তোলাবাজির জেরে দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে সিভিক পুলিশকে গণপ্রহার উত্তেজিত জনতার, দেখুন ভিডিও

0
28143

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ রাস্তায় গাড়ি আটকে সিভিক পুলিশের তোলাবাজির অভিযোগকে কেন্দ্র করে সোমবার সকালে রণক্ষেত্রের চেহার নিল দুর্গাপুরের বেনাচিতি বাজার এলাকা। জানা গেছে, সোমবার ময়না থেকে দুর্গাপুর বেনাচিতি ঘোষ মার্কেটের মাছ বাজারে মাছ বোঝাই করে একটি গাড়ি মুচিপাড়া হয়ে আসছিল। অভিযোগ, সেইসময় নিউটাউনশিপ থানার একটি পুলিশের গাড়িতে কয়েকজন সিভিক পুলিশ এবং ওই গাড়ির চালক মাছের গাড়িটিকে দাঁড় করায়। এরপর পুলিশের গাড়ি থেকে দুজন সিভিক পুলিশ নেমে ওই মাছের গাড়ির চালকের কাছ থেকে ৫০০ টাকা দাবি করা হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু মাছের গাড়ির চালক টাকা দিতে অস্বীকার করে গাড়ি নিয়ে সোজা বেনাচিতি ঘোষ মার্কেটে চলে এলে নিউ টাউনশিপ থানার ওই পুলিশ গাড়িটিও তাদের পিছু নেয় এবং বেনাচিতি বাজারে পৌঁছাতেই মাছের গাড়ির চালককে গাড়ি থেকে নামিয়ে দুই সিভিক পুলিশ তাকে বেধড়ক মারধর শুরু করে। এরপরেই ঘোষ মার্কেট এলাকার ব্যবসায়ীরা ঘটনাস্থলে ছুটে যান। সিভিক পুলিশের তোলাবাজি এবং গাড়ি চালককে বেধড়ক মারধরের ঘটনা জানাজানি হতেও উত্তেজিত জনতা ওই দুই সিভিক পুলিশকে ধরে ভরা বাজারেই বেধড়ক মার শুরু করে। তাদের পকেট থেকে বেরিয়ে আসে একের পর এক ১০০, ২০০ ও ৫০০ টাকার নোট। জনতার এলোপাথারি মারের জেরে জখম হয় দুই সিভিক পুলিশ ও পুলিশের গাড়ির চালক। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় এ-জোন ফাঁড়িতে খবর গেলে বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত দুই সিভিক পুলিশকে জনতার রোষ থেকে উদ্ধার করে। আহত মাছের গাড়ির চালক সুধাংশু মণ্ডলের অবস্থাও গুরুতর। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সম্পূর্ণ ঘটনায় শিল্পশহরের বুকে ফের সিভিক পুলিশের তোলাবাজি ও দাদাগিরির ছবি সামনে এসেছে। এই ঘটনায় প্রথম নয় এর আগেও সিভিক পুলিশদের নামে শ্লীলতাহানি, ছিনতাই, দাদাগিরি, এবং সর্বোপরি রাস্তায় গাড়ি দাঁড় করিয়ে জুলুমপূর্বক তোলাবাজির মতো নানান অভিযোগ জমা পড়েছে বিভিন্ন থানায়। কিন্তু তাসত্বেও কোনোভাবেই দাপট কমছে না এই সিভিক ভলেন্টিয়ারদের। রাস্তার মোড়ে মোড়ে সিভিক পুলিশ অফিসার বা কোনও থানার উচ্চপদস্থ আধিকারিক সহ সিভিক ভলেন্টিয়াররা গাড়ির কাগজ পরীক্ষা করতে গেলেও সবার আগে সিভিক পুলিশ এবং পুলিশের গাড়ির চালকদের হম্বিতম্বি থাকে চোখে পড়ার মতো। পুলিশ আধিকারিকদের সামনেই বিভিন্ন গাড়ি দাঁড় করিয়ে তোলাবাজির ছবি বারবার প্রকাশ্যে এসেছে। কিন্তু কোন ক্ষমতা বলে সাধারণ সিভিক ভলেন্টিয়ার হয়ে নিজেদেরকে “দাবাং পুলিশ” ভেবে শহরের বুকে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে এইসমস্ত সিভিক ভলেন্টিয়াররা তা শহরবাসীর অজানা।