জীবনের শেষ সম্বলটুকু নিঙড়ে আজও ওরা কাজ করে

0
657

এই বাংলায়, দুর্গাপুরঃ সকালে ব্যস্ততার মাঝে গলায় এক ঢোঁক না দিতে পারলে সবকিছুই বৃথা। সারাদিনের যাওয়া-আসার মাঝে এই তৃপ্তির চুমুকটুকুই বাড়তি অক্সিজেন জোগায়। আধুনিকতার মোড়কে পরিবেশিত সেই ভালোবাসা তৃপ্তি আনে ঠিকই,কিন্তু তাতে অপূর্ণতা থেকে যায় পূর্ণ রূপেই। মাটির মাঝে যে আবেগ রয়েছে,তা আর অন্য কোথায় পাওয়া জেতে পারে? ভোর চারটে বাজতে না বাজতেই তাই সাজো সাজো রব। না,তথাকথিত আলোকমণ্ডলী পরিবেষ্টিত হয়ে নয়, গ্রামবাংলার গন্ধমেখে মাটির সাথে।যখন সবাই স্নিগ্ধ ভোরের স্বপ্নে মশগুল, তখন ওরা ব্যস্ত আগামীর স্বপ্নে। কাগজ, প্লাস্টিকের এই জমানায় যে প্রচেষ্টা হয়েছিল এদের অপাংক্তেয় করে রাখার, তার বিরুদ্ধেই এদের লড়াই। এরা কাজ করে আমাদের কাজ শুরু হওয়ার অনেক আগে থেকে। মাটির সোঁদা সোঁদা গন্ধে মশগুল হয়ে এককাপ চা যখন সারাদিনের কাজ করার শক্তি দান করে,তখনই এরা পাই এদের পরিশ্রমের সার্থকতা। এক জন শিল্পী সারাদিনে কয়েক হাজার এই অমৃত পাত্র তথা মাটির ভাঁড় তৈরী করে। আজও এই ধারা বজায় রাখার প্রচেষ্টাই চোখে পড়ল দুর্গাপুরে। বাসস্ট্যাণ্ডের কাছেই নিষ্ঠার সাথে তারা কাজ করে চলেছেন প্রতিনিয়ত। গ্রাহকের কমতি নেই, তবু সম্পত্তি বলতে রয়েছে শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁইটুকুই। বাজারের সাথে প্রতিযোগিতায় টিকতে গিয়ে শেষ পুঁজিটুকু সম্বল করে এরা এক অন্য স্বাধীনতার লড়াই করছে। আমি ও আমার ভাই দেবাংশু যখন এনার কাছে পৌঁছালাম, চওড়া হাসি মুখে নিয়েই ইনি নিমগ্ন থাকলেন নিজের কাজে।কিছু পড়েই রোদ উঠলে সব শুকোতে দিতে হবে, অর্ডারের ঝক্কি সামাল দিতে হবে। খুব সামান্য মজুরিতেই এই কাজ করে চলেছেন কতকটা প্রয়োজনে ও কতকটা ভালোবাসায়। শত প্রতিকূলতা সত্ত্বেও তাই আজও এই ভাঁড়ের চাহিদা অমলিন। পরিবেশবান্ধব ব্যবস্থাপনায় সামিল হওয়ার প্রচেষ্টায় মানুষ তাই আবারও মাটির কাছে হাত পেতেছে। দেবাংশু ফটোগ্রাফিতে সেই ভাবনায় তুলে ধরার প্রচেষ্টা করেছে।গ্রাম হোক বা শহর এদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টা ছাড়া যে এই কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়, তা বলাই বাহুল্য। চায়ের আড্ডায় রাজনীতি,খেলা, কূটকচালি প্রিয় বাঙালী আজ এদের কথাও ভাবুক, ভালোবাঁচার সিস্টেম গড়ে তুলুক, এইটুকুই আশা রাখলাম।
প্রতিবেদনঃ দীপাঞ্জন দাস
ফোটোগ্রাফিঃ দেবাংশু ঘোষ