”ধন্যি তোমার ইংরেজি জ্ঞান, বাংলায় ফিরে এসো” – পরিবহণদফতর

0
1407

নিজস্ব প্রতিনিধি, দুর্গাপুরঃ স্মার্টসিটি তালিকার অন্তর্ভুক্ত হয়েও দুর্গাপুর শহর যে এখনও স্মার্টসিটি হয়ে উঠতে পারে নি একথা দুর্গাপুরবাসী মাত্রই জানেন। কিন্তু গত কয়েক বছরে শহর দুর্গাপুরের জলছবি যে অনেকটাই পাল্টেছে একথা অস্বীকার করার সাহস বোধহয় কেউ দেখাবেন না। রাজ্যে পালাবদলের পর নতুন সরকারের হাত ধরে দুর্গাপুরের ব্যাপক আধুনিকীকরণও ঘটেছে। রাস্তা-ঘাট, ঝলমলে আলো, গ্রিন সিটি প্রকল্পের রূপায়ন থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, হাসপাতাল পরিকাঠামোই সমস্ত খাতেই আধুনিকীকরন হয়েছে। কিন্তু এত কিছু হয়েও কোথাও যেন থেকে গেছে নজরদারির অভাব। আর এই নজরদারির অভাবেই সম্প্রতি লজ্জায় মাথা হেট হল পরিবহন দফতরের। ঘটনা হল, গত কয়েকদিন যাবৎ দুর্গাপুর শহরের বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ড ও গুরুত্বপূর্ণ রুটে রাস্তার পাশে পাশে সেই এলাকার নামের স্ট্যান্ড বসানোর কাজ চলছে। এখানেই ঘটেছে বিপত্তি। সেপকো বাসস্ট্যান্ড, নন-কম্পানি, কবিগুরু সহ একাধিক জায়গার নামকরণের বানানে অজস্র ভুল। কোথাও সেপকো-র নামের বানান লেখা হয়েছে “স্পেকো” আবার নন-কম্পানি হয়েছে “নো এন কোম্পানি”। রাস্তার ধারে এভাবে এলাকার নামাঙ্কিত স্ট্যান্ডগুলি অবস্থান করায় তা প্রচন্ড দৃষ্টিকটু হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু সবথেকে আশ্চর্যের বিষয় হল, এই ভুলগুলি পরিবহণ দফতরের কাছে তুলে ধরা হলে তাদের সাফাই এই সমস্ত বোর্ডগুলি কলকাতা থেকে তৈরী হয়ে এসেছে। তার মানে এই ভুলের কোনও দায়ভার পরিবহণদফতরের নেই? অবশ্যই আছে, কারন যদি ধরে নেওয়া যায় এই সমস্ত বোর্ডগুলি কলকাতা থেকেই তৈরী হয়ে এসেছে তাহলে এগুলি স্থাপনের আগে কেন নামের বানানগুলি যাচাই করা হল না? এর কোনও উত্তর কী পরিবহন দফতর দিতে পারবে? বোধহয় পারবে না। কারণ দুর্গাপুর শহরের আধুনিকীকরণ হচ্ছে ঠিকই কিন্তু এর রক্ষনাবেক্ষণ ও সর্বোপরি নজরদারির জন্য কোনও পরিকল্পনা প্রশাসনের নেই। পাশাপাশি এই বানান বিভ্রান্তির ঘটনা আরও একবার প্রশ্ন তুলে দিয়ে গেল বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিষয়কেও। বিভিন্ন জায়গার ইংরেজি বানান নিয়ে যখন বিভ্রান্তি থেকেই যাচ্ছে তাহলে কেন এই সমস্ত ক্ষেত্রে বাংলা ভাষাকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে না? এখানেও পরিবহন দফতরের কাছে প্রশ্ন, শুধুমাত্র “স্ট্যাটাস মেইনটেইন” করতে গিয়ে ভুলে ভরা ইংরেজি নামের বানান দিয়ে এলাকার নামকরনের কোনও যৌক্তিকতা রয়েছে কি? তার থেকে শুদ্ধ বাংলা ভাষা ব্যবহারে যেমন বানানে স্বচ্ছতা আসবে তেমনি বাংলাভাষা ব্যবহারের ক্ষেত্রে যে অনীহা আমাদের রয়েছে তারও ইতি ঘটবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here