কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের গড়িমসিতে অন্ধকারে দুর্গাপুরের আইন কলেজের পড়ুয়াদের ভবিষ্যত, ছাত্র বিক্ষোভ

0
2497

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ অনুমোদনহীন বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন চিহ্ন দিল বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া। প্রায় ১০০০ জন আইনী পড়ুয়ার ভবিষ্যত অথৈ জলে। ঘটনা দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন বেসরকারি আইন কলেজের। প্রতিবাদে সোমবার কলেজ গেটের বাইরে বিক্ষোভ আইনী পড়ুয়াদের। তাদের অভিযোগ, কলেজের বাইরে বিশাল ব্যানারে বড় বড় করে লেখা রয়েছে যে এই আইন কলেজ বার কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়ার অনুমোদন প্রাপ্ত। আর এই বিজ্ঞাপন দেখিয়েই প্রত্যেক বছর কলেজে আইন বিষয় নিয়ে পড়তে আসা পড়ুয়াদের ভর্তিও নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আদপে বর্তমানে এই কলেজ বিসিআই-এর অনুমোদন প্রাপ্ত নয়। তাদের অভিযোগ, লক্ষ লক্ষ টাকা ভর্তি বাবদ পড়ুয়াদের কাছ থেকে নিয়েছে কলেজ কর্তৃপক্ষ, অথচ কোর্সের মাঝপথে তারা আজ জানতে পারছে কলেজের কোনও বৈধতাই নেই। ফলে ৩ বছরের আইনের কোর্স এবং ৫ বছরের কর্পোরেট আইনের কোর্সের পড়ুয়া মিলে বর্তমানে যে এক হাজার পড়ুয়া ওই কলেজে পড়াশোনা করছে ২০১৯ সালের মধ্যে কলেজের বৈধ বিসিআই অনুমোদন না মিললে তাদের ভবিষ্যত প্রশ্নের মুখে পড়বে। কারণ বার কাউন্সিলের অনুমোদনহীন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় ও ওই কলেজ থেকে পাশ করলেও তারা বৈধ আইনজীবীর স্বীকৃতি পাবে না।

যদিও কলেজ কর্তৃপক্ষ পড়ুয়াদের এই দাবী মানতে নারাজ। তাদের বক্তব্য, ২০১৫ সাল পর্যন্ত এই আইন কলেজ বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকাকালীন বিসিআই অনুমোদন প্রাপ্ত ছিল। সেই অর্থে দুর্গাপুরের এই আইনী কলেজ এখনও বিসিআই অনুমোদিত। কিন্তু ২০১৫ সালে আসানসোলে কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী হওয়ার পর গান্ধীমোড়ের এই বেসরকারী কলেজ কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন হওয়ার পর থেকেই এই সমস্যা দেখা দিয়েছে। কারণ প্রায় চার বছর হতে চললেও এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এখনও অনুমোদন মেলে নি। দুর্গাপুরের আইন কলেজ কর্তৃপক্ষের দাবী দিল্লির বার কাউন্সিলের বারবার আবেদন করা সত্বেও বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে কোনও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না। বলে সাফাই কলেজ কতৃপক্ষের। আর বার কাউন্সিল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের এই টানাপোড়েনে অন্ধকারে প্রায় এক হাজারেরও বেশী কলেজ পড়ুয়ার ভবিষ্যত। তাদের বক্তব্য, যখন কাজী নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়েরই কোনও অনুমোদন নেই তখন তাঁর নিয়ন্ত্রনাধীন কলেজ থেকে পাশ করে তাদের কোনও লাভ নেই। বরং ২০১৯ সালে কোর্স শেষ হয়ে যাওয়ার পর তাদের ভবিষ্যৎ প্রশ্ন চিহ্নের মুখে র‍য়ে গেল বলে ক্ষোভ কলেজ পড়ুয়াদের।

বিশেষ দ্রষ্টব্যঃ কিছু নতুন তথ্য সংযোজন হওয়ার কারণে এবং পাঠকদের সঠিক তথ্য পরিবেশন করতে আমরা আমাদের প্রতিবেদনটি পরিবর্তন করতে বাধ্য হলাম। এই অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য আমরা ক্ষমাপ্রার্থী।