দুর্গাপুরের নেতারা মুখে বাঘ মারেন, ব্যতিক্রমী মমতাময়ী ধৃতি ব্যানার্জী (জালান)

0
3334

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ পুরসভা ভোট হওয়ার পর বহু সময় অতিক্রান্ত হয়েছে। বর্তমানে চলছে লোকসভা ভোট অর্থাৎ দিল্লীর মসনদ দখলের লড়াই। দেশের বিভিন্ন রাজ্যের শাসক, বিরোধী সমস্ত দলের রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতি আর দলীয় স্লোগানে বর্তমান রাজ্য তথা দেশের রাজনৈতিক উত্তাপ যেন টেক্কা দিচ্ছে বৈশাখের তীব্র দাবদাহকেও। কিন্তু কোথাও গিয়ে সেই রাজনৈতিক নেতা-নেতৃত্বদের প্রতিশ্রুতি যেন গোত্তা খেয়ে পড়েছে বেয়াদপ ঘুড়ির মত, কারণ বর্তমানে রাজনৈতিক নেতাদের প্রতিশ্রুতির ঠেলায় সাধারণ মানুষের চিঁড়ে যেন ঠিক ভেজে না। যার অন্যতম কারণ হল, মিথ্যে প্রতিশ্রুতির চিরাচরিত প্রথা। যার বেড়াজালে আবদ্ধ এই দুর্গাপুরও। যেখানে পুরসভা ভোটের পর লোকসভা ভোটও শেষ, অপেক্ষা ২৩শে মে, ২০১৯ এর। কিন্তু দুর্গাপুরবাসী লোকসভা ভোটের থেকেও অনেকটাই বেশি নির্ভর করেন পুরসভা ভোটের ওপর। তারা এই আশাতেই বুক বাঁধেন, যে ভোটের আগে বিভিন্ন দলের রাজনৈতিক নেতারা যে প্রতিশ্রুতির ডালা নিয়ে তাদের কাছে ভোট ভিক্ষা করেন ভোটের শেষে সেই প্রতিশ্রুতি যেন তারা মনে রাখেন। কিন্তু আদপে তা হয়না, এবারেও হয়নি। পুরসভা ভোটের পর বছর ঘুরেছে, কিন্তু গোটা দুর্গাপুর জুড়ে হাজার হাজার মানুষের যে কষ্ট, অভাব তা দেখার জন্য পাওয়া যায় নি কোনও রাজনৈতিক নেতা বা নেতৃত্বদের। অথচ ভোটের আগে একাধিক তাবড় তাবড় নেতা-নেতৃত্বদের প্রতিশ্রুতির বাক্যবানে দম ফেলা মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছিল দুর্গাপুরবাসীর। কিন্তু কথাতেই আছে যার কেউ নেই তার ভগবান আছেন। এই প্রবাদ বাক্যকেই আজ দুর্গাপুরবাসীর কাছে সত্যের রূপ দিয়েছেন বর্তমানে দুর্গাপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডের দায়িত্বে থাকা মহিলা কাউন্সিলারগন। যাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন দুর্গাপুরের ৩ নং ওয়ার্ডের বর্তমান কাউন্সিলার ধৃতি ব্যানার্জী। কাউন্সিলার পদে আসার পর থেকেই সামনে থেকে নিজের ওয়ার্ড সামলেছেন তিনি। এলাকার মানুষের আপদে-বিপদে সবসময় ছুটে গেছেন। যার আরও এক জ্বলন্ত উদাহরণ আমাদের সামনে। লোকসভা ভোটের প্রচারে বেরিয়ে চাক্ষুস করেছিলেন অসহায় বৃদ্ধার ভেঙে পড়া ঘরের অবস্থা। মাথা গোঁজার ঠাই হারিয়ে অসহায় বৃদ্ধার করুণ অবস্থা দেখেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন কাউন্সিলার ধৃতি ব্যানার্জী। নির্বাচন কমিশনের কড়া নির্দেশ অনুযায়ী ভোটের আগে এলাকার উন্নয়নের কোনওরকম আর্থিক উন্নয়নে নিষেধাজ্ঞা থাকায় প্রাথমিকভাবে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন অসহায় বৃদ্ধাকে। এখানেই আর পাঁচজন নেতা-নেতৃত্বদের কাছে দৃষ্টান্ত তুলে ধরলেন ব্যতিক্রমী ধৃতি ব্যানার্জী। শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, ভোট পেরোতেই নিজের কাউন্সিলার হিসেবে প্রাপ্য ভাতার টাকা খরচ করে অসহায় বৃদ্ধার জন্য ঘর নির্মাণ করে দুর্গাপুরের নেতা ও অন্যান্য কাউন্সিলারদের কাছে আলাদা বার্তা তুলে ধরলেন কাউন্সিলার ধৃতি ব্যানার্জী (জালান)। শুধু এই বৃদ্ধার ক্ষেত্রেই নয়, এর আগেও বহুবার সম্পূর্ন নিজের উদ্যোগে এবং নিজ খরচায় একাধিক মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি। একইভাবে দুর্গাপুরেরই আরও এক মহিলা কাউন্সিলারেরও নাম না করলেই নয়, তিনি হলেন মণি দাশগুপ্ত। কাউন্সিলার ধৃতি ব্যানার্জীর মতোই বিভিন্ন সময়ে কিংবা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বিশেষ করে মহিলাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনিও। তাহলে দুর্গাপুরের বুকে একটা ছবি স্বভাবতই খুবই পরিষ্কার, তা হল, প্রতিশ্রুতির ফিরিস্তিতে দুর্গাপুরের একাধিক নেতা-নেতৃত্ব প্রথম সারিতে থাকলেও এলাকার উন্নয়নে তাৎপর্যপূর্ণভাবে অনেকটাই এগিয়ে দুর্গাপুরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে এই মুহূর্তে দায়িত্বে থাকা আদি শক্তি অর্থাৎ মহিলা কাউন্সিলাররাই। তাহলে কী, দুর্গাপুরের বাকি ওয়ার্ডের সাধারণ মানুষরাও পরবর্তী পুরসভা ভোটে নিজেদের ওয়ার্ডে মহিলা কাউন্সিলারদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা ভাবছেন? প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।