগ্র বিশ্বে সমাদৃত ভারতীয় প্রাচীন নৃত্য ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীত। তাই দুর্গাপুরবাসীকে আবারও সেই প্রাচীন নৃত্য ও শাস্ত্রীয় সঙ্গীতের নেশায় বুঁদ করতে উদ্যোগী হয়েছে প্রাচীন কলা কেন্দ্র। বহু বছর থেকে দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন জায়গায় ভারতীয় সংস্কৃতিকে বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পর এবার এই সংস্থা দুর্গাপুরের মানুষকে উপহার দিতে চান এক সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা। তাই আগামী ৭ই এপ্রিল দুর্গাপুরের স্টীল টাউনশিপের বি-জোনে বিধান ভবনে প্রাচীন কলা কেন্দ্রের তরফে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যেখানে তবলা, সেতার, নৃত্য পরিবেশনায় দুর্গাপুরবাসীকে মুগ্ধ করতে উপস্থিত থাকবেন বিশ্বখ্যাত একাধিক শিল্পী। প্রাচীন কলা কেন্দ্রের উদ্যোগে এই ধরণের অনুষ্ঠান এই প্রথম নয়। ১৯৫৬ সালে চন্ডীগড়ে প্রথম প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল প্রাচীন কলাকেন্দ্রের প্রথম শাখা। এরপর ধীরে ধীরে প্রাচীন কলাকেন্দ্র দেশ তথা বিশ্বজুড়ে তার শাখা-প্রশাখা বিস্তার করেছে। যেখানে শুধু শাস্ত্রীয় সঙ্গীত বা নৃত্যানুষ্ঠানের আয়োজন নয়, সেই সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ, গবেষণারও সুবিধা প্রদান করা হয়। চণ্ডীগড়ে প্রাচীন কলা কেন্দ্রর সদর দপ্তর ছাড়াপূর্বভারতের জন্য কলকাতায় এই সংস্থার জোনাল অফিস রয়েছে। পাশাপাশি ভারতীয় ক্লাসিক্যাল সঙ্গীত বিষয়ক কার্নেটিক মিউজিক(ভোকাল) বিষয়ে শিক্ষা এবং প্রশিক্ষণ প্রদানের জন্য ভুবনেশ্বর (ওড়িশা), পাটনা, (বিহার), জোড়হাটেও (আসাম) প্রাচীন কলা কেন্দ্রের শাখা অফিস রয়েছে। শুধু দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয় এই প্রাচীন কলা কেন্দ্র, বর্তমানে ভারত ছাড়াও কানাডা, সিঙ্গাপুর, মরিশাস, নেপাল, বাংলাদেশ, কুয়েত, সংযুক্ত আরব আমিশাহী, দক্ষিণ আফ্রিকা প্রভৃতি দেশ সহ বিভিন্ন দেশে প্রায় ৩৮০০টি অনুমোদিত কেন্দ্র রয়েছে। তাই দুর্গাপুরের সংস্কৃতি প্রিয় মানুষের জন্য এ এক সূবর্ণ সুযোগ। আগামী ৭ই এপ্রিল দুর্গাপুরের বি-জোনের এডিসন রোড সংলগ্ন বিধানভবনে সূরের মূর্ছনায় মোহিত হতে তৈরী হন।