হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের চিকিৎসক ডঃ সৌগত লাহিড়ীর বিরুদ্ধে ভুল চিকিৎসায় শিশু মৃত্যুর অভিযোগ, দেখুন ভিডিওতে

0
20740

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ ফের নির্মতার নজির গড়লো দুর্গাপুরের গান্ধীমোড় সংলগ্ন বেসরকারী হাসপাতাল হেলথ ওয়ার্ল্ড। চিকিৎসার গাফিলতিতে মৃত শিশুর পরিবারের মুখ বন্ধ করতে দু লক্ষ টাকা ধার্য করার অভিযোগ উঠল ওই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে। শুনে গায়ে কাঁটা দিলেও এমনই চরম অমানবিকতার সাক্ষী থাকল দুর্গাপুরবাসী। ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবারের। দুর্গাপুর-১ এর নেতাজী নগরের বাসিন্দা শান্তনু ভট্টাচার্য ও ভাগ্যশ্রী ভট্টাচার্য তাদের আড়াই বছরের কন্য সন্তানের জ্বর নিয়ে হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালে নিয়ে আসেন চিকিৎসার জন্য। তারা ডঃ রহমানের কাছে চিকিৎসা করানোর জন্য দাবি জানালেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ডঃ রহমান সেইমুহূর্তে নেই বলে শিশু বিশেষজ্ঞ ডঃ সৌগত লাহিড়ীকে দেখানোর পরামর্শ দিলে মেয়ের শারীরিক অবস্থার কথা ভেবে তখনই রাজি হয়ে যান তারা। মৃতার পরিবারের দাবি, সেইমতো শিশুটিকে দেখার পর ডঃ লাহিড়ি তাদেরকে জানান, জ্বরের জন্য বেশ কিছু পরীক্ষা করতে হবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষ্মমতা কমে যাওয়ায় হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন বলে তিনি। দুবছরের ওই শিশুর মা ভাগ্যশ্রী দেবী কান্না জড়ানো গলায় জানালেন, মেয়ে হেঁটে হেঁটে হাসপাতালের লিফটে চেপে ওয়ার্ডে ভর্তি হতে গেছিল, কিন্তু চিকিৎসক সৌগত লাহিড়ী সম্পূর্ণ ভুল চিকিৎসায় মেয়েটার জীবন শেষ করে দিল। তিনি জানান, রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট হাতে পাওয়ার আগেই শিশুটিকে একের পর এক সোয়াইন ফ্লু-র অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ও ইনজেকশন দিচ্ছিল চিকিৎসক, এমনকি শিশুটি স্বাভাবিক ভাবে টয়লেট করার জন্য মাকে জানালেও তাকে ক্যাথিটার পড়ানো হয়েছিল বলে দাবী করেছেন ভাগ্যশ্রী দেবী। সদ্য সন্তানহারা শোকাহত মায়ের আকুল আর্তনাদ ভিডিওতে রইল আমাদের পাঠকদের জন্য।

পরিবারের বক্তব্য, শিশুটির রোগ আসলে কী হয়েছে তা ধরতেই পারেন নি ওই চিকিৎসক তাসত্বেও একের পর এক ওষুধ প্রয়োগ করায় ওই ছোট্ট শিশুটি সহ্য করতে না পেরে তা শরীরে ক্ষত পর্যন্ত হয়ে গিয়েছিল। যে চিকিৎসকদের ভগবান জ্ঞানে পুজো করে সাধারণ মানুষ ও রোগীরা সেই চিকিৎসকদের এহেন অমানবিকতা কী করে মেনে নেওয়া যায়? সাংবাদিকদের ক্যামেরার সামনেই সন্তানহারা মা ভাগ্যশ্রী দেবী বার বার জ্ঞান হারাতে হারাতেই জানালেন, মেয়েটার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলেও সেই চিকিৎসককে বার বার ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তিনি বন্ধুর বাবার শ্রাদ্ধ বাড়ির নেমন্তন্ন খেতে ব্যস্ত ছিলেন! সোমবার শিশুটির শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের লোকদের জানানো হয় শিশুটিকে ভেন্টিলেশনে শিফট করা হয়েছে। মেয়ের সুস্থতা কামনা করে কোনও প্রশ্নই করেননি শিশুর মা-বাবা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের একের পর এক দাবি ও বিল মিটিয়ে গেছেন তারা। কিন্তু মঙ্গলবার সকালে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। শিশুর মৃত্যুর খবর জানাজানি হতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন রোগীর পরিজনেরা। অভিযুক্ত ডঃ সৌগত লাহিড়ীকে ডেকে পাঠানোর জন্য বলা হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাদের কথায় কোনোরকম কর্ণপাত করেনি বলে অভিযোগ। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের এক আধিকারিককে ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, তার উত্তর ছিল রীতিমতো হাস্যকর। তাই সমস্ত পাঠকদের জন্য রইল সেই আধিকারিকের বক্তব্যের ভিডিও।

শুধু তাই নয়, ঘটনা ধামাচাপা দিতে রোগীর পরিবারের সদস্যদের ঠান্ডা ঘরে ডেকে রোগীর বিল মকুব ও শিশুটির মৃত্যু হওয়ায় পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয় বলে অভিযোগ জানিয়েছেন সাংবাদিকদের সামনে মৃত শিশুর এক আত্মীয়। পাঠকের জ্ঞাতার্থে রইল সেই বক্তব্যের ভিডিও।

ভাবা যায়? এক মা যখন কোলের একমাত্র সন্তানের ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর শোকে বার বার হাসপাতালে বসেই জ্ঞান হারাচ্ছেন তখন সেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ নিজেদের গাফিলতি ঢাকতে মৃত শিশুর জন্য ক্ষতিপূরণ ধার্য করছে ২ লক্ষ টাকা। কোথায় এসে পৌঁছেছি আমরা? একোন মানবিকতার খেলা খেলছি আমরা? যেই হাসপাতালে মানুষ আসে নিজের পরিবারের মানুষগুলিকে সুস্থ করে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আসে সেই হাসপাতালে তাদের প্রিয়জনের নিথর দেহ ফেরত নিয়ে যাওয়ার জন্য আজ হাসপাতাল কতৃপক্ষের সঙ্গে দর কষাকষিতে বসতে হচ্ছে স্বজনহারাদের। তাহলে তো হাসপাতাল নাম পরিবর্তন করে দিয়ে এইসব হাসপাতালের নামের পাশে ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান লিখে দেওয়া ভালো নয় কি? তাহলে এই সদ্য সন্তানহারা মা-বাবারাও তাদের প্রিয়জনকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসার আগে দশবার ভাববেন যে এইসমস্ত হাসপাতালে মানুষের জীবন রক্ষার বদলে তাদের জীবনের দরদাম ঠিক করার অঙ্কটাও খুব যত্ন সহকারে শেখানো হয়। কিন্তু তা তো করার উপায় নেই। তাহলে এত বিশাল হাসপাতালের চাকচিক্য বজায় থাকবে কী করে? কী করেই বা ভরবে মরণাপন্ন রোগীকে ফেলে রেখে শ্রাদ্ধ বাড়িতে নিমন্ত্রণ রক্ষা করতে যাওয়া চিকিৎসকদের পকেট? তাই এই ধারায় চলবে। কোনও সাধারণ মানুষ নিজের স্বজন হারালে আবার হাসপাতালের দিকে আঙুল তুলবে, আবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দাড়িপাল্লায় মেপে মৃতের মূল্য নির্ধারন করে ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে দেবে। কথাতেই তো আছে জোর যার, মুলুক তার। এইসমস্ত বিত্তবান মানুষদের সঙ্গে সাধারণ মানুষ কীভাবে পেরে উঠবে? তা জানা নেই।