এই বাংলায়-র খবরের জের, তৃণমূল জেলা সভাপতি ও দুর্গাপুর ইস্কন কর্তৃপক্ষের যৌথ সাংবাদিক বৈঠক

0
1595

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ চ্যানেল এই বাংলায়-র খবরের জের। নিজেদের ভুল স্বীকার করে সোমবার দুর্গাপুর ইস্কন মন্দিরে যৌথ সাংবাদিক সম্মেলন করল দুর্গাপুর তৃণমূল জেলা সভাপতি ও দুর্গাপুর ইস্কন মন্দির কর্তৃপক্ষ। গত ২রা ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের নেহেরু স্টেডিয়ামে বিজেপির রাজনৈতিক জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন দুর্গাপুর ইস্কন মন্দিরের প্রধান মহারাজ সহ বেশ কয়েকজন সাধু-সন্ত। সেইসময় উৎসুক হয়েই চ্যানেল এই বাংলায়-র সম্পাদক তাঁদের ছবি সংগ্রহ করেছিলেন। শুধু তাই নয়, এক রাজনৈতিক জনসভায় তাঁদের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন করলে তাঁরা জানিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রীকে দেখতেই তাঁরা উপস্থিত হয়েছেন। সেই ঘটনা সামনে আসতেই দুর্গাপুর তথা গোটা দেশ জুড়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। এমনকি এই খবর পরিবেশন করায় এই বাংলায় নিউজ পোর্টাল কোনও এক রাজনৈতিক দলের তাবেদারী করে বলেও কটাক্ষ করা হয়েছিল। এই ঘটনার জল গড়ায় গত শুক্রবার দুর্গাপুরের সিটিসেন্টারে তৃণমূল কংগ্রেসের এক প্রতিবাদ সমাবেশেও। সেখানে এই বাংলা-র ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে দুর্গাপুরের ইস্কন মন্দিরের সেবায়িতদের বিরুদ্ধে তীব্র ক্ষোভ ও কটাক্ষ উগড়ে দিয়েছিলেন পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি উত্তম মুখার্জী। তাঁর সেই বক্তব্যসহ একাধিক খবর চ্যানেল এই বাংলায় প্রকাশের পর দুর্গাপুর তথা গোটা দেশজুড়ে সোশ্যাল সাইটে প্রতিবাদ, পাল্টা প্রতিবাদ শুরু হয়। যার জেরে একপ্রকার ব্যাপক চাপে পড়ে যায় দুর্গাপুর ইস্কন কর্তৃপক্ষ। ঘটনার তীব্রতা আঁচ করে সোমবার সকালে দুর্গাপুর ইস্কন মন্দিরেই যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনের ডাক দেয় তৃণমূল জেলা সভাপতি ও দুর্গাপুর ইস্কন কর্তৃপক্ষ। সেখানে করজোড়ে গত ২রা ফেব্রুয়ারির ঘটনার ক্ষমা চাওয়ার পাশাপাশি ইস্কন মন্দিরের প্রধান অভুধার্য চন্দ্র দাস ব্রহ্মচারী মহারাজ জানান, গত ২রা ফেব্রুয়ারি বিজেপির রাজনৈতিক জনসভায় তাঁদের যোগ দেওয়া মোটেও ঠিক হয় নি, সেই ঘটনায় তাঁরা সমস্ত অনুগামী ও ভক্তদের কাছে ক্ষ্মাপ্রার্থী। তিনি আরও জানান, আবেগপ্রবণ হয়েই এবং ঘটনার গভীরতা যাচাই না করেই সেইদিন তাঁরা বিজেপি তথা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভায় যোগ দিয়েছিলেন।

পাশাপাশি, ইস্কন মন্দিরের সাধু-সন্তদের প্রতি কুমন্তব্য প্রসঙ্গে জেলা সভাপতি উত্তম মুখার্জী জানান, নিজের মন্তব্যে তিনি দুঃখিত ও মর্মাহত। ইস্কন মন্দির ও সেখানকার সমস্ত সেবায়িত গঙ্গা জলের মতো পবিত্র। ইস্কন মন্দিরের সেবায়িতদের একমাত্র উদ্দেশ্য হল ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামগান আর ভগবদগীতার প্রচার। সেইসঙ্গে যেহেতু এই বাংলায় ওয়েব পোর্টালেই এই খবর সর্বপ্রথম প্রকাশিত হয়েছিল, তাই আমাদের সম্পাদকের কাছে ইস্কন মন্দিরের তরফে জনগণের কাছে সঠিক বার্তা পৌঁছানোর আবেদন জানানো হয়। কাকতালীয় হলেও, সেদিন ইস্কন মন্দিরের সেবায়িতদের বিরুদ্ধে খবর প্রকাশের পর বিভিন্ন মাধ্যম থেকে এই বাংলায় ওয়েব পোর্টালকে কালীমা লিপ্ত করার অপচেষ্টা করা হয়েছিল। কিন্তু সপ্তাহ ঘুরতেই সেই ওয়েব পোর্টালেই দুর্গাপুর তথা দেশের মানুষের কাছে নিজেদের ভুলের ক্ষমা চাইলেন ইস্কন মন্দির ও তৃণমূল জেলা সভাপতি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের কর্তৃপক্ষ। সেইসঙ্গে ফের প্রমাণিত হল, এই বাংলায় কোনও রাজনৈতিক দলের তাবেদারী করে না, কিংবা কোনও ধর্মকে নীচ করার মতো নোংরা কাজে লিপ্ত থাকে না। প্রথম দিন থেকেই আমরা ঘটনার সত্যতাকে পাঠকের কাছে তুলে ধরার চেষ্টা করে এসেছি। সোমবারের ঘটনা আবারও তা প্রমাণ করল। ভবিষ্যতেও এই বাংলায় সত্যের সন্ধানে, সত্যকে জনসমক্ষে তুলে ধরার কাজে এগিয়ে যাবে। চ্যানেল এই বাংলায় কখনোই কারোর ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত করে না, ভবিষ্যতেও করবে না। সংবাদমাধ্যমের দায়িত্ব হিসেবে যেকোনো খবর তুলে ধরাই আমাদের প্রধান উদ্দেশ্য। আর সেই তাগিদেই গত শুক্রবার এই খবর প্রকাশিত হয়েছিল এই বাংলায় ওয়েব পোর্টালে। আমরা সবসময় সমস্ত মানুষের ধর্মকে সমান সম্মান জানিয়ে আমাদের পাঠকদের কাছে অনুরোধ করব তাঁরা যেন ইস্কনকে শুধুমাত্র একটি কৃষ্ণনাম প্রচার সংস্থা হিসেবেই শ্রদ্ধা করেন এবং তাঁদের সাথে কৃষ্ণনামের সাথে ঐক্যবদ্ধ হতে পারেন। সত্যমেব জয়তে……।