দুর্গাপুরে ১০ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলারের নেতৃত্বে হামলার অভিযোগ বিজেপির

0
1510

নিউজ ডেস্ক, এই বাংলায়ঃ লোকসভা নির্বাচন শেষ হলেও কিছুতেই থামছে না রাজ্যে তৃণমূল বনাম বিজেপি দ্বন্দ্ব। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে লোকসভা ভোটের পরবর্তী সময়ে একের পর এক সংঘর্ষের ঘটনা সামনে এসেছে। এবার সেই তালিকায় আরও এক বার জুড়লো দুর্গাপুরের নাম। গত কয়েকদিন আগে দুর্গাপুরের হস্টেল এভনিউ এলাকায় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষের ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়েছিল শিল্পশহর। সেখানে আসানসোলের মেয়র জীতেন্দ্র তিওয়ারির বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ তুলেছিল বিজেপি। এবার সেই ঘটনার কয়েকদিনের ব্যবধানে ফের দুর্গাপুরে বিজেপি-তৃণমূল রাজনৈতিক সংঘর্ষের ঘটনা প্রকাশ্যে এল। এবার দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপি কর্মীদের ওপর মারধরের অভিযোগ উঠল দুর্গাপুরের ১০ নং ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর রাজীব ঘোষের বিরুদ্ধে। ঘটনার সূত্রপাত বুধবার রাতে। দুর্গাপুর ষ্টীল টাউনশিপ এলাকার জে সি বোস রোড বস্তি এলাকায় বিজেপি-তৃণমূল সংঘর্ষে দুপক্ষেরই মোট পাঁচজনের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। বিজেপির অভিযোগ, নির্বাচনের আগে থেকেই এলাকার যুবকদের বিজেপিতে যোগ দেওয়ার জেরে প্রায় শাসকদলের তরফে শাসানো হচ্ছিল। সুনীল রাম নামে এক যুবক লোকসভা ভোটে বিজেপির বুথ এজেন্ট হওয়ায় তার ওপরে শাসকদলের ক্ষোভ দেখা দিয়েছিল। অভিযোগ, বুধবার রাতে কাউন্সিলার রাজীব ঘোষের নেতৃত্বে তাঁর গাড়ি চালক ভীম মুখিয়া বেশ কিছু তৃণমূল সমর্থিত যুবক জে সি বোস রোড বস্তির বাসিন্দা সুনীল রাম ও এলাকার বেশ কিছু বিজেপি সমর্থকের বাড়িতে অতর্কিতে হামলা চালায়। সুনীল রামকে বেধড়ক মারধর করতে শুরু করলে সুনীলের মা উর্মিলা দেবী ছেলেকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গেলে উর্মিলা দেবীর মাথাতেও কিছু দিয়ে আঘাত করলে মাথা ফেটে যায় তার। বর্তমানে তিনি দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তিনি ছাড়াও আরও এক বিজেপি সমর্থক আজয় পাসোয়ান হামলায় আহত হয়েছেন বলে বিজেপি সূত্রে খবর। অন্যদিকে বিজেপি কর্মীদের উপর হামলার খবর পেয়ে অন্য বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা পাল্টা হামলা চালালে তাদের মারে মাথা ফাটে কাউন্সিলার রাজীব ঘোষের গাড়ি চালক ভীম মুখিয়া। বিজেপির অভিযোগ, কাউন্সিলার দাঁড়িয়ে থেকে বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে ঢুকে হামলার নেতৃত্ব দিয়েছেন। যদিও বিজেপির এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন ১০ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলার রাজীব ঘোষ। তাঁর বক্তব্য, পাশাপাশি বাড়িতে গালিগালাজ করাকে কেন্দ্র করে অশান্তির সূত্রপাত, কিন্তু সেই অশান্তিকেই রাজনৈতিক সংঘর্ষ বলে রং দেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, দুই বাড়ির মধ্যে গালাগালি দেওয়াকে কেন্দ্র করে অশান্তি ক্রমে সংঘর্ষের রূপ নেয়।