ফের দুর্গাপুরের শ্যুটআউটের অপেক্ষা

0
1446

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ ফের দুর্গাপুরের গুন্ডা ও দাদাগিরির অভিযোগ। আবারও শ্যুটআউটের অপেক্ষায় শিল্পশহর। এবারের অভিযোগ, দুর্গাপুরের ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা হীরা বাউরীর বিরুদ্ধে, প্রকাশ্যে হুমকি, তোলাবাজি, গালিগালাজ ও গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ। জানা গেছে, দুর্গাপুরের গান্ধীমোড়ে অবস্থিত হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের সামনে অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা দিয়ে আসছেন বেশ কয়েকজন গাড়ি চালক। তাদের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরে স্থানীয় ফরিদপুর এলাকার বাসিন্দা হীরা বাউরী ও তার সঙ্গী বিপ্লবের উপস্থিতিতে কয়েকজন দুস্কৃতি তাদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করছে। শুধু তাই নয়। গত রবিবার তাদের দাদাগিরির সীমা চরমে পৌঁছায়। হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা বেশ কয়েকটি অ্যাম্বুলেন্সে ব্যাপক ভাঙচুর ও গাড়ি চালকদের বেধড়ক মারধরের অভিযোগ উঠেছে হীরা বাউরীর বিরুদ্ধে। স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ, গত ১০ই ফেব্রুয়ারি হীরা বাউরী ও তার দলবল WB-67A-9251 এই নম্বরের একটি বাইরের অ্যাম্বুলেন্স গাড়ি হেলথ ওয়ার্ল্ড হাসপাতালের সামনে নিয়ে আসে। এরপর তাদের হুমকি দিয়ে ওই অ্যাম্বুলেন্স স্ট্যান্ড থেকে সমস্ত গাড়ি সরিয়ে নেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ। ঘটনায় সরাসরি ফরিদপুর নিবাসী হীরা বাউরীর বিরুদ্ধে আঙুল তুলেছেন অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। রীতিমতো প্রাননাশের আশঙ্কায় ভুগছেন তারা। কেউ কেউ ভয়ে ওই স্ট্যান্ড থেকে তাদের গাড়িও সরিয়ে নিয়েছে। ঘটনায় দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র ও মহকুমা শাসকের কাছে একটি স্মারকলিপি জমা দিয়েছেন ওই অ্যাম্বুলেন্স চালকেরা। যেখানে পরিষ্কার ভাষায় তারা লিখে দিয়েছেন, ভবিষ্যতে তাদের অ্যাম্বুলেন্স কিংবা কোনও চালকের শারীরিক ক্ষতি কিংবা প্রাননাশের পরিস্থিতি তৈরী হয় তার জন্য সম্পূর্ণ দায়ী থাকবে হীরা বাউরী, বিপ্লব ও তার অনুগামীরা। অ্যাম্বুলেন্স চালকদের অভিযোগ হাতে পৌঁছাতেই দ্রুত বিষয়টিকে গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করেছেন দুর্গাপুর পুরসভার মেয়র দিলীপ অগস্তি। যত দ্রুত সম্ভব দুস্কৃতিদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি। কিন্তু তাসত্ত্বেও আতঙ্ক কাটছে না ওই বেসরকারী হাসপাতালের পাশে থাকা অ্যাম্বুলেন্স চালকদের। যেকোনো সময় হামলার আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন তারা। ভয়ে ওই স্ট্যান্ডে গাড়ি দাঁড় করাতেও সাহস পাচ্ছেন না তারা। এরকম পরিস্থিতিতে শহরের নিরাপত্তা ও পরিবেশে স্থিতি বজায় রাখতে প্রশাসন কী উদ্যোগ নেয় সেদিকেই আপাতত তাকিয়ে দুর্গাপুরবাসী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here