অনুমোদনহীন মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরির অভিযোগ দুর্গাপুরের পূবালী আবাসনের বিরুদ্ধে

0
1715

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ দুর্গাপুরের বিধাননগরে অবস্থিত পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরি করে তা ব্যাবসায়িক কাজে ব্যবহারের অভিযোগ। জানা গেছে, ৮০-র দশকে দুর্গাপুরের বিধাননগরের বাসিন্দাদের কথা ভেবে দুর্গাপুর-আসানসোল ডেভেলপমেন্ট অথরিটির তরফে পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভকে সাধারনের বসবাসের জন্য জমি প্রদান করা হয়েছিল। এরপর সেখানে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে পূবালী হাউজিং কমপ্লেক্স বর্তমানে বহু পরিবার বসবাস করছেন সেখানে। কিন্তু গত বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালের নভেম্বর মাসে বিধানগরের ভাস্করাচার্য সরণীর এক বাসিন্দা অশোক কুমার সাহা এডিডিএ-র কাছে ও দুর্গাপুর পুরসভার কাছে এই মর্মে একটি RTI করেন। দুর্গাপুর পুরসভার পক্ষ থেকে সেই RTI-এর কোনও উত্তর না এলেও এডিডিএর পক্ষ থেকে উত্তর এসেছে যথাসময়ে। যেখানে তিনি জানতে চেয়েছিলেন নিম্নলিখিত প্রশ্নের উত্তর। ১। এডিডিএ প্রদত্ত গৃহ লিজের জমি হাউজিং কো-অপারেটিভ ব্যবসায়িক কাজে ব্যবহার করতে পারে কিনা?
২। বিধাননগর পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভের জমিটি বাসস্থান না ব্যবসায়িক প্রয়োজনের জন্য লিজ দেওয়া হয়েছিল?
৩। কোনও হাউজিং কো-অপারেটিভ কোন কোন উদ্দেশ্যে জমি ব্যবহার করতে পারে?
৪। পূবালী হাউজিং কো- অপারেটিভকে এখন পার্ক, খেলার মাঠ বা মার্কেট কমপ্লেক্সের জন্য জমি বরাদ্দ করা হয়েছে কিনা?

এইসব প্রশ্নের উত্তরে গত ৭ই ডিসেম্বর, ২০১৬ তারিখে এডিডিএ-র পক্ষ থেকে স্টেট পাবলিক ইনফরমেশন অফিসার লিখিত আকারে জানিয়ে দেন,
এক নম্বর ও দুনম্বর প্রশ্নের উত্তরে একই কথা জানানো হয় যা,
১,২। এডিডিএ-র রেকর্ড ও তথ্য অনুযায়ী বহু বছর আগে শুধু মাত্র সাধারণ মানুষের বসবাসের জন্য পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। কোনও ব্যবসায়িক কাজে জমি ব্যবহার করার কোনও অনুমতি এডিডিএ-র তরফে দেওয়া হয়নি।
৩। পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভকে পাট্টা হিসেবে এডিডিএ-র তরফে ওই জমি প্রদান করা হয়েছিল এবং তা Lease deed-এ পরিষ্কার উল্লিখিত আছে।
৪। এডিডিএর রেকর্ড ও তথ্য অনুসারে বিধাননগরের পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভকে শুধুমাত্র বসবাস করার জন্যই জমি প্রদান করা হয়েছিল।

এইসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার পর স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে, তাহলে কী করে পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভ তাদের আবাসিক জমিতে মার্কেট কমপ্লেক্স করে ব্যবসা করছেন? কোনও বৈধ অনুমতি ছাড়াই কী করে এই মার্কেট কমপ্লেক্স গড়ে উঠল? কী করেই বা ওই জমির ওপরে ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করার জন্য ট্রেড লাইসেন্স পেলেন দুর্গাপুর পুরসভার তরফে? তবে একটা কথা পুরসভার তরফ থেকে পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, ওই পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভের অবৈধ মার্কেট কমপ্লেক্সের জন্য কোনও বিল্ডিং প্ল্যান অনুমোদন হয়নি পুরসভা থেকে। এইসব প্রশ্নের উত্তর নিয়ে যখন আমরা হাজির হই দুর্গাপুর পুরসভা কর্তৃপক্ষের কাছে তখন তারা জানান, তারা ব্যাপারটির উপরে একটি তদন্ত শুরু করেছেন এবং খুব তাড়াতাড়ি তার রিপোর্ট মেয়রকে হস্তান্তর করা হবে। এর আগেও কিছুদিন আগে একটি বিখ্যাত ইলেক্ট্রনিক্স সংস্থার বেআইনি নির্মাণ করে ব্যবসা চালানোর অভিযোগে দুর্গাপুর পুরসভার পক্ষ থেকে মোটা টাকার জরিমানা করা হয়। তাহলে পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভকে জরিমানা করা হবে না কেন? বা ওই অবৈধ নির্মানগুলি ভেঙে ফেলা হবে না কেন সেই প্রশ্নই খুঁজছে শহরবাসী। কয়েকবছর পেছনে গেলে জানা যাবে, যে দুর্গাপুর পুরসভার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক কস্তূরী দুর্গাপুরের ঝান্ডাবাগ এলাকার একটি নির্মীয়মান G+5 বাড়ির ষষ্ঠ তলাকে অবৈধভাবে তৈরী করার জন্য ভেঙে ফেলেছিলেন এবং তা এখনও ওই এলাকায় গেলে দেখতে পাওয়া যাবে। তাহলে প্রশ্ন ওঠে কী করে দুর্গাপুরের আইনরক্ষক মাননীয় মেয়র মহাশয় এখনও চুপ করে আছেন? একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে আমরা জানতে পেরেছি দুর্গাপুর পুরসভায় নিত্য আনাগোনা করা বিশেষ দুই ব্যক্তি এই অবৈধ মার্কেট কমপ্লেক্স নির্মানে মদত দিয়েছেন বলে অভিযোগ দুর্গাপুরবাসীর। এইসব বিষয় নিয়ে পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভের এক কর্ণধার শ্রী দীপঙ্কর দে-কে প্রশ্ন করা হলে তিনি জানান, পুরো ব্যাপারটাই দুর্গাপুরের এডিডিএ-র আওতাভুক্ত এবং তিনি আমাদের সাংবাদিককে অনুরোধ করেন এডিডিএ-র সঙ্গে এই সংক্রান্ত ব্যাপারে জরুরী প্রশ্নের উত্তর জেনে নিতে। এত কিছু প্রশ্নের পর যখন এটা জলের মতো পরিষ্কার যে পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভ বেআইনিভাবে ওই মার্কেট কমপ্লেক্সটি তৈরী করেছে তখন RTI করা ওই ব্যক্তি অশোক কুমার সাহা এডিডিএকে পাল্টা চিঠি দিয়ে তৎক্ষনাত ওই পূবালী হাউজিং কো-অপারেটিভের ভেতরে গড়ে ওঠা বেআইনি মার্কেট কমপ্লেক্স ভেঙে দেওয়ার আবেদন জানান। এখন দেখার এডিডিএ ও দুর্গাপুর পুরসভা এই বেআইনি মার্কেট কমপ্লেক্স তৈরীর বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ গ্রহণ করে।